রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি স্কপের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাই এবং দেশে ও প্রবাসে কর্মরত শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের বর্তমান অবস্থাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছে স্কপভূক্ত সকল সংগঠন। গত ৫ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টায় তাহের মিলনায়তনে হওয়া সভার শুরুতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত শ্রমজীবী মানুষ এবং আব্দুল মুকিত খান, জাফরুল হাসান, আবুল কালামসহ এই সময়কালে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিক নেতৃবৃন্দের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, পাটকল আধুনিকায়ন ও কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি অব্যাহত রেখে পাটকলকে লাভজনক করার যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিলো আমরা আশা করেছিলাম তা নিয়ে নীতি নির্ধারক মহলে আলোচনা হবে। কিন্তু দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম এই ধরনের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্কপের সাথে আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ টিসিসি বৈঠক ছাড়াই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিন্দা করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, এক সময়ে এই দেশের মানুষের দাবির প্রেক্ষাপটে উৎপাদিত পাটকে ভিত্তি করে একের পর এক পাটকল গড়ে উঠেছিল। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার এটিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প হিসাবে ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রের যথাযথ পরিচালনার পলিসিগত দুর্বলতা মাথাভারি আমলাতান্ত্রিক প্রশাসন এবং লুটপাট ও অনিয়মের কারণে এই শিল্পে সংকট দেখা দিলে সেই সংকট দূর করার বদলে অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলে আইএমএফ ও বিশ্ব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে প্রথমে ব্যক্তিমালিকানায় কিছু মিল হস্তান্তর এবং পরবর্তীতে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধ করে দেশীয় কাঁচামালের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জাতীয় শিল্প পাটকল বন্ধ ও বিক্রির যাত্রা শুরু হয়। অতীতে ওই ঘটনার সমালোচনা করা হলেও অতীত থেকে বর্তমান সময়েও ওই একই নীতিনির্দেশনা মেনে চলা হয়েছে। ফলে লোকসানের বৃত্ত থেকে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো বেরিয়ে আসতে পারেনি। এই ভুল নীতি ও দুর্নীতিকে আড়াল করে পরিকল্পিত ভাবেই এই মিলগুলোকে চূড়ান্ত ভাবে বন্ধ ও ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কপ নেতৃবৃন্দ সুনির্দিষ্ট ভাবে দেখিয়ে দিয়েছিলেন কিভাবে পাটকলগুলোকে আধুনিক ও লাভজনক করা যায়। নেতৃবৃন্দ তাই স্কপের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মালিকানায় মিলসমূহ আধুনিকায়নের বিষয় পূনঃবিবেচনার জোর দাবি জানান। স্কপের সভায় সর্বসম্মতভাবে পাটকল বন্ধের বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকারকে আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাতিষ্ঠানিক অপ্রতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ও কর্মহীন শ্রমিক ও শ্রমজীবীদের সুরক্ষা , শ্রমিক ছাঁটাই, লে-অফ, কারখানা বন্ধ ও বিদেশ থেকে ফিরে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন জীবিকার প্রশ্নসহ সামগ্রিক বিষয়ে স্কপের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও বক্তব্যসহ জরুরি দাবি সুনির্দিষ্ট করে জাতীয়ভিত্তিক শ্রমিক আন্দোলনের আশু কর্মসূচী প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্কপ নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা দুর্যোগে দেশের উৎপাদনের প্রধান চালিকা শক্তি শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো যখন রাষ্ট্রের কর্তব্য তখন শ্রমিক ছাঁটাইয়ের যে কোন সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলবে। নেতৃবৃন্দ পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বর্তমান সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহবান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..