প্রেনসা ল্যাটিনার নেয়া

যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত কিউবার রাষ্ট্রদূত হোজে র‌্যামন কাবানিয়াজের অনলাইন সাক্ষাৎকার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

৩০শে এপ্রিল ভোরবেলা এক আততায়ী বন্দুক হাতে অতর্কিত হামলা করে বসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত কিউবার দূতাবাসে। এর পর থেকেই ঘটনার নানা ধরণের বিবরণ আসতে থাকে সংবাদমাধ্যমগুলোতে। ওয়াশিংটন শহরের বুকে কিউবান দূতাবাসের ওপর এই হামলা স্তম্ভিত করে দেয় দু’টি দেশের তথা গোটা বিশ্বের অনেক মানুষকে। নিন্দার ঝড় ওঠে গোটা পৃথিবীজুড়ে, মানুষ সংহতি প্রকাশ করে কিউবার প্রতি। ঘটনার সময়কাল ছিলো ভোরবেলা, কাজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সংবাদপত্রে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনার বিভিন্ন ধরণের বিবরণ। ঘটনার নিন্দা জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই স্মরণ করেছেন দেশের বাইরে কিউবান প্রতিনিধিদের ওপর পূর্বে হওয়া নানা হামলার কথা এবং বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাষ্ট্রনেতাদের কিউবার বিষয়ে সমস্ত বিরূপ মন্তব্যকে। কী হয়েছিলো সেদিন দূতাবাসে? শুনবো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত কিউবার রাষ্ট্রদূত হোজে র‌্যামন কাবানিয়াজ-এর কাছ থেকে। :আপনি কি আমাদের বলবেন ঠিক কী হয়েছিলো ৩০শে এপ্রিল ভোরবেলা? র‌্যামন:তখন রাত ২টা ৫মিনিট। একটি গাড়ি এসে ঠিক দূতাবাসের সামনে থামে, যেখানে পার্কিং নিষিদ্ধ। একজন ব্যক্তি চিৎকার করে কিছু একটা বলতে বলতে গেটের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। গেটের কাছাকাছি এসে তিনি গেটের ওপর পতাকাটি ছুড়ে মারেন। চিৎকার করে কী বলছিলেন তা বোঝা যাচ্ছিলো না। এরপর গাড়িতে ফেরত গিয়ে হাতে একটি একে-ফোর্টিসেভেন নিয়ে আবার ফিরে আসেন ফটকের সামনে। ফিরে এসে তিনি দূতাবাসের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকেন। একটি ম্যাগাজিনের অর্ধেক শেষ হওয়ার পর তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করে দূতাবাসের লবির দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। এক পর্যায়ে গুলি শেষ হয়ে গেলে, ফাঁকা রাইফেলটি গেটের ওপর ছুড়ে মেরে আবারও নিজ গাড়ির দিকে অগ্রসর হন। এবার ফিরে আসেন ঘাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পতাকা পেঁচিয়ে নিয়ে। সিক্সটিন্থ স্ট্রিটের মতো একটি বিশাল রাস্তা, যা কি না পাঁচটি লেইন বিশিষ্ট, তার মধ্যখানে দাঁড়িয়ে তিনি নানা অঙ্গভঙ্গি ও চিৎকার করছিলেন। এরপর ২টা ১০মিনিটের দিকে পুলিশ এসে তাকে নিবৃত করে। :কিন্তু আপনি যা বলছেন তা তো পুলিশ রিপোর্টের সাথে মিলছে না। তাহলে আপনি কীভাবে এত দৃঢ়ভাবে বলছেন এরকমই ঘটেছিলো? র‌্যামন: দেখুন, এরকম ঘটনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক পুলিশ রিপোর্টে ভুল তথ্য থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের জন্য দুঃখের বিষয় এই, যে এরকম ভুল তথ্যসহই আর কোনো তদন্ত ছাড়া এই রিপোর্টটি ফাঁস করিয়ে দেয়া হলো। সহকর্মীদের বয়ান ছাড়াও আমাদের কাছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ রয়েছে যা আমরা সিক্রেট সার্ভিসকে ইতোমধ্যেই সরবরাহ করেছি। এই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো আমাদের জাতীয় প্রতীকের প্রতি আততায়ীর অসম্মান এবং নিজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা বহন করায় তার আত্মতুষ্টি, যখন সে চিৎকার করছিলো। :দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া কী ছিলো? তারা কি পুলিশ ডেকেছিলেন? র‌্যামন: গত ষাট বছর ধরে আমাদের ওপর আক্রমণের যে ইতিহাস আমরা বহন করছি, তা থেকে আমরা যথেষ্ট