অর্থনৈতিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে ব্রিটেন ও জার্মানি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : ব্রিটেনে বেড়েই চলেছে মন্দার সূচক আর মন্দার দ্বারপ্রান্তে জার্মানি। ব্রেক্সিট পরবর্তী মন্দার পূর্ব সতর্কতা আগেই ছিল ব্রিটেনের। কিন্তু তার সাথে এখন যুক্ত হয়েছে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বিপুল অর্থ ব্যয়। ফলে চরম মন্দাবস্থা যাচ্ছে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে। আর জার্মানিতে পরপর দুটি আর্থিক কোয়ার্টারে জিডিপি কমেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা, ডেস্টাসিস৷ তাদের ঘোষণা মতে জার্মানি এখন মন্দার মধ্যে আছে৷ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বলেছিল মহামারির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন থেকে ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত। এবং স্পষ্টতই মন্দার ভাব বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র ইউরোপের দুই দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে। ইতোমধ্যে ব্রিটেনের ২০২০/২১ অর্থবছরে সরকারের বরোয়িং ২১৮ বিলিয়ন থেকে ২৭৩ বিলিয়ন পাউন্ড বা জিডিপির ১৪% চূড়ান্তভাবে দাঁড়িয়েছে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বৃহত্তম এক বছরের ঘাটতি। করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্রিটেনের অর্থনীতি ৩৫% হ্রাস পেতে পারে এবং বেকারত্বের সংখ্যা ২০ মিলিয়ন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সংকটের মধ্যে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ইউনিভার্সিটিস ইউকে’র (ইউকেকে) হিসাবে গত মার্চের শেষদিকে লকডাউনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৯৯০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে সংকট আরো গুরুতর হতে পারে। উচ্চহারে টিউশন ফি প্রদানকারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা না এলে অথবা লকডাউন অব্যাহত থাকলে সংকট আরো বাড়বে। ব্রিটেনের অর্থনীতিবিদরা বলেছেন করোনায় প্রতিরোধে ব্রিটেনের ব্যয় তার জিডিপির ১০% ছুই ছুই করছে। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগবে। এরফলে মন্দা কাটিয়ে অর্থনৈতিক সূচক কিভাবে উর্ধবমূখী হবে তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। করোনাভাইরাসের মহামারিতে যুক্তরাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৩৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে করোনা দুর্গত দেশে পরিণত হয়েছে দেশটি। আর জার্মানিতে ২০২০ সালে জিডিপি ৬.৬ শতাংশ কমার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা৷ প্রথম কোয়ার্টারে (জানুয়ারি-মার্চ) জিডিপি কমেছে ২.২ শতাংশ৷ ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর এটাই সবচেয়ে খারাপ অবস্থা৷ বিশ্লেষকরা জিডিপি দুই শতাংশ কমতে পারে বলে আশা করছিলেন৷ এছাড়া গতবছরের চতুর্থ কোয়ার্টার, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিডিপি ০.১ শতাংশ কমেছে৷ এর আগে ঐ সময়ে শূন্য প্রবৃদ্ধি হয়েছিল বলে জানানো হয়েছিল৷ করোনার কারণে এ বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে জিডিপি আরও বেশি কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ কারণ করোনা, মোকাবিলা করতে মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের প্রথম পর্যন্ত জার্মানিতে সবকিছুতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল৷ ফলে আর্থিক কর্মকাণ্ড ও উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল৷ এই অবস্থায় কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ দ্বিতীয় কোয়ার্টারে জিডিপি ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমারও আশঙ্কা করছেন৷ জার্মানির অর্থনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি৷ ব্রেক্সিট ও মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে রপ্তানি আদেশ ৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে কিছুদিনের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করে জার্মানি। দেশের ১৬টি প্রদেশের নেতাদের চাপের মুখে লকডাউন বিধি শিথিল ঘোষণা করেছিল ম্যার্কেলের সরকার। এর পরই করোনার সংক্রমণ গতি পেয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল করোনা লকডাউন শিথিল করার কয়েকদিনের মধ্যেই দেশটিতে ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে জার্মানির অর্থনীতির চাকা কবে সচল হবে তা অনুমান করা যাচ্ছে না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..