২০ মে’র মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়ার আহ্বান

‘সুযোগ বুঝে শ্রমিক ঠকানোর পথ ত্যাগ কর’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : ঈদের আগে শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা এবং আইন অনুসারে বেসিকের সমান ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। গত ১৫ মে বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ২০ মে’র মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেসিকের সমান ঈদ বোনাস এবং মার্চ-এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা একইসাথে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে করোনা মহামারীকালে সকল ছাঁটাইকৃত শ্রমিককে পুনর্বহাল, শ্রমিকের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মরত অবস্থায় করোনা সংক্রমিত হলে সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। গার্মেন্ট টিইউসির সভাপতি মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মিন্টুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, সাইফুল্লা আল মামুন, মঞ্জুর মঈন, রেদোয়ানটেক্স কারখানার শ্রমিক মোশাররফ হোসেন, ড্রাগন সোয়েটার কারখানার শ্রমিক আমিনুল ইসলাম, প্যারাডাইস ক্যাবল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ বলেন, দেশের গার্মেন্ট শিল্পের মালিকরা শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে এক লাইনের কারখানা থেকে দশটা কারখানার মালিক হয়েছে। তবুও তাদের দুঃখের দিন শেষ হয় না। তারা মহামারীর সুযোগ বুঝে শ্রমিকের পাওনা টাকা মেরে দেয়ার চক্রান্ত করছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে শ্রমিকের ভাগের টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ তাদের দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, যেই দেশগুলোর রাষ্ট্রক্ষমতায় শ্রমিক শ্রেণির সরকার আছে সেখানে শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আর আমাদের দেশে সরকার প্রধান

সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে, আবার তারই লোকেরা শ্রমিকদের ডেকে বলে কাজ করো। মন্টু ঘোষ শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেয়ার জন্য মালিক ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে শ্রমিকনেতা রুহুল আমীন বলেন, শ্রমিকরা তার গোটা জীবনী শক্তি ক্ষয় করে মালিকদের সকল ভোগ বিলাসের অর্থ যোগান দেয়, অথচ এই মহামারী পরিস্থিতিতেও শ্রমিকের একমাসের মজুরির দায়িত্ব মালিকরা নিতে পারে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শ্রমিককে পূর্ণাঙ্গ বোনাস না দিয়ে যদি ঈদের দিন তাদের রাস্তায় নামানো হয় তাহলে শ্রমমন্ত্রী ও মালিক সমিতির নেতাদেরও রাস্তায় ঈদ করতে হবে। সমাবেশে শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে শ্রমিক ছাটাই অব্যাহত আছে এবং কারখানায় শ্রমিকের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, আক্রান্ত হলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিকরা আক্রান্ত হলে তার সুচিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সমাবেশে গার্মেন্ট টিইউসির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার বলেন, মালিকরা এপ্রিলের বেতন ৩৫ শতাংশ কেটে নিয়েছে, এখন বোনাস কেটে রাখার পাঁয়তারা চলছে। মালিকরা এই করোনা মহামারী পরিস্থিতিকে একটা সুযোগ হিসেবে নিয়ে শ্রমিক ঠকিয়ে মুনাফার হার বৃদ্ধি করতে ন্যাক্কারজনক সব কাজে লিপ্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই মহা দুর্যোগকালে মালিকরা শ্রমিকদের আন্দোলনে ঠেলে দিয়েছে। এত লম্বা সময়ধরে লাগাতারভাবে প্রতিদিন পাঁচ সাতটা কারখানার শ্রমিক রাস্তায় থেকেছে এমন অতীতে কখনো হয়নি। তিনি মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সুযোগ বুঝে শ্রমিক ঠকানোর পথ ত্যাগ করে ২০ মে’র মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বোনাস ও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করুন। এর আগে গত ১৪ মে শ্রম

মন্ত্রণালয়ের ডাকা ত্রি-পক্ষীয় সভার পর দেয়া বিবৃতিতেও গার্মেন্ট টিইউসি ২০ মে’র মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বেসিকের সমান বোনাস দেয়ার দাবি জানান। শ্রম মন্ত্রণালয়ের ডাকা ত্রি-পক্ষীয় সভায় এদিন গার্মেন্ট টিইউসিসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনসমূহ আইন অনুসারে বেসিকের সমান ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি তুলে ধরে। কিন্তু মালিকপক্ষ সে অনুসারে বোনাস দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে ক্ষোভ জানিয়ে দেয়া বিবৃতিতে শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ ও জলি তালুকদার বলেন, চলমান মহামারী পরিস্থিতির আঘাতে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে শ্রমিকদের আইনসঙ্গত পাওনাসমূহ পরিশোধ করা না হলে আক্ষরিক অর্থেই গার্মেন্ট শ্রমিকদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবেনা। নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্মেন্ট টিইউসিসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠন বছরের পর বছর শ্রমিকদের জন্য রেশন ও বাসস্থানের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু দেশে অদ্যবধি শ্রমিকের জন্য রেশন-বাসস্থান কিংবা অন্য কোন ধরণের সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে বেতন-ভাতাই দেশের শ্রমিকের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এমতাবস্থায় চলমান করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে শ্রমিকের হাতে অর্থ না পৌছালে তার পক্ষে বাড়ি ভাড়া এবং খোরাকি ব্যয় যোগান দেয়া সম্ভব হবে না। যার ফলে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ রপ্তানি আয় করা গার্মেন্ট শিল্পের দক্ষ শ্রমশক্তি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির শিকার হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সামগ্রিক অর্থনীতির বিবেচনায় সমাজের ৭০ ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে এই মুহূর্তে টাকা পৌছানো সম্ভব না হলে এই বৈশ্বিক মহাবিপর্যয়ের সময়ে তার চরম মূল্য দিতে হবে; যা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির দিকেও গড়াতে পারে। তাই দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে, নিম্ন আয়ের মানুষের আয় কর্তনের নীতি থেকে এখনই সরকারকে সরে আসতে হবে।
প্রথম পাতা
সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা জীবন-জীবিকাকে হুমকিগ্রস্ত করেছে
‘আর একজন মানুষও যেন বিনা চিকিৎসায় না মরে’
সারাদেশে বিদ্যুতের `ভুতুড়ে বিল’ ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশে সিপিবির ক্ষোভ
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের নয়া ষড়যন্ত্র, বাম জোটের উদ্বেগ-প্রতিবাদ
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সিপিবি’র হুঁশিয়ারি