শিক্ষা নিয়েছি। সুতরাং, বহির্বিশ্বের প্রত্যেক কিউবান দূতাবাসের কাছেই এ ধরণের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া আছে। সে নির্দেশনায় পুলিশে খবর দেয়ার কথা যেমন আছে, তেমন কর্মকর্তাদের বাঁচাতে তাৎক্ষণিক সর্বোচ্চ করণীয় সম্পর্কেও বলা আছে। আমরা ততক্ষণাৎ খবর পাই এবং আবাসিক এলাকা থেকে কর্মকর্তাদের একটি দল সাথে সাথেই দূতাবাসের দিকে রওয়ানা হয়। পুলিশ এর মধ্যেই দূতাবাসের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় আমরা পায়ে হেঁটে ভেতরে ঢুকি। আমরা পরে জানতে পারি, আমাদের প্রতিবেশী দূতাবাসগুলো এবং সাধারণ প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয় এবং এরকম প্রকাশ্য গুলির শব্দে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে সহজাত কর্মপদ্ধতি, তার সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়েই পুলিশ সেখানে দ্রুত উপস্থিত হয়। আমরা আগেও বলেছি, পুলিশ এবং সিক্রেট সার্ভিস শুরু থেকেই পেশাদার আচরণ করেছে। : ভেতরে থাকা কর্মকর্তাদের কী অবস্থায় খুঁজে পেলেন? ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছিলো? র‌্যামন: নিরাপত্তার দায়িত্বে থানা সকলেই বরাবরের মতো শান্ত ছিলো। তারা পেশাদার এবং সুপ্রশিক্ষিত। তারা আমাদের জানালো কী ঘটেছে এবং কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রথমেই মনে হলো সে সকল কমরেডদের কথা যারা পূর্বে এমন সব অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। ফেলিক্স গার্সিয়া, আদ্রিয়ানা কর্চো, এরফেন মন্টিয়াগুডো, জিসাস সিজাস, ক্রিসচেনসিও গ্যালানেনা-সহ আরো অনেকের কথা মনে পড়ছিলো। কিন্তু দ্রুতই বাস্তবে ফিরে এসে ভেতরে থাকা কর্মকর্তা/কর্মচারীদের খবর নিতে গেলাম। হ্যাভানায় রাষ্ট্রিয় কর্মকতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ঘটনার ব্যাপারে জানালাম। আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম কারণ আমাদের পরিবার এই ঘটনার কথা প্রথম জানে অনেকটাই খন্ডিত আকারে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর পর আমরা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দেখতে লাগলাম। দেখা গেলো, কাঁচ ভেঙে দশটি বুলেট কয়েকটি দিক থেকে লবি পর্যন্ত পৌঁছেছে। :পুলিশ ছাড়া আর যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো এজেন্সি কি আপনাদের সাথে এর মধ্যে যোগাযোগ করেছে? র‌্যামন: আমরা স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাথে সেদিন ভোরবেলাই যোগাযোগ করেছিলাম। প্রথমবার তারা জানায় তারা এ ঘটনা সম্পর্কে জানেন না, দ্বিতীয়বার তারা প্রতিশ্রুতি দেয় এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং সমস্ত তথ্য তারা আমাদের বিতরণ করবেন। কিন্তু ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এমনটি ঘটেনি। আমরা দু’টি কূটনীতিক বার্তা প্রকাশ করেছি, একটি হ্যাভানায় এবং একটি ওয়াশিংটনে, যার কোনো উত্তর আমরা পাইনি। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অথবা কোনো সেক্রেটারির কাছ থেকে কোনো উত্তর নেই। মাইক পম্পেও এ ঘটনার একদিন পরে কিউবার কথা বলতে গিয়ে কিউবার মেডিকেল ব্রিগেডের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, অথচ সেক্রেটারির সমালোচিত মেডিকেল ব্রিগেডই বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই বলেছেন, তাদের এমন সব কথাই এসব আততায়ীদের সাহস যুগিয়ে চলেছে। :৩০শে এপ্রিলের বাকি দিনটা সম্পপর্কে বলুন। র‌্যামন: একদিকে আমরা সিক্রেট সার্ভিসের ভেতরে ঢোকার অনুমতি সামলাতে ব্যস্ত, অন্যদিকে হ্যাভানাকে নানা তথ্য দিতে হচ্ছিলো সারাক্ষণ। দুপুরে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ্ররা চলে যান। এর আগ পর্যন্ত তারা