নীল নদের পানি নিয়ে ঐকমত্য

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : নীল নদের পানি এবং প্রবাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল মিসর-সুদান-ইথিওপিয়ার মধ্যে। এর আগে নীল নদের ওপর বিশাল জল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাঁধ তৈরি নিয়ে মিশর এবং ইথিওপিয়ার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে নীল নদের উৎস নদী ব্লু নীলে ২০১১ সালে বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করে ইথিওপিয়া, যেখান থেকে নীল নদের ৮৫ শতাংশ পানি প্রবাহিত হয়। বিরোধের মাত্রা এতই বিরূপ আকার ধারণ করে যে অনেকের আশঙ্কা এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও শুরু হয়ে যেতে পারে। দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিকরণে ১৫ জানুয়ারি থেকে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় মধ্যস্ততা বৈঠকের উদ্যোগ শুরু হয়। যার ফলশ্রুতিতে নীল নদের পানি ব্যবহারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে মিসর, ইথিওপিয়া আর সুদান। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশগুলোর মধ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা সেই বিরোধের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, নীল নদ ও গ্র্যান্ড রেনেসান্স বাঁধ ‘আফ্রিকার ইস্যু আর এর সমাধান অবশ্যই আফ্রিকা থেকে আসবে’ বলে এই তিনটি দেশ একমত হয়েছে। 'ব্লু নাইল ড্যাম' নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশগুলোর মধ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা সেই বিরোধের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্বেত নদ ও নীলাভ নদ নামের দুই উপ-নদী সুদানের রাজধানী খার্তুমের কাছে মিলিত হয়ে নীল নদ নামে প্রবাহিত হয়েছে। সুদান থেকে মিসরের ভিতর দিয়ে নদটি ভূমধ্যসাগরে গিয়ে পড়েছে। নীলাভ নদে ইথপিয়া বাধ দেয়ার উদ্যোগ নেয়। মিশর আশংকা করে ইথপিয়া নদীটির পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। চারশ’ কোটি ডলারের এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি থেকে ছয় হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে এবং এ প্রকল্পটি তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে জানিয়ে আসছে ইথিওপিয়া। অপরদিকে নীল নদ মিসরের প্রয়োজনীয় মিঠা পানির ৯০ শতাংশের জোগান দেয়। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন নদীর পানি সরিয়ে ফেলে না তবে এর ফলে নদীটির স্রোত প্রবাহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..