জাতিসংঘে সমাদৃত হল বাম শাসিত কেরালা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : কোভিড-১৯ প্রতিরোধে অভাবনীয় সাফল্য বাম শাসিত কেরলের মুকুটে আরো একটি নতুন পালক যোগ করল। কেরালের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজার কৃতিত্বকে বিশেষ সম্মাননা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি জাতিসংঘের আলোচনা সভায় বিশেষ আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন কেরালের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা। তার আগেই মহামারী করোনার বিরুদ্ধে কেরালার বাম সরকারের লড়াইয়ের স্বীকৃতি মিলেছিল। একাধিক বিদেশি সংবাদপত্রও করোনা মোকাবিলায় কেরালা মডেলের তত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন। এবার জাতিসংঘের ভার্চুয়াল ওয়েবমিনারে অংশ নিয়েছিলেন কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর প্যানেলে ছিলেন শৈলজা। হু-এর প্রকাশিত করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যাক্তিরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তাঁদের সম্মান জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।' এই সভায় মাত্র সাত মিনিটের বক্তৃতায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পান কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কীভাবে নিপা ভাইরাস ঠেকানোর অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই কেরল সরকার করোনা মহামারী প্রতিরোধের পরিকল্পনা নেয়। সেই অভিজ্ঞতাই তিনি তুলে ধরেন। টেস্টিং, আইসোলেশনের মতো প্রক্রিয়াগুলিকে কীভাবে শুরু থেকেই জোর দেওয়া হয়, সেই কথা জানান বিশ্বের দরবারে। সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন যে, সরকার রাজ্যের মানুষের ন্যূনতম চাহিদাগুলি মেটানোর চেষ্টা করছেন। রেশন সামগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া, কমিউনিটি কিচেন গড়ে তোলার মতো কর্মসূচির উল্লেখ করেন। ইভেন্টের মূল বক্তা হিসেবে ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, এইচ ই-র জেনারেল অ্যাসেমব্লির সভাপতি তিজানি মহম্মদ-বন্দে, ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রপতি সাহলে-ওয়ার্ক জেভেডে, হু-র মহাসচিব টেড্রোস অ্যাধনাম ঘেব্রেইসাস, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়সমূহের সেক্রেটারি-জেনারেল লিউ ঝেনমিন, রিপাবলিক কোরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চীন ইয়ং, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য কর্মী বাহিনী বিভাগের ডিরেক্টর জিম ক্যাম্পবেল, নার্সদের আন্তর্জাতিক কাউন্সিলের সভাপতি অ্যানেট কেনেডি এবং আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস কমিটির সাধারণ সম্পাদক রোসা পাভেনেলি। কেরালা ভারতের একটি রাজ্য। রাজধানী তিরুবনন্তপুরম একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত। মালয়ালম ভাষা কেরলের রাজ্যভাষা। কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত এই রাজ্যটিতে ভারতের প্রথম করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সারা ভারতে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও কেরালায় মাত্র ২ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্য হয়েছে। কারণ কেরালার সরকারি কর্তৃপক্ষ জানান, শুরু থেকেই তারা বিপুল পরিমাণে পরীক্ষা করে রোগীদের সাধারণ মানুষদের থেকে আলাদা করতে পেরেছিল। সেজন্যই এই সংক্রমণের কিছুটা লাগাম টানতে পেরেছেন তারা। এবং বিপুল সংখ্যক টেস্ট এর পাশাপাশি লকডাউন নিশ্চিতে পর্যাপ্ত রেশন এবং নিষ্কণ্টক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছিল তারা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..