মার্কসবাদ ও লাতিন আমেরিকা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
শান্তনু দে : ফিদেলের তখনও জন্ম হয়নি। কিউবায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা। আগস্ট, ১৯২৫। আমেরিকা থেকে মাত্র নব্বই মাইল দূরে একরত্তি দ্বীপরাষ্ট্রে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠা। ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, মার্কস-এঙ্গেলসের বন্ধু এবং মার্কসের কন্যা লারার স্বামী পল লাফার্গ আদতে ছিলেন কিউবার সন্তান। সে এক অন্য কথা। যাইহোক, হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র জুলিও আন্তোনিও মেল্লার নেতৃত্বে সেদিন কিউবায় কমিউনিস্ট পার্টির আত্মপ্রকাশ। আজ কিউবা বিপ্লবের ৬০ বছর। কিউবা বিপ্লবে এখনও যৌবন। ফিদেল নেই। রাউল পার্টির প্রথম সম্পাদক। তবে রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল, যাঁর জন্ম বিপ্লবের পরে। ফিদেল শারীরিকভাবে নেই। তবে আছেন। প্রতি মুহূর্তে, প্রতিটি প্রান্তে। লা পাজের রাস্তায়, মানাগুয়ার রাজপথে। আন্দিজে, আমাজনে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ফিদেল ছিলেন একজন আদর্শ মার্কসবাদী-লেনিনবাদী। যে ঘোষণা তিনি করেছিলেন গ্রানমা অবতরনের পঞ্চম বার্ষিকীতে, কিউবার টেলিভিশন ও রেডিওতে এক দীর্ঘ ভাষণে। সেখানেই তিনি সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেন কিউবা বিপ্লবের উন্নয়নের অভিমুখ: ‘কোন ধরনের সমাজতন্ত্র এখানে আমাদের প্রয়োগ করতে হবে? কোনও কাল্পনিক সমাজতন্ত্র?’ ‘আমাদের প্রয়োগ করতে হবে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র। যে কারণে আমি অকপটে বলতে চাই, আমরা বিশ্বাস করি মার্কসবাদে। আমরা মনে করি এটি অভ্রান্ত, সবচেয়ে যথার্থ, সর্বাধুনিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। একমাত্র প্রকৃত বিপ্লবী তত্ত্ব।’ ইতিহাসে ফিদেল অনন্য হয়ে থাকবেন তত্ত্ব এবং প্রয়োগে একজন সৃজনশীল মার্কসবাদী হিসেবে। মাও জে দঙ এবং হো চি মিনের সঙ্গে তিনিও অনুন্নত দেশের বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে প্রয়োগ করেছেন মার্কসবাদকে। ১৯২২, কিউবারও আগে চিলিতে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা। আলেন্দে তখন সবে চোদ্দ, নেরুদা আঠারো। ১৯৩৬, চিলির কমিউনিস্ট পার্টি ও সোস্যালিস্ট পার্টিগুলি মিলে চিলির শ্রমজীবী মানুষের কনফেডারেশন এবং র‌্যাডিকাল দলগুলির সঙ্গে তৈরি করে পপুলার ফ্রন্ট। যা ব্যাপক সাফল্য পায় পৌরসভা নির্বাচনে এবং ১৯৩৮’র রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। পায় ৫০.২ শতাংশ ভোট। এই জয় শুধু চিলির জন্য নয়। গোটা লাতিন আমেরিকার জন্য ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনের পর র‌্যাডিকাল ও সোস্যালিস্টরা মিলে সরকার গঠন করে। কমিউনিস্ট পার্টি সেই সরকারে যোগ দিতে অস্বীকার করে, তবে বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন করে। ১৯৪১ পর্যন্ত ছিল সেই সরকার। দুই. ১৯২৭, নিকারাগুয়াতে সিজার সানদিনোর নেতৃত্বে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই। প্রতিরোধ সংগ্রামে শেষে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় হানাদারেরা। কিন্তু রেখে যায় পুতুল সরকারকে। যার সেনাবাহিনী ১৯৩৪ সালে হত্যা করে সানদিনোসহ তাঁর বিদ্রোহী