দক্ষিণ চীন সাগর উত্তপ্ত হচ্ছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : চীন সাগরে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে বেইজিং। দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় গত ১ জুলাই শুরু হওয়া চীনের এ সামরিক মহড়া ৫ জুলাই শেষ হয়। কিন্তু বিরোধপূর্ণ এই অঞ্চলে চীনের সামরিক মহড়ার বিপরীতে সেখানে দুটি যুদ্ধজাহাজবাহী রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বর্তমানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিত। গত সপ্তাহে চীন ঘোষণা করে যে, ১লা জুলাই থেকে প্যারাসেল আইল্যান্ডের কাছে তাদের ৫ দিনের মহড়া শুরু হচ্ছে। প্যারাসেল আইল্যান্ডের মালিকানা দাবি করে আসছে ভিয়েতনাম ও চীন উভয়েই। ফলে চীনের ওই মহড়ার কড়া সমালোচনা করেছে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশে চীনের বিদ্যমান সামরিক মহড়াকে উসকানিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনা মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। এরপরই তারা রণতরী পাঠায় দক্ষিণ চীন সাগরে। আর দক্ষিণ চীন সাগরে অন্য কারও উপস্থিতি হবে চীনের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো বলে মনে করে বেইজিং। তাই ২০১৭ সালের পরে তাদের অবস্থান আবার মুখোমুখি হতে চলেছে। এছাড়া হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বর্তমানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। হংকং ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করেছে চীন। এ নিয়ে উত্তপ্ত হোয়াইট হাউজ। চীনের যেসব কর্মকর্তা হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনে যুক্ত, তাদের সঙ্গে যেসব ব্যাংক লেনদেন করবে তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ প্রস্তাব এরই মধ্যে পাস হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। এর পাল্টা হুমকি দিয়েছে চীন। ফলে ধারণা করা হচ্ছে চীনের উপর চাপ বৃদ্ধি করতেই এই বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগর এর অংশ। এই সাগরের চারিপাশে অবস্থিত দেশগুলি হল চীন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন্স, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে ফলে এই সাগর ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে গূরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। পুরো সমুদ্রপথকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে চীন। তবে আরও কয়েকটি দেশও ওই অঞ্চলের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলের দাবি না করলেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হিসেবে ওই অঞ্চলে অযাচিতভাবে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় তারা। মূলত চীনের বিরুদ্ধে বাড়তি চাপ সৃষ্টিতে এবং ওই অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েমেই তারা সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের সাথে বিরোধে জড়িয়ে থাকে। গত ৩৫ বছরে এই অঞ্চলে ১৬ বার যুক্তরাষ্ট্র রণতরি কার্ল ভিনসন মোতেয়েন করেছে। সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে অসংখ্যবার। চীন তাদের বিরুদ্ধে ঐ অঞ্চলের পরিস্থিত উত্তপ্ত করার অভিযোগ করেছে বার বার। গত বছর ফেব্রুয়ারিতেও এই অঞ্চলে প্রায় যুদ্ধের দামামা বেজেছিল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..