রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না গার্মেন্ট টিইউসির হুঁশিয়ারি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : গার্মেন্ট শ্রমিকের প্রাপ্য ঈদ বোনাস কেটে নেয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনটির সভাপতি মন্টু ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার গত ১৭ মে এক বিবৃতিতে বলেন, শ্রমিকের এপ্রিল মাসের বেতন কেটে নেয়ার পর এবার বোনাস কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে যা খুবই ন্যাক্কারজনক। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, মহামারী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একের পর এক শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৪ মে’র ত্রিপক্ষীয় সভায় মালিকরা শ্রমিক পক্ষের দাবির যৌক্তিকতার সাথে না পেরে পরবর্তীতে ১৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে নিজেদের পক্ষে ম্যানিপুলেট করেছে। এইভাবে শ্রমিকদের ওপর ক্রমাগত জুলুম চাপিয়ে দেয়া হলে শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলনে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মালিকপক্ষ শ্রমিক ঠকাতে বারবার ছল-চাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে ‘অর্ধেক বোনাস’ দেয়া হবে, যার ফলে কেউ কেউ মনে করছেন বেসিকের অর্ধেক বোনাস দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে কাগজে গত বছর প্রদত্ত বোনাসের অর্ধেক পরিশোধের কথা লেখা রয়েছে। তারা বলেন, একমাসের মূল মজুরির সমান উৎসব ভাতা শ্রমিকের প্রাপ্য। কিন্তু অধিকাংশ কারখানা শ্রমিকদের ঈদের আগে দান-দক্ষিণার মত করে যৎসামান্য টাকা ধরিয়ে দেয় দেয়। প্রতি বছর ঈদের আগে বেসিকের সমান বোনাসের জন্য শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হয়। এবার শ্রমিক সেই নামমাত্র বোনাসেরও অর্ধেক পাবে এটা কোন অবস্থাতেই মানা যায় না। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এই চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাসের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়েও মালিকরা ছল-চাতুরির আশ্রয় নিয়েছিলো। তখন গণমাধ্যমসহ সর্বত্র প্রচার করা হয়েছিলো যারা কাজে যোগদান করেছে তারা শতভাগ এবং যারা বাড়িতে অবস্থান করছে তারা ষাটভাগ বেতন পাবে। এই প্রচার ছিলো দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার এবং শ্রমিকের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার অপকৌশল। নেতৃবৃন্দ এই মহাবিপর্যয়কালে শ্রমিক ঠকানোর সকল ছল-চাতুরি অবিলম্বে বন্ধ করে শ্রমিকের আগামী ২০ মে-এর মধ্যে বেসিকের সমান ঈদ বোনাস এবং মার্চ-এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার দাবি জানান। তারা একইসঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে করোনা মহামারীকালে সকল ছাটাইকৃত শ্রমিককে পুনর্বহাল, শ্রমিকের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মরত অবস্থায় করোনা সংক্রমিত হলে সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..