সেনাদের। ১৯৩৯, বিভিন্ন মার্কসবাদী গ্রুপ ও চক্রগুলি একজোট হয়ে তৈরি করে নিকারাগুয়ার কমিউনিস্ট পার্টি, পোশাকি নাম ছিল নিকারাগুয়ার সোস্যালিস্ট পার্টি। যদিও প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করে তারও পাঁচবছর পরে, যখন রাজনৈতিক কাজের জন্য তৈরি হয় অনুকূল পরিস্থিতি। আজকের মার্কসবাদী রাষ্ট্রপতি দানিয়েল ওর্তেগা তখন কোথায়, জন্মই হয়নি। তখনও অক্টোবর বিপ্লব হয়নি। ১৯১১, সোস্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি হিসেবে মেক্সিকোতে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা। প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এম এন রায়। অক্টোবর বিপ্লবের পর ১৯১৯, ওয়ার্কার্স পার্টি নিজের নাম বদলে করে কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯২৫-৩৫, পার্টি ছিল নিষিদ্ধ। ১৯৩৮, মেক্সিকোর গণতান্ত্রিক শক্তি এবং সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলন ব্যর্থ করে দেয় ফ্যাসিস্ত বিদ্রোহ। লাতিন আমেরিকায় এই প্রথম কোনও দেশের সরকার জাতীয়করণ করে ব্রিটিশ ও উত্তর আমেরিকার তেল ক্ষেত্রকে। তৈরি করে সরকারি মালিকানাধীন তেল সংস্থা। জাতীয়করণ করে রেলকে। ওই বছরই কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে লাতিন আমেরিকার ট্রেড ইউনিয়নগুলি একজোট হয়ে তৈরি করে লাতিন আমেরিকান কনফেডারেশন অব লেবর। চিলিতে যখন কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা, ব্রাজিলেও তখন, ১৯২২ সালে। এবং সঙ্গে সঙ্গেই নিষিদ্ধ ঘোষণা। পার্টি আন্ডারগ্রাউন্ডে। ১৯৪৩ সালের দ্বিতীয় অর্ধে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয় ব্রাজিলে। কমিউনিস্ট পার্টি নেয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শেষে প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রের পতন। আজও দস্তুরমতো আছে কমিউনিস্ট পার্টি। ব্রাজিলের কমিউনিস্ট পার্টি পিসিডিওবি এবং পিসিবি। বোলসোনারোর এই সময়েও ব্রাজিলের মারানহাও প্রদেশের নির্বাচিত গভর্নর একজন কমিউনিস্ট। বামপন্থী লুলা এখনও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। অক্টোবর বিপ্লবের একবছর বাদেই আর্জেন্টিনায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা। উরুগুয়েতে তিনবছর বাদে, ভারতের মতো ১৯২০-তে। ভেনেজুয়েলায় ১৯৩১ সালে। এখন সাভিস্তা জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। ১৯২৯, কলম্বিয়ার সোস্যালিস্ট রেভেলিউশনারি পার্টিকে (পিএসআর) ধাপে ধাপে কমিউনিস্ট পার্টিতে রূপান্তরিত করার জন্য কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক পাঠায় একটি খোলা চিঠি। শেষে ১৭ জুলাই, ১৯৩০। কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের উপস্থিতিতে কলম্বিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা। ১৯২৮, লাতিন আমেরিকার অন্যতম মার্কসবাদী তাত্ত্বিক কার্লোস মারিয়েতেগুইয়ের নেতৃত্বে পার্তিদো সোস্যালিস্তা দেল পেরু গঠন। দু’বছর বাদে নাম বদলে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি (পিসিপি)। তিন. ১৯৪৪-৪৬, লাতিন আমেরিকার বেশকিছু দেশে দেখা যায় গণঅভ্যুত্থান। মে ১৯৪৪, এল সালভাদোরে স্বৈরতন্ত্রের পতন। খুলে যায় আইনি পথে ট্রেড ইউনিয়ন তৈরির দরজা। একই সময়ে ইকুয়েদরে গণঅভ্যুত্থান। সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ত