দ্বিগুণ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিল ডব্লিউএইচও

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)’র প্রধান টেডরস আধানম ঘেব্রিয়েসুস বলেছেন, দিন দিন বিশ্বে করোনাভাইরাসের মহামারী বাড়ছে। বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে তিনি জানান, গত ১৯ জুন বিভিন্ন দেশ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। যা কোনও একদিনে সমগ্র বিশ্বে সংক্রমণের বিচারে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে অর্ধেকের ওপর সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে আমেরিকায়। আক্রান্তের তালিকা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়াতেও। তিনি আরও বলেন, ভাইরাস ছড়ানোর বিপদজনক অবস্থার মধ্যে দিয়ে এখন যেতে হচ্ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে সুরক্ষা বিধি জোরালোভাবে পালন করতে হবে। হু’র প্রধান তাই সবাইকে সচেতন হতে বলেন। শুধু সচেতন নয় বরং সব দেশের প্রতি পদক্ষেপ দ্বিগুণ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রধান। ডব্লিউএইচও বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মহামারীর প্রভাব নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। এতে এ পর্যন্ত ৮২টি দেশ সাড়া দিয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি দেশে অন্তত একটি স্বাস্থ্যসেবা, যেমন হাসপাতালের বহির্বিভাগ অথবা কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, সীমিত অথবা স্থগিত করেছে। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দেশে দাঁতের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা আংশিক বা পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, অসংক্রামক রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা এবং পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্ধেকের বেশি দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভকালীন সেবা, ক্যানসার শনাক্ত ও চিকিৎসা এবং শিশু চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমীক্ষার প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত ফলাফলকে ডব্লিউএইচও আশংকাজনক বলে অভিহিত করেছে। এবং চিকিৎসা ব্যাবস্থা দ্বিগুণ জোরদারের আহ্বান করেছে। কারণ ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শরণার্থীদের মহামারীতে বিপন্নতা বেশি। যাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই আধুনিক দেশে রয়েছেন। ডব্লিউএইচও প্রধান বর্তমান অবস্থাকে ‘নতুন ও বিপজ্জনক ধাপ’ বলে উল্লেখ করেন। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, “রাজনৈতিকীকরণ করে এ মহামারীকে বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। এ মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক নেতৃত্ব এখনো এককাতারে দাঁড়াতে পারেনি। এ মহামারী শুধু একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা না; এর চেয়েও বেশি কিছু। এটি একটি অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক সংকট। আবার অনেক দেশে এটি রাজনৈতিক সংকটও।’ আর এই বৈশ্বিক বিভাজন নিয়ে মহামারীকে হারানো সম্ভব না। যার বিরূপ প্রভাব অনুভূত হবে কয়েক দশক ধরে। রাজনৈতিকীকরণের অভিযোগ তুললেও গেব্রোয়াসুস সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম করেননি। তবে ডব্লিউএইচওর একজন প্রবল সমালোচক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মহামারীর শুরুর দিকে সাবধান না করার জন্য বৈশ্বিক এই স্বাস্থ্য সংস্থাকে বারকয়েক দুষেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এ সংস্থাকে চীনের প্রতি দুর্বল বলেও আখ্যায়িত করেছেন। আমেরিকা সংক্রমণের নিশ্চিত সংখ্যা ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে। সেখানে প্রাণহানির সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। করোনাভাইরাস ছড়ানোর মূলকেন্দ্র হয়ে ওঠা নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি, যেখানে তাদের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে, সেখানে ২০টি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..