সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের ছাত্র রাজনীতি : পরিণতি ও দায়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
জি. কে. সাদিক : বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এখন ইতিহাসের ধুলোর আস্তরে ঢাকা। খুনের রাজনীতির প্রলেপে ছাত্র রাজনীতির সোনালী অতীত ঢেকে গেছে। কিন্তু তাকে মুছে ফেলা যাবে না। সে ইতিহাস আমাদের যা কিছু মহান অর্জন তার সাথে লেগে আছে। আমরা ইতিহাসের সন্তান, অতীতের গর্ভেই জন্ম বর্তমানের। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি অতীতের সেই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের সন্তান বলে আর দাবি করা যায় না। এখন ছাত্র রাজনীতি বা ক্যাম্পাস রাজনীতি বললেই চোখের সামনে ভাসে হল দখল, বিরোধী পক্ষকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়ন, টেন্ডার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলাগুলি, পিটিয়ে হত্যা, রামদা-চাপাতি হাতে স্লোগানরত উন্মত্ত যুবক। ‘বড় ভাই’ বা দলের বড় নেতার মন পেতে যা ইচ্ছে তা-ই করা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলে সিট দেয়ার বিনিময়ে জিম্মি করে দলীয় মিছিল-মিটিং, ভাইয়ের নামে স্লোগান, নেতার স্তুতি গাওয়াতে বাধ্য করা। সহমত বৈ ভিন্নমত করলে দলবদ্ধ হয়ে রাতভর নির্যাতন কিংবা পিটিয়ে হত্যা করা। বিরোধী মত হলেই গায়ে ট্যাগ লাগিয়ে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা, প্রশাসনকে চাপ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করানো। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতা মানে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে, টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া। দলবদ্ধ হয়ে নেতার নামে ক্যাম্পাস কাঁপিয়ে স্লোগান দিতে দিতে বাইক রেইস করা। হলের ডাইনিং বা ক্যান্টিনে ‘ফাউ’ খাওয়া। টাকা চাইলে উল্টো মার দেয়া। এসব এখন আমাদের শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সেজন্য এখন আর মেধাবী ছাত্ররা রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গর্ভন্যান্স স্টাডিজ এর জরিপ মতে, তরুণ প্রজন্মের ৮০ শতাংশ এখন ছাত্র রাজনীতিকেই ঘৃণা করে। যে গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা আমরা ইতিহাসের পাতা থেকে জানি সেখানে ছাত্র রাজনীতি মানে ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার, দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্তিম টান, কৃষক-শ্রেমিক-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের একাত্ম হওয়া। মেধাবী শিক্ষার্থীরাই তখন ছিল ছাত্র রাজনীতির প্রাণ। কিন্তু এখন সেটা ধুলোয় চাপা পড়া ইতিহাসের পাতা। তবে এতোকিছুর মধ্যেও ছাত্র রাজনীতিতে নীতি-আদর্শে অটল থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে কাজ করছে যাচ্ছে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো। সমাজ-প্রগতির স্বপ্ন দেখা এই ছাত্র আন্দোলনের ধারাটি দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসবৃত্তির খোলা ময়দানের পাশ দিয়ে নালার মতো বয়ে চলছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে হত্যার রাজনীতি শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। ৪ এপ্রিল রাতে সূর্য সেন হলে ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীদের ব্রাশফায়ারে সাতজন ছাত্র প্রাণ হারায়। হত্যাকারী ও নিহত দুপক্ষই ছাত্রলীগের। কেবল গ্রুপিং স্বার্থে এমন ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞ। সেই যে শুরু আর থামেনি। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৫১ জন শিক্ষার্থী নানা কারণে বিভিন্নভাবে খুন হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ জন করে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন করে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন করে খুন হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মম পরিহাস হচ্ছে, এগুলোর কোনটারই ঠিক মতো বিচার হয়নি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শাসনামলেই ২৪ শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হয়েছে। যাদের অধিকাংশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগের শাসনামলে কেবল চবিতেই ৮টি খুনের ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে সবচে আলোচিত হচ্ছে ২০১৬ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও হয়নি। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে নানা জোর-ঝামেলার পর মামলাটি এখন পিআইবির তদন্তে রয়েছে। দেশের প্রথম কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে- ঢাবি, রাবি, জাবি, চবি সন্ত্রাস-হত্যা ও দখলদারিত্বের রাজনীতির চর্চা ক্ষমতাসীন দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের হাত ধরেই শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে এই অপরাজনীতি দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে প্রতিষ্ঠা পায়। হত্যা-সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি কতটা খতরনাক সেটা দেশের মানুষই দেখছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা ক্ষমতাসীন দলগুলো কখনই আন্তরিকতার সাথে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো এই রাজনীতি থেকেই তারা ফায়দা লুটেছে। যে দল যখন ক্ষমতায় এসেছে তাদের ছাত্র সংগঠনই ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে ভিন্ন মতের সংগঠনগুলোকে ক্যাম্পাস থেকে বিড়াতন করেছে। ফলে ক্রমান্বয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ক্যাম্পাসে সহমত ছাড়া ভিন্নমত পেলেই তাকে মারা নিয়মে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের দেশের জাতীয় রাজনীতিতে মূল দলগুলোর যে চরিত্র তারই বহিঃপ্রকাশ। এমন অসহিষ্ণু ও ভিন্নমতের সাথে অস্ত্রের ভাষায় কথা বলার সাম্প্রতিক পরিণতি আমরা দেখেছি গত ৬ অক্টোবর (২০১৯) বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ফেসবুকের পোস্ট নিয়ে পিটিয়ে হত্যার মতো নির্মমতায়। ২০১১ সালেও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ৫১ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমানকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় পিটিয়ে হত্যা করে। সে হত্যা মামলার ১২ আসামি ইতোমধ্যে বেকসুর খালাসও পেয়েছে। এমন নির্মমতার দৃষ্টান্ত ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিত্য ঘটনা। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাবি, রাবি, চবি ও ইবিতে ছাত্র শিবিরের রাজনৈতিক তাণ্ডবের ইতিহাস সর্বজন বিদিত। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ছাত্র শিবিরও ঘাঁটি তৈরি করতে শুরু করে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হত্যা-সন্ত্রাসের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা আসে। এসব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে মূলত ক্যাম্পাসগুলোতে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে। অর্থ-স্বার্থ, ক্ষমতা ও অস্ত্রের রাজনীতির তোড়ে যেমন দেশে বামপন্থি প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চা ব্যাহত হয়েছে তেমনিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব ও অস্ত্রের রাজনীতির মুখে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির চর্চা ব্যাহত হয়েছে। আর এই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হয়েছে মূলত ক্ষমতাসীন মূল রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যেন শিক্ষার্থীরা তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আগের মতো আন্দোলন করতে না পারে এই লক্ষ্য নিয়ে। আমরা যদিও দেখেছি স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়েও দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জোটবদ্ধ হয়ে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু করেছে। যেমন অতীতেও আইয়ূব বিরোধী আন্দোলন হয়েছে। এরশাদের পতনের পর যখন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তারা রাজনৈতিক চরিত্রগত কারণেরই গণতান্ত্রিকপন্থা চ্যুত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আবার ছাত্রদের আন্দোলন শুরু হবে এই ভয় থেকেই আদর্শিক ছাত্র রাজনীতির বদলে শক্তির রাজনীতির প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করে। মূলত এই যে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সম্ভাব্যতা এটা ধ্বংস করতেই ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্য বিস্তারের খেলা পুরোদমে শুরু হয়। যার বর্তমান পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। ২০০১ সালে যখন বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসে তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসের রাজনীতি অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করে। সরকার চাপের মুখে ও ইমেজ রক্ষা করতে সে সময়ে ছাত্রদলের সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুকে গ্রেফতার করে। এটা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের রাজনীতি বন্ধের জন্য ছিল না। বলা যায় সীমিত আকারে চলতে দেয়া। সে সময় ছাত্রদলের পাশাপাশি বিএনপির জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের ভয়ঙ্কর তাণ্ডবও চলে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। চবি, রাবি, জাবি, ইবির মতো প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রদল আর ছাত্র শিবিরের ত্রাসের ভয়াবহতা দেখেছে। প্রগতিশীল রাজনীতি ও সংস্কৃতির টুটি চেপে ধরার দশা করেছিল। এখন তারা ক্ষমতায় নেই। যে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল এখন সেটা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের দখলে। তারা যে সন্ত্রাস-খুন, হলগুলোতে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে ভিন্নমতকে ক্যাম্পাস ছাড়া করেছিল বর্তমানে গণেশ উল্টে গিয়ে এখন তারা আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার। এই যে শিক্ষাঙ্গনে দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন-হত্যার রাজনীতি এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চা বিলুপ্ত হয়েছে অন্যদিকে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি কোণঠাসা হয়েছে। এর পুরো সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলো। তারা এখন গোপনে থেকে নির্দ্বিধায় তাদের অপরাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের কর্ম অব্যাহত রেখেছে। কারণ ছাত্রলীগের রাজনীতি এখন আর মেধা দিয়ে চলে না। আগে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতো বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে- প্রধানত ছাত্র ইউনিয়ন। একটা সময় পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ছাত্রদলের সাথে। যাদের মধ্যে মেধার রাজনৈতিক চর্চা বলে কিছু নেই। এখন ছাত্রলীগ নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ। এবং তাদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনৈতিক চর্চা নেই। ফলে ছাত্র রাজনীতি এখন মেধাশূন্য, অস্ত্রে পূর্ণ। ছাত্রলীগ যখন ছাত্র ইউনিয়ন বা অপরাপর বামপন্থি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতো তখন তাদেরকে টিকে থাকার জন্য হলেও পড়াশোনা করতে হতো, মেধার চর্চা করতে হতো। কিন্তু এখন আর সেটার প্রয়োজন নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে আগের মতো সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা নেই, প্রগতিশীল সংস্কৃতির চর্চায় দারুণ ভাটা। ফলে শিক্ষাঙ্গনে গোপনে সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল মনস্তত্ত্ব ব্যাপক আকার ধারণ করছে। কারণ প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক ছাত্র রাজনৈতিক দল ইসলামী ছাত্র শিবিরি গোপনে থেকেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাবি, রাবি, চবি ও ইবি থেকে ছাত্র শিবির প্রকাশ্যে চলে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক শক্তি জোরদার হয়নি। বুয়েটে আবরার হত্যার পর সংবাদমাধ্যমের তথ্য থেকে জেনেছি যে, সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতি চলমান থাকলেও সেখান থেকেই ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির মতো নেতৃত্বও বের হয়ে এসেছে। এটা শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি না থাকলে সম্ভব নয়। অপর দিকে বুয়েটে ছাত্রলীগের মারমুখী অবস্থানের ফলেই ছাত্র ইউনিয়ন বা অন্যান্য বামপন্থি ছাত্র সংগঠনও তেমন সুবিধা করতে পারেনি। একই অবস্থা ঢাবি, রাবি, চবি বা ইবির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। এই যে ছাত্র রাজনীতিতে দখলদারিত্ব, হত্যা-সন্ত্রাসের রমরমা দশা এর প্রত্যক্ষ ফল আমরা দেখছি যে, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতিই নিষিদ্ধ চাচ্ছে। কিন্তু এর ফলে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। এর ফলে গোপনে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা থাকবেই। ক্ষতির সম্মুখীন হবে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি। শত হতাশার মাঝেও আশার প্রদ্বীপ একেবারে নিভে যায়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের রাজনৈতিক অপকর্মে পৃষ্ট হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুক্তির পথ সন্ধান করছে। বলতে গেলে অপজিশন মুক্ত ছাত্রলীগের দখলে থাকা ক্যাম্পাসে ছাত্র ইউনিয়ন বা অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের জন্য সুবর্ণ সুযোগ সে স্থান দখলে নেয়ার। এটা সফল হবে কি না সেটা বলে দিবে বামপন্থি সংগঠনগুলো কতটা নিজেকে/নিজেদেরকে শিক্ষার্থীদের কাছে নিয়ে যেতে পারে সেটার ওপর। লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক, কুষ্টিয়া

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..