স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িত সবার বিচার করতে হবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : স্বাস্থ্য খাতকে যতক্ষণ দুর্নীতি মুক্ত না করা যাবে ততোদিন এ খাতে বাজেট বৃদ্ধি করে কোনো সুফল আসবে না। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিবাজদের বিল বন্ধ করে দেওয়াটাই সমাধান নয়। বরং দুর্নীতিবাজদের বিচার করাটাই মূখ্য বিষয়। তাই দুর্নীতির প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তার সঙ্গে জড়িত সবার বিচার করতে হবে। ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর উদ্যোগে গত ৩ জুলাই, শুক্রবার সকাল ১১টায়, æকরোনা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় বাজেট ঃ বর্তমান প্রেক্ষাপট ও করণীয়” বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক ডা. এইচ এম ফারুকী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং করোনা বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপল’স হেলথের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার, করোনা বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. চন্দন কান্তি দাস, অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার, ডা. একেএম আরিফ উদ্দিন আহমেদ, ডা. রোকেয়া খাতুন, ডা. আব্দুল আজিজ প্রমূখ। অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যসবার সচেতনতা ছাড়া এ মুহূর্তে কোনো বিকল্প নেই। ঈদের পরে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিবাজদের বিল বন্ধ করে দেওয়াটাই সমাধান নয়। দুর্নীতিবাজদের বিচার করাটাই মূখ্য বিষয়। স্বাস্থ্য সরঞ্জামের সরবরাহ ঠিক রাখাটা প্রয়োজন। তা না হলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেঘাত ঘটবে। অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বলেন, স্বাস্থ্য খাতে যতক্ষণ দুর্নীতিমুক্ত না করা যাবে ততোদিন স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি করে কোনো সুফল আসবে না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবার বিচার করতে হবে। অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, সবাইকে সরকারের গাইডলাইন মেনে চলা উচিৎ এতে নিজের পরিবার এবং জনগণ সবাই এ মহামারীর হাত থেকে রক্ষা পাবো। জ¦র, সর্দি-কাশি হলে আবল-তাবল ওষধ সেবন না করে তিনি ডাক্তারের মরামর্শ মেনে চলার পরামর্শ দেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে করোনা পরিস্থিতিতে কয়েকটি দাবি পূনঃব্যক্ত এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট সম্পর্কে প্রস্তাব ও দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়। কোভিড-১৯ সম্পর্কিত দাবিসমূহঃ কোভিড-১৯ কে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা, বিনামূল্যে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, সকল সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালসমূহকে রিকুইজিশন করে কোভিড ও নন-কোভিড চিকিৎসার ব্যবস্থা, জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগ, অবিলম্বে মানসম্মত র্যা পিড টেস্ট কিট বিনামূল্যে আপামর জনগণের জন্য উন্মুক্ত, একযোগে সারা দেশব্যাপী কোভিড-১৯ অত্যাধিক আক্রান্ত এলাকাসমূহে (রেড জোন) লকডাউন দৃঢ়ভাবে চালু রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও চিকিৎসা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত, ইজারাদারদের পকেট ভারী করার কোরবানীর হাট বসানোর সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার। স্বাস্থ্য সেবা ও বাজেট সম্পর্কিত দাবি ও প্রস্তাবনাঃ স্বাস্থ্যকে জনগণের æমৌলিক অধিকার” হিসাবে সাংবিধানিক আইনী সুরক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১৫% এবং জিডিপির ৫% বরাদ্দ, সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক থেকে বিশেষায়িত পর্যন্ত সকল চিকিৎসা বিনামূল্যে প্রদান, সরকারি হাসপাতালে ইউজার ফি বাতিল এবং এ পর্যন্ত আদায়কৃত ইউজার ফি এর স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ, উপজেলা পর্যায়ে সরকারী হাসপাতাল সমূহ ১০০ শয্যা ও জেলা পর্যায়ে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করতে হবে। প্রতি ১০ হাজার জনগণের জন্য কমপক্ষে ২৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, দেশের জন্য উপযোগী রেফারাল পদ্ধতি চালু, পর্যাপ্ত ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সংস্থান, দারিদ্রসীমার নীচে অবস্থানরত জনগোষ্ঠীর জন্য সুপেয় পানি, মান সম্মত পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ স্বাস্থ্যকর আবাসন নিশ্চিত, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যাকে প্রাধান্য দিয়ে গণমূখী স্বাস্থ্যনীতি প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন, শিল্পায়ন, নগরায়ণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনের নামে বন উজাড়, নদী ভরাট সহ পরিবেশ বিধ্বংসী সকল কার্যক্রম বন্ধ, মেডিক্যাল শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ বন্ধ, মেডিক্যাল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং সকলকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনা অন্যতম।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..