রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের ঘোষণা ‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গত ৪ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে একে জাতি ও মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে আখ্যায়িত করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের প্রধান শিল্প পাটকলগুলো রাষ্ট্রায়ত্তকরণ করা হয়েছিল। ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট্রের ২১-দফা ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সমাজের ১১-দফার অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। গত ৪০ বছর ধরে ক্ষমতাসীন সরকারগুলো এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজীসহ সকল পাটকল বন্ধ কিংবা বেসরকারিকরণ করে সে অঙ্গীকারকে পদদলিত করেছে। সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আহসান হাবীব লাবলু, রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুর রহমান শামীম। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লুনা নূর, ঢাকা কমিটির সভাপতি মোসলেহউদ্দিন। সমাবেশে সিপিবি নেতারা বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি-জামাত

সরকারের শিল্পমন্ত্রী রাজাকার নিজামীর হাত দিয়ে দেশের বৃহত্তম আদমজী পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়। আর আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মন্ত্রীর হাত দিয়ে অবশিষ্ট ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিশ্বাসঘাতকতার জন্য জাতি কখনও তাদের ক্ষমা করবে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার লোকসানের কথা বলে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাটকলগুলো রাষ্ট্রীয়করণের পর থেকে এ পর্যন্ত পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ মাত্র ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। আর এ সরকারই গত ৬ বছরে দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থক ও আত্মীয় স্বজনের কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহরের দাবি জানান। তারা পাটকল বন্ধ করে পাট চাষ ও পাট শিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা না করে মাত্র ১২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে দেশীয় পাট শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ সরকারের বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাটকল শ্রমিক, পাটচাষী ও দেশবাসীকে আহ্বান জানান। তারা বলেন, সরকার যদি পাটকল বন্ধের মত গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে তাহলে জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোই হবে একমাত্র সমাধান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..