করোনাকালে বোরো চাষির ক্রান্তিকাল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
আবিদ হোসেন : করোনার প্রাণঘাতী ভয়াল থাবার মুখে গোটা দেশ আজ বিপর্যস্ত। প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেইসাথে অর্থনীতি আজ মহাসংকটে নিপতিত। এই সংকটের শীর্ষে আছে প্রায় দুই মাস সারাদেশে লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া খেটে খাওয়া শ্রমিক-কৃষক-নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী। এরই মধ্যে বোরো ধান কাটা চলছে। বিক্রিও শুরু হয়েছে। সরকার এবছর কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে (২৬ টাকা কেজি) ৮ লক্ষ টন ধান আর চালকল মালিকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে (৩৬ টাকা কেজি) ১০ লক্ষ টন চাল কিনবে। সরকারের খাদ্য বিভাগের ধান ক্রয় শুরু হয়েছে গত ২৬ এপ্রিল থেকে। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। বৈশ্বিক মহামারি করোনার করাল গ্রাসের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দেবে বলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) সতর্ক করে যাচ্ছে। এই খাদ্য সংকট হবে মূলত খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাবস্থা ভেঙে পড়া ও দীর্ঘদিন কর্মহীন হয়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়ার কারণে। ফলে দেখা দিতে পারে দুর্ভিক্ষ। এই সংকট ও সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা সম্ভব সরকারের আন্তরিক ইচ্ছাশক্তি, সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা, প্রশাসনিক জনশক্তির দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ করা এবং ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা না করে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সহসাই এই সংকট থেকে উত্তরণের সমূহ সম্ভাবনা ও সদিচ্ছা সরকারের নাই। ২০১৯-২০ সালে বাংলাদেশে ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ২৮ হাজার টন। এর মধ্যে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টন, আমন ১ কোটি ৫৩ লাখ ৫৮ হাজার টন। সারাদেশের মোট বোরো ধানের প্রায় ২০ ভাগ হাওর অঞ্চলের কৃষকরা প্রকৃতির সাথে লড়াই করে উৎপাদন করে। এবছর হাওরে বোরো উৎপাদন হবে প্রায় ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টন। হাওরের প্রায় ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষক এই ধান কাটছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার জন কৃষি শ্রমিক নিয়ে। সারা দেশে প্রায় ৪৭ লক্ষ ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। প্রতি বছরই কৃষকেরা ধান উৎপাদন করে লোকসান দেয়ার পরও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খাদ্যের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। এবছর কৃষক ধান কাটা নিয়ে মহাসংকটে পড়েছে। এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে গিয়ে কৃষি শ্রমিকরা ধান কেটে থাকে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান অন্য অঞ্চলের থেকে আগেই কাটা হয় আগাম বন্যার সম্ভাবনা বিবেচনা করে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘরে কিংবা চাতালে বোরো ধান তুলতে না পারলে কৃষকের বড়ই বিপদ। সারাদেশে লকডাউনের ফলে কৃষি শ্রমিক সঙ্কটের কারণে বিপদগ্রস্ত কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়েছে। উৎপাদন খরচ প্রায় মণ প্রতি ৯০০ টাকার বেশি হলেও বিক্রি হচ্ছে ৬০০/৭০০ টাকা মণ। করোনাকালের এই দুর্বিষহ অচলাবস্থায় গরিব কৃষক আরো গরিব হয়ে হতাশায় নিমজ্জিত। কৃষক প্রতি ধানের মৌসুমে তার নানান সমস্যার সমাধানের স্বপ্ন দেখলেও উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত স্তরে স্তরে সমস্যার মধ্যেই হাবুডুবু খেতে থাকে। সরকার কৃষকের জন্য সম্প্রতি ৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে। এই টাকা উৎপাদন ও কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য দেয়া হবে, যা ৪% সুদে পরিশোধ করতে হবে। সরকারের প্রণোদনার এই সুযোগ বিপদগ্রস্ত প্রকৃত কৃষক পাবে কিনা এই নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সারাদেশে উৎপাদনের সাথে জড়িত প্রকৃত কৃষকদের এখনো তালিকাভুক্ত করে ব্যাংক একাউন্ট ও কৃষি কার্ড দেয়া হয়নি। অধিকাংশ কৃষকই তালিকার বাইরে আছে। তালিকাভুক্তদের অধিকাংশ সরকারদলীয় লোকজন। বিপুল সংখ্যক কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত নাই। এই তালিকা কখনো হালনাগাদ করা হয় নাই। প্রান্তিক ভূমিহীন কৃষকদের কোনো তালিকা নাই। ফলে তারা সরাসরি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ দিনে দিনে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে। কৃষকের সমবায় ব্যবস্থা না থাকায় সেচ ও যন্ত্রপাতির মালিক একক ব্যক্তির হাতে জিম্মি। কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে ৭০%, আর ৩০% বিনিয়োগ করে কৃষিযন্ত্রপাতির মালিক হচ্ছে সরকারি দলের চামুণ্ডারা। ফলে সরকারি প্রণোদনার অর্থ চলে যায় লুটপাটকারীদের