স্বৈরতন্ত্রের পতন। নতুন সরকারে যোগ দেন কমিউনিস্টরা, সোস্যালিস্টরা। গুয়েতামালায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানে আসে সাফল্য। বলিভিয়া, ব্রাজিল, দমিনিকান রিপাবলিক, পুয়ের্তো রিকো, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়েতে শ্রমিকশ্রেণির লড়াই। ন্যূনতম মজুরির অধিকার অর্জন। ১৯৪৪, দমিনিকান রিপাবলিকে কমিউনিস্টরা প্রতিষ্ঠা করেন দমিনিকান পপুলার সোস্যালিস্ট পার্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে এই অঞ্চলে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা ছিল ৯০,০০০। ১৯৪৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৮০,০০০। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, পেরু, কোস্টারিকা, কিউবা, প্যারাগুয়ে, চিলিতে নজরকাড়া রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসে কমিউনিস্ট পার্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেই প্রথম নির্বাচনে ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, কিউবা, পেরু, চিলি, ইকুয়েদরের সংসদে, পৌরসভায় নির্বাচিত হন কমিউনিস্টরা। পরে ব্রাউডারের সংশোধনবাদ কমিউনিস্ট পার্টিগুলির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্রাউডার ছিলেন ‘একই বিশ্বে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সহযোগিতার পথ খোঁজার পক্ষে।’ শ্রেণিসংগ্রামের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি সওয়াল করতেন শ্রেণিসমঝোতার। এরমধ্যেই ব্রাজিলে ভার্গাস, আর্জেন্টিনায় হুয়ান পেরনের মতো জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রপতির উত্থান। তেল ও শিল্পের জাতীয়করণসহ তাঁরা নেন ন্যূনতম মজুরিসহ সামাজিক কল্যাণকর পদক্ষেপ। তবে ভার্গার্সের মতো অনেকেই ছিলেন প্রকাশ্যে কমিউনিস্ট-বিরোধী। পেরন অবশ্য কমিউনিস্ট-বিরোধী ছিলেন না। এরমধ্যেই ১৯৪৮, চিলিতে কমিউনিস্ট পার্টির নিষিদ্ধ ঘোষণা। একইসঙ্গে ব্রাজিলসহ বেশকিছু দেশে। এই পরিস্থিতি চলে প্রায় একদশক, ১৯৫৮-৬০ পর্যন্ত। ১৯৫৯, কিউবায় সফল বিপ্লব। একই গেরিলা কায়দায় বেশ কয়েকটি দেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিজেদের দেশে উৎখাত করার চেষ্টা করে স্বৈরতন্ত্রকে। বলিভিয়াতে, চে নিজে দেন নেতৃত্বে। গেরিলা সংগ্রাম দেখা যায় ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া, এল সালভাদোর, উরুগুয়েসহ বেশকিছু দেশে। এরপর ১৯৭০। আলেন্দের নেতৃত্বে চিলিতে পপুলার ইউনিটির সরকার। সোস্যালিস্টদের সঙ্গে ছিলেন কমিউনিস্টরা। বন্ধু কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী পাবলো নেরুদা চূড়ান্ত দফার নির্বাচনে সড়ে দাঁড়ান। নির্বাচিত সোস্যালিস্ট পার্টির সালভাদোর আলেন্দে। পরে ১৯৭৩, মার্কিন মদতে সেনা অভ্যুত্থান। আলেন্দের পতন। পিনোচেতের জমানা। কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা। নয়া উদারবাদের প্রথম পরীক্ষাগার। কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকে ১৯৯০ পর্যন্ত। লাতিনে কমিউনিস্ট পার্টিগুলির অধিকাংশ সময়ই কেটেছে বেআইনি অবস্থায়। আন্ডারগ্রাউন্ডে। যেমন ব্রাজিলে কমিউনিস্ট পার্টির পিসিডিওবি এখন যখন ৯৮ বছরে, আইনি ছিল মাত্র ৩৬ বছর। ১৯৩০-৮৫, এই সময়ে একবছর, ছ’মাস এবং দশদিন বাদে গোটা পর্বেই