তিউনিসিয়ায় তুমুল বিক্ষোভ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : চাকরীর দাবিতে তিউনিশিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। ২২ জুন থেকে কর্মসংস্থান ও একপেশে হয়ে পড়া দক্ষিণের একজন অধিকারকর্মীকে মুক্তি দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা। ২০১৭ সালে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দেশের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে বেকার হাজার হাজার মানুষকে চাকরির ব্যবস্থা করবে সরকার। সেই দাবিতে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রতিশ্রুত চাকরি দিতে হবে এবং অধিকারকর্মী তারেক হাদ্দাদকে মুক্তি দিতে হবে। উল্লেখ্য, তারেক হাদ্দাদকে আগের দিন কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পর নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গ্রেপ্তার করে। এই আন্দোলনে তিনি মূল হোতাদের একজন। ২৩ জুন বিক্ষোভে সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত একজন পুলিশ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। বিক্ষোভের শুরুতে কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা প্রত্যন্ত আল কামোর পাম্পিং স্টেশনের চারদিকের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, যাতে কোনো তেলবাহী ট্যাংকার সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। তাদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। পুলিশের বাঁধায় তাতাউনি শহরে বিক্ষোভ থেকে টায়ারে আগুন দেয়া হয়। তাতাউনির গভর্নর আদেল ওয়েরঘি বলেছেন, কর্তৃপক্ষের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিল হাদ্দেদ। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেন নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পুলিশ স্টেশনে হাতবোমা নিক্ষোপ করে একদল বিক্ষোভকারী। এরপরই পুলিশ সেখান থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে সরকারের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে তিউনিসিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন ইউজিটিটি। তাতাউনিতে একটি সাধারণ ধর্মঘটে কর্তৃপক্ষের অতিমাত্রায় ও অন্যায় শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে তারা। আরব বসন্তের সূতিকাগার তিউনিসিয়া। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে তিউনিসিয়ায় বেকারত্বের হার প্রায় ১৫.৩%। ২০১১ সালে আরব বসন্তের পর এ হার ছিল ১৬.৭%। কিন্তু বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ে তিউনিসিয়ার বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ১৩%। আরব বসন্তের ফলে তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলেও জনসাধারণের ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন ঘটেনি। চাকরির দাবিতে তরুণের আত্মহত্যা তিউনিসিয়ার জনগণকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত তিউনিসিয়ার জনগণ আবারো নিজেদের অধিকার আদায়ে সহিংস হয়ে উঠেছে। আবারো বিক্ষোভে উত্তাল আফ্রিকার দেশটি। এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও বিক্ষোভের মুখে দেশটিতে ব্যাপক সামাজিক সংস্কার আনার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। দরিদ্রদের সহায়তা বৃদ্ধি, আবাসন ও চিকিৎসা খাতে সংস্কার আনতে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারেনি তিউনিশিয়ানরা। প্রতিশ্রুতির ১০ ভাগও পালন করেনি সরকার। তাই তারা আবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..