দুর্নীতি ইস্যুতে অস্থিতিশীল বুলগেরিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : দুর্নীতির দায়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন বুলগেরিয়ার প্রেসিডেণ্ট এবং প্রধানমন্ত্রী। ৯ জুলাই রাষ্ট্রপতি রুমেন রাডেভের কার্যালয়ে অভিযান চালায় বুলগেরিয়ার সশস্ত্র পুলিশ৷ অভিযানে রাষ্ট্রপতি রাডেভের আইনি কার্যকলাপের পাশাপাশি খুঁটিয়ে দেখা হয় তাঁর দুর্নীতিদমনবিষয়ক সচিব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকেও৷ দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয় তাদের। ধারণা করা হচ্ছে দেশের সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে এ অভিযান চালানো হয়ে থাকতে পারে৷ ফলে ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়ায়র রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই অস্থিতিশীল। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ভেতর থেকে আইন বহির্ভূতভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং রাষ্ট্রের গোপন তথ্যপাচার সংক্রান্ত দুটি তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। কিন্তু রাডেভের সমর্থকরা মনে করেন, এই অভিযান আসলে বুলগেরিয়ায় দুর্নীতি বিষয়ে মূল তদন্তগুলি থেকে নজর সরানোর কৌশলমাত্র৷ তাদের মতে, বুলগেরিয়ার রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী এমন বেশ কিছু মানুষের দিক থেকে নজর সরাতেই এই অভিযান৷ তারা উল্টো প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ তুলেন। ৯ জুলাই অভিযানের পর কয়েক হাজার মানুষ রাজধানী সোফিয়ার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন৷ মূল তদন্তকারী ইভান গেশেভের বিরুদ্ধেও তাদের ক্ষোভ ছিল লক্ষ্যণীয়৷ রাষ্ট্রপতি রাডেভও বিক্ষোভে যোগ দেন৷ সেখানে তিনিও তুলে ধরেন সরকারের মধ্যে থাকা চক্রান্তকারী ‘মাফিয়া’দের সংশ্লিষ্টতার কথা৷ এর উত্তরে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অভিযানটি কোনো ‘রাজনৈতিক চালের’ অংশ নয়৷ এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানের লক্ষ্য রাষ্ট্রপতিই হন বা কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, তদন্ত চলছে তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে, কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিণতির তোয়াক্কা না করেই৷’ ২০১৫ সালে বুলগেরিয়ান সমাজতান্ত্রিক দলের সমর্থনে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি রাডেভ৷ বিপরীতে রয়েছে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভ ও তাঁর কনজারভেটিভ মন্ত্রিসভা, যারা বারবার রাডেভের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন৷ ২০১৯ সালে, চলমান তদন্তের মূল তদন্তকারী পুলিশকর্তা ইভান গেশেভের নিযুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন রাডেভ৷ বলেছিলেন, শক্ত হাতে দুর্নীতি দমন করতে পারবেন না গেশেভ৷ বর্তমানে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বুলগেরিয়ার নাম উঠে এসেছে ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার তালিকায়৷ বুলগেরিয়া বলকান পেনিসুলার পূর্ব পার্শ্বে ইউরোপ এবং এশিয়ার ঐতিহাসিক সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। ডেমোক্র্যাটিক এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির পথে রূপান্তর বুলগেরিয়ার জন্য প্রথম দিকে সুখপ্রদ হয়নি। কমিউনিস্ট সরকারের পতন এবং সোভিয়েত বাজারে বুলগেরিয়ান পণ্যের বিলোপ ঘটায় দেশটির অর্থনীতির প্রবল সংকোচন ঘটে। মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের ঊর্ধ্বগতি, অবারিত দুর্নীতি এবং সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটায় জীবনযাত্রার মানের চরম পতন ঘটে। অনেক বুলগেরিয়ান দেশ ছেড়ে চলে যান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..