হাতে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে ব্যাংক খালি করে দেয়া হচ্ছে। লুটেরাদের কিছুই হচ্ছে না। অথচ কৃষক মাত্র ২০/৩০ হাজার টাকা কৃষিঋণ নিয়ে সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় সার্টিফিকেট মামলায় গ্রেফতার হচ্ছেন। গত বছরের মতো এবছরও তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে লটারি করে ধান কিনবে সরকার। সরকারের অভ্যন্তরীণ খাদ্য শস্য ক্রয় নীতিমালায় ধান ক্রয়ের অগ্রাধিকার প্রাপ্য হিসেবে প্রান্তিক কৃষক ও নারী কৃষকের কথা বলা হয়েছে। অথচ লটারি সিস্টেম করার ফলে সেই অগ্রাধিকার নিয়তির হাতে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। লটারি সিস্টেমের বিরুদ্ধে কৃষক সমাজ ফুঁসে উঠছে। স্বচ্ছতার সাথে ধান ক্রয়ের নামে লটারি সিস্টেমে রয়েছে বিশাল শুভঙ্করের ফাঁকি। তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে ধান বিক্রি করায় আগ্রহী কৃষকের অনেকেই জানতেই পারে না কখন লটারির জন্য কৃষকদের নাম সংগ্রহ করা হবে। অধিকাংশ কৃষক এভাবে লটারিতে অংশ নিতে পারে না। অনেক সময় ব্লক সুপারভাইজার কৃষকের কাছে না গিয়ে অফিসে বসে বিশেষ দলের নেতাদের সুপারিশ অনুযায়ী তালিকা করে। লটারির দিন দূরত্বের কারণে উপজেলা সদরে অনেক কৃষক উপস্থিত থাকতে পারে না। যার ধান বিক্রি করা বিশেষ প্রয়োজন ভাগ্য সহায় না থাকলে সে বিক্রি থেকে বঞ্চিত হয়। বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কিংবা হাটে লোকসানে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। লটারি সিস্টেমে ধান বিক্রি করতে কৃষকের পদে পদে হয়রানির স্বীকার হতে হয়। উপজেলা সদরের খাদ্য অফিস, কৃষি অফিস, ব্যাংকে কমপক্ষে ছয়বার তার পয়সা খরচ করে, দিন মাটি করে দৌঁড়াতে হয়। ব্লক সুপারভাইজার মাঠ পর্যায়ে না যাওয়ার ফলে প্রথমবার কৃষক খাদ্য অফিসে গিয়ে নাম দিয়ে আসে। দ্বিতীয়বার নাম বাছাইয়ের সময় যেতে হয়। তৃতীয়বার লটারির দিন উপস্থিত থাকতে হয়। চতুর্থবার ধানের নমুনা নিয়ে যেতে হয়। নমুনা নির্বাচিত হলে পঞ্চমদিন ধানের বস্তা নিয়ে বিক্রি করে ওজন রশিদ বা ক্যাশ ভাউচার নিয়ে আসে। সেই ক্যাশ ভাউচার ব্যাংকে জমা দিয়ে খালি হাতে ক্লান্ত কৃষকের বাড়ি ফিরতি হয়। কয়েকদিন পর ক্যাশ ভাউচারের টাকা কৃষকের একাউন্টে জমা হলে ষষ্ঠদিন কষ্টের টাকা তুলতে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে কৃষক শুধু হিসাব কষতে থাকে ঋণের টাকা পরিশোধ করার পর পরবর্তী মৌসুমের বীজ কেনার টাকা থাকবে কিনা! লটারি সিস্টেম বাতিল করে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয় ও সংগ্রহ কেন্দ্র চালু করে প্রকৃত উৎপাদক কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে। হাটে, বাজারে, মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি হাটে, বাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসাতে হবে, যাতে সিন্ডিকেট গোষ্ঠী ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সাথে সাথে নগদ অথবা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কৃষকের টাকা দিতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশে সরকারের দলীয় লোকজনের অনুমোদিত ৫০ পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। কৃষকদেরও ধান বিক্রির টাকাসহ অন্যান্য আর্থিক সহায়তা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সরাসরি দিতে হবে। ফরিদপুর সুগার মিলের তালিকাভুক্ত আখ চাষিরা আখ জমা দেয়ার সাথে সাথে কৃষকের বিকাশ নম্বরে টাকা পরিশোধ করছে। কৃষকদের তালিকা হালনাগাদ করে অনুপস্থিত কৃষক বাতিল করে প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করতে হবে। ভূমিহীন কৃষকদের আলাদা তালিকা করে তাদের উৎপাদন সহায়তা দিতে হবে। সেঁচ কাজে খরচ হিসেবে উৎপাদিত ফসলের চার ভাগ সেঁচ মালিক নিয়ে নেয়। অথচ সেঁচকাজে সরকার বিপুল টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এই ভর্তুকির টাকা সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে জমা হয়। সেচের ভর্তুকির সুবিধা ভোগ করে সেঁচ মালিক আর বিদ্যুৎ বিভাগ। কৃষক বছরের পর বছর প্রাপ্য ভর্তুকির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষকসহ কৃষি শ্রমিক প্রান্তিক জনশক্তি। এই জনশক্তিই গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি।সারাদেশের খাদ্যের যোগান দেয় এই শক্তি। এই কৃষক শ্রেনিকে বাঁচাতে হবে সবার আগে। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এই গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকা শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে অবিলম্বে পল্লী রেশন ও শস্য বীমা চালু করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ কৃষক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের অধিকার আদায়ের জন্য কৃষকদের সংগঠিত করে লড়াই - সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। করোনা ক্রান্তিকালে কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি সারাদেশে সম্প্রতি বিক্ষোভ সমাবেশসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃষকের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দিয়েছে। দেশের বর্তমান সংকটকালে অর্থনীতিতে যে ধ্বস নেমেছে প্রধানত কৃষি খাতকে রক্ষা করা ও তার পূনরুজ্জীবনের মধ্য দিয়েই তা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আসন্ন ভয়াবহ মন্দায় আমাদের রপ্তানি ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স খাতে ধ্বস নেমে আসবে। ফলে আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে কৃষিকে। জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের যোগান দিতে হলে ও অর্থনীতিতে গতি সৃস্টি করতে হলে প্রধান অবলম্বন হতে হবে কৃষি খাতকে। সে ক্ষেত্রে মূল অবদান রাখতে হবে মেহনতি দেশের কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের অক্লান্ত শ্রম ও ত্যাগ । বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আসন্ন ভয়াবহ মন্দায় আমাদের রপ্তানী ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স খাতে ধ্বস নেমে আসবে। ফলে, আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে কৃষি খাতকেই। তাই, বর্তমানে কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট কৃষক-ক্ষেতমজুরদের স্বার্থ রক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দেয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা আজ অতি জরুরি কর্তব্য। সেসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষক সমিতি ও ক্ষেতমজুর সমিতির পক্ষ থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিম্নোক্ত দাবি জানাচ্ছে - ১. কৃষকের বোরো ধান কাটা, মাড়াই, নিরাপদে ঘরে তোলা, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি সার্বিক কাজে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। সেজন্য সম্ভাব্য সব জায়গায় সরকারি হার্ভেস্টার মেশিন পাঠাতে হবে। সরকারি নিয়ন্ত্রণে এসব মেশিন দিয়ে কৃষকের ধান কেটে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি মালিকানায় থাকা মেশিনের ক্ষেত্রে একর প্রতি সর্বোচ্চ রেট নির্ধারণ করে দিতে হবে। ২. শ্রমিকরা যেন ধান কাটার জন্য ফসলের এলাকায় যেতে পারেন সেজন্য তাদেরকে ‘স্যানিটাইজড’ বি আর টি সি বাসে নিরাপদে সেখানে আসার এবং কাজ শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিকদের জন্য সংক্রামণ পরীক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা, থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত, ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা ইত্যাদি প্রদান করতে হবে। এসব ক্ষেতমজুর পরিবারগুলোকে সেনা সহায়তায় চিহ্নিত করে তাদেরকে রেশন কার্ডের মাধ্যমে ৩ মাস বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। তাদের ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। এবং কৃষক যেন তা দিতে পারে সেজন্য কৃষককে আগেভাগেই সরকার ঘোষিত অনুদানের টাকা ও বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে। ৩. প্রতিটি ইউনিয়নে শস্য ক্রয়-কেন্দ্র খুলতে হবে এবং চলতি বোরো মৌসুমে ২০ লক্ষ টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এবং ১০ লক্ষ টন চাল চাতাল মালিকের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত দামে ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। গুদাম সংকট নিরসনে অগ্রিম টাকা দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে কৃষকের গোলায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অস্থায়ী ফসল-সংরক্ষণাগার স্থাপন করতে হবে। মানুষের দুর্যোগের সুযোগে ফসল, গরু-ছাগল, জমি-জমা- সম্পত্তি স্বাভাবিক দামের চেয়ে কম দামে কিনে নেয়া (ডিসট্রেস সেইল) বেআইনি ঘোষণা করে তা কঠোরভাবে রোধ করতে হবে। ৪. বর্তমান সংকটকালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি সবজি চাষি, পোল্ট্রি,ডেইরি ও গবাদিপশু খামারিকে রক্ষায় জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা সরাসরি সহায়তা প্রদান করতে হবে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের জন্য ২% সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৫. সবজি জাতীয় কৃষিপণ্য সরকারি উদ্যোগে বাজারজাত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিম-দুধ ইত্যাদি ত্রাণ-সাহায্য-রেশনের সাথে যুক্ত করে জনগণের মাঝে বিতরণ করতে হবে। ত্রাণ-সাহায্য বিতরণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। ৬. গ্রামাঞ্চলে কর্মরত সকল ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবহন ও কৃষি শ্রমিকের সুরক্ষায় মাস্ক, পিপিই ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি দ্রুত ভেঙে পড়বে। আর তখন বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে নয়- বরং সারা দেশে চরম সংকট সৃষ্টি হবে সরকারের ব্যবসায়ী, ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষাকারী, লুটপাট, আর দুর্নীতির নীতির কারণে। লেখক : সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..