যথেষ্ট নিষ্ঠার সঙ্গে দূতাবাসের ভেতরের অংশে, বাগানে, ফটকের ভেতরের অংশে, বাইরের অংশে এবং লবিতে কাজ করেছেন। আশা করি কী ঘটেছে সে সমন্ধে তারা যথেষ্ট তথ্য পেয়েছেন। এরপর আমরা আমাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নানা কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ১লা মে’র ছবি নিশ্চই আপনি দেখেছেন, আমাদের কর্মকর্তারা বরাবরের মতোই শান্ত, সুশৃঙ্খল এবং দৃঢ়। সকল কিউবান সুশিক্ষিত, বিশেষত ইতিহাস বিষয়ে। আমরা বুঝি যা হয়েছে তা কিউবার গণমানুষের জন্য কী বার্তা বহন করে, কারণ তারা সর্বক্ষণ আমাদের ভালো-মন্দের খবর রাখেন। : ওয়াশিংটনে আপনাদের সাথে সম্পর্কিত মানুষজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান আমেরিকানদের কাছ থেকে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন? র‌্যামন: সেদিন সকাল থেকেই আমরা সংহতিবার্তা পেতে শুরু করি। মানুষ এই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীর প্রতি ঘৃণা জানিয়েও বার্তা পাঠান। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন নাগরিক এত মাইল গাড়ি চালিয়ে এসে ওয়াশিংটন ডিসি’র মতো শহরের বুকে বন্দুক হাতে প্রকাশ্যে উপস্থিত হলেন এবং একটি দূতাবাসের ওপর গুলিবর্ষণ করলেন। দূতাবাসটি কিন্তু সিক্সটিন্থ স্ট্রিটে অবস্থিত, যে রাস্তাটি সোজা মাত্র দু’মাইল দূরে হোয়াইট হাউজে গিয়ে উঠেছে। আমাদের পাশেই আরো দু’টি দেশের (পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়া) দূতাবাস আছে, কয়েক মিটারের মধ্যেই স্পেন এবং মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। তাছাড়া গোটা এলাকা ঘিরেই আছে বেশ কিছু আবাসিক ভবন। একটি কথা আপনাকে বলতে পারি, গোটা কূটনীতিক মহল, বিশেষত দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় কূটনীতিক মহল এই ঘটনাটিতে যথেষ্ট চিন্তিত এবং ক্ষুব্ধ হয়েছে। আমরা সারা বিশ্বের কিউবানদের কাছ থেকে এবং আমাদের দূতাবাসের সাথে সম্পর্কিত বহু মানুষের কাছ থেকে ফোনকল পেয়েছি। তারা সবাই চিন্তিত এবং ক্ষুব্ধ। : পুলিশের রিপোর্ট বারবার পত্রিকায় আলোচিত হয়েছে। সেখানে আততায়ীর পরিচয়, তার উদ্দেশ্য, ইত্যাদির কথা উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী? র‌্যামন: প্রথমত, রিপোর্ট ফাঁস হওয়াটা দুঃখজনক। যে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আমাদের সাথে এই কেইসে কাজ করছেন তারাও এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। আমরা জানি না কারা এটা করেছে, কী তাদের উদ্দেশ্য, তবে এটুকু নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে তদন্তে সহায়তার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আততায়ীর পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য আসেনি, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা অনুচিৎ। বোঝাই যাচ্ছে যে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পুলিশের কাছ থেকে আসার আগেই কেউ গণমাধ্যমের কাছে ঘটনাটিকে একটি বিশেষভাবে উপস্থাপণ করতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রে সকল তথ্য ফাঁস হয় না, যে তথ্য ফাঁস করতে কোনো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা আগ্রহী, শুধু সেটাই ফাঁস হয়। আপাতত একটাই কথা বলতে পারি, যে অপরাধ ধরণগতই জঙ্গিবাদ, তাকে কোনো যুক্তিতেই জায়েজ করা সাজে না। এমন একটি আলাপ উঠেছে যে আততায়ী মানসিক বিকারগ্রস্থ এবং কিছু লোক ইতোমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছেন এটা দিয়ে তৈরি হতে পারে টেলিভিশনের জন্য একটি অসাধারণ ধারাবাহিক নাটক। কিন্তু এটা বিশ্বাস করা একটু কষ্টকর যে মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মানুষের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকবে, অথবা