ছিল বেআইনি। চার. এই চিলি, এই লাতিন আমেরিকাতেই প্রথম নয়া উদারবাদের প্রয়োগ। এবং এখানেই প্রথম প্রতিবাদ। প্রতিরোধ। এবং প্রতিস্রোত। ১৯৯৪ মেক্সিকো, ১৯৯৯ ব্রাজিল, ২০০১-’০২ আর্জেন্টিনা (দশদিনে পাঁচজন রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন)— মহাদেশের তিনটি বৃহত্তম অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর— নয়া উদার মডেলের ব্যর্থতা ও প্রতিরোধ আন্দোলনগুলি ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, বলিভিয়া, ইকুয়েদর এবং শেষে মেক্সিকোতে বেছে নিয়েছে নয়া উদারবাদ-উত্তর একের পর এক জনপ্রিয় প্রগতিশীল সরকার। যারা নিয়ে চলেছে রাজনৈতিক বিকল্প। বিকল্প সরকার নির্মাণের চ্যালেঞ্জ। নয়া উদারবাদ-উত্তর মডেল নির্মাণের চ্যালেঞ্জ। এই লড়াইয়ে কখনও কেউ হেরেছে। কিন্তু হারিয়ে যায়নি। একসময়ের সান্দিনিস্তা গেরিলা আন্দোলনের যোদ্ধা দানিয়েল ওর্তেগা এখন রাজনীতির মূল স্রোতে, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। একইভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ব্রাজিলে দিলমা রুসেফ, এল সালভাদোরে মারিসিও ফুনেসে এবং উরুগুয়েতে পেপে মুজিকার মতো একসময়ের গেরিলারা। কলম্বিয়াতে মার্কসবাদী গেরিলা সংগঠন ফার্ক এখন রাজনীতির মূল স্রোতে। এই মহাদেশ বিপ্লব-প্রতিবিপ্লবের দেশ। ইতিহাস জানে এখানে রয়েছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অপার বৈচিত্র্য। এখানে রয়েছে বামপন্থীদের তিনটি ধারা। কমিউনিস্ট ও সোস্যালিস্ট পার্টি, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও গেরিলা গোষ্ঠী। যাদের কাছে আছে কিউবার বিপ্লব, আলেন্দের সরকার, সান্দিনিস্তার জয়, ভেনেজুয়েলা, উরুগুয়ে, বলিভিয়া, ইকুয়েদরে নয়া উদারবাদ-উত্তর সরকার, চিয়াপাসের মতো স্থানীয় ক্ষমতা নির্মাণের অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে রয়েছে সাও পাওলো ফোরাম। ওয়ার্ল্ড সোস্যাল ফোরামের মতো ‘নন-পার্টিজান’ নয়। এই ফোরাম সগর্বে ঘোষণা করে ‘আমরা বামপন্থী, আমরা পার্টিজান, পার্টি ও তার মতাদর্শের কট্টর প্রত্যয়ী সমর্থক। জন্ম তিনদশক আগে ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে। ফিদেল আর লুলার উদ্যোগে। এখন এই মহাদেশের ৮৪টি কমিউনিস্ট পার্টি, বামপন্থী দল ও ফ্রন্ট এর সদস্য। পাশাপাশি, এই মহাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিগুলি মিলিত হচ্ছে পৃথক মঞ্চে। ক’দিন আগেও লাতিন আমেরিকা দেখেছে বিদ্রোহে-ব্যালটে অসন্তোষ। আর্জেন্টিনা হেরেছিল। হারিয়ে যায়নি। ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আবারও হারিয়েছে উগ্র দক্ষিণপন্থাকে। জিতেছেন বামপন্থা-ঘেষা পেরনবাদী প্রগতিশীল আলবার্তো ফার্নান্ডেজ। ভেনেজুয়েলা এখনও দাঁড়িয়ে আছে। তীব্র যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছে। আত্মসমর্পণ করেনি। খাদের কিনারে। তবু অকুতোভয়। রাজিল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ব্রাজিল রাস্তায়। সংসদের ভিতরের চেয়ে উত্তাপ বেশি বাইরে। প্রতিদিন বাড়ছে প্রতিরোধের শক্তি। বলিভিয়া, নিকারাগুয়াতে এখনও চলছে বিকল্পের অনুশীলন। রণাঙ্গনের লাতিন আমেরিকা। কিছুটা পিছু হটেছে ঠিকই। শেষ হয়ে যায়নি। হারিয়ে ফেলেনি উদ্যম। এখনও জীবন্ত প্রত্যয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..