পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অদ্ভুত রায়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : ভারতের সড়কজুড়ে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী। নিজের আবাসস্থলে ফেরার জন্য কেউ হাঁটছেন, কেউ ট্রাক-বাসে কোনোভাবে ফিরছেন। প্রতিনিয়ত রাস্তায় এইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের সাথে ঘটছে দুর্ঘটনা। এই পরিযায়ীরা কেন হাঁটছেন, তার অজস্র বিবরণ প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। হঠাৎ লকডাউনে আটকে পড়া কোটি কোটি পরিযায়ী শ্রমিক কাজ খুইয়েছেন, মাথার ওপরের ছাদ খুইয়েছেন, আয় নেই, খাদ্যের জোগান নেই। প্রথম কয়েকদিন সম্পূর্ণ সহায়হীন হয়ে থাকার পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই পরিযায়ীদের মধ্যে ঘরে ফিরে যাবার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। বাধ্য হয়েই, কেউ শত শত কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বেড়াতে বেরোননি। প্রথম দিকে রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল থেকে পরিযায়ীদের স্রোত নেমেছিল রাজপথে। পরে, পরিযায়ীদের বাধ্য করা হয় তাঁরা যেন যে যেখানে আছেন থেকে যান। কিন্তু তার পরেও তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি সরকারি সাহায্য, ব্যতিক্রমী দু’-একটি রাজ্য বাদে। আবার শুরু হয়ে যায় হেঁটে ফেরার পালা। ফলে ঘটতে থাকে মর্মান্তিক সব দুর্ঘটনা। হেঁটে ট্রেনলাইনেই ঘুমিয়ে পড়া ১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিককে মালবাহী ট্রেনের চাপায় প্রাণ হারাতে হয়। সড়কে লরীর ধাক্কায় ১৫ মে প্রাণ দেন ৬ শ্রমিক। এমন মানবেতর পরিস্থিতে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন এক আইনজীবী। রায়ে আদালত জানায় ‘কে হাঁটছে, কে হাঁটছে না, তা দেখবে কী করে আদালত? এই হাঁটা আমরা থামাবো কী করে?’। সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী অলোক শ্রীবাস্তব রিটে বলেছিলেন ঔরঙ্গাবাদে যেভাবে ১৬ জন ট্রেনের চাকার তলায় পিষ্ট হলেন, তা এখন গভীর বিপর্যয়ের প্রতিই দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে যেন এই মানুষজনকে ঠিকভাবে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করার আদেশ প্রদান করেন। কিন্ত তিন সদস্যের বেঞ্চের বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও সেই আবেদনের উত্তরেই মন্তব্য করেন, কে কোথায় হাঁটছে তা আদালত নজরদারি করবে কীভাবে? কেউ যদি ট্রেনলাইনে শুয়ে পড়ে আমরা আটকাবো কী ভাবে? রিটের বিপরীতে উদ্ভট এমন মন্তব্য ছাড়াও রিটকারী আইনজীবির উথাপিত প্রশ্নগুলো নিয়ে হাসি ঠাট্টা করেন বিচারপতিরা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..