সে ম্যাপ দেখে এত দূর গাড়ি চালিয়ে এসে ঠিক জায়গায় থামবে এবং তার পাগলামির ছিটেফোঁটাও পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পর আর থাকবে না। একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষ, যিনি কিন্তু খুব ভালো মতো সোশ্যাল মিডিয়াও চালাতে জানেন! কিউবান মন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ ওইদিনই এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন যে সাম্প্রতিক কিউবা-বিরোধী নানা আলাপ কোনো ব্যক্তি মানুষকে এমন কাজে লিপ্ত হতে উৎসাহের উৎস হতে পারে। কীভাবে দেখেন? ইতিহাস নিজেই এর স্বাক্ষ্য দেবে। আপনি যদি পূর্বে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনাবলির তারিখগুলো মিলান, তাহলেই দেখতে পাবেন কিউবান দূতাবাস বা কর্মকর্তাদের ওপর হামলাগুলো এমন সব সময়কালে হয়েছে যখন কিউবার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রিয় নেতারা সর্বোচ্চ নিন্দনীয় কটুক্তিগুলো করছিলেন। এই আততায়ীরা শুধু রাজনৈতিকভাবেই উৎসাহিত নয়, বরং তারা এসব মুহূর্তকেই সবথেকে ভালো মনে করেন কারণ এই সময়গুলোয় তাদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগও বেশি। যখন আপনি দেখেন প্রতিদিন, আক্ষরিক অর্থেই প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কথার বানে কিউবাকে আক্রমণ করছেন, নিষিদ্ধের খাতায় নাম ওঠানোর প্রক্রিয়া আবারও নতুন করে চালাচ্ছেন, যখন আমরা নিরলসভাবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি, আর এদিকে এই কর্মকর্তারা ভয়ংকর অনাদর্শিক পন্থায় আমাদের স্বাস্থ্যনীতি আর মেডিকেল ব্রিগেডকে নির্লজ্জ আক্রমণ করেই যাচ্ছেন, তখন বলতেই হয়, এই শাব্দিক আক্রমণই জঙ্গিদের অস্ত্র তুলে নিতে উৎসাহ যোগায়। :হোসে মার্তির ভাস্কর্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দূতাবাসের অভ্যন্তরে আরো অনেক কিছুই আর আগের মতো নেই। কর্মকর্তাদের এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া কী ছিলো? র‌্যামন: আমাদের মার্তির ভাস্কর্যটি শিল্পী হোসে ভিলার একটি অনন্য সৃষ্টি, এটির বর্তমান রূপ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ লাজারো ভাজকুয়েজ। ১লা জুলাই আমরা এটিকে এখানে স্থাপন করেছিলাম এবং সেই দিনটি স্থানীয় কিউবান-আমেরিকানদের জন্য একটি উৎসবে পরিণত হয়েছিলো। মার্তি কিউবানদের জন্য রাজনৈতিক বা ভৌগলিক পরিচয় নির্বিশেষে ভীষণ পবিত্র। পতাকাদন্ডেও গুলি লেগেছে, অথচ এটা খুব অল্প সংখ্যক দেশগুলোর মধ্যে একটি পতাকা যারা যুক্তরাষ্ট্র-সহ গোটা বিশ্বে করোনা মহামারীতে মৃতদের স্মরণে তাদের পতাকা অর্ধনমিত রাখে। আর অন্দরমহলের প্রসঙ্গে বলতে পারি, মূল ফটক এবং কলামগুলোর আগের সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট শ্রম দিতে হয়েছে। ২০১৯ সালে এই স্থাপনাটির বয়স একশো বছর পেরিয়েছে। এই স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণে কিউবা বরাবরই যত্নবান এবং অনেক ব্যয় আমরা এর জন্য করে থাকি। ওয়াশিংটন আমাদের এ ব্যাপারে তারিফও করে থাকে প্রায়ই, কারণ আমরা সকলেই একটি প্রদেশে আছি, যেটা ঐতিহাসিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যারা ২০১৫ সালের ২০ জুলাই দূতাবাসটির পুনরায় খোলার অনুষ্ঠানে ছিলেন, তারা সকলেই এই স্থাপনাটির প্রসংশা করে গেছেন। সোজা কথায়, আমাদের অনেক প্রতীকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাহলে কি কেউ এসব ধবংস করে ফেলার মতলব আঁটছেন? উত্তর হলোঃ তাদের এ পরিকল্পনা কখনোই সফল হবে না। সাক্ষাতকার গ্রহণ: ৬ মে, ২০২০ [অনুবাদঃ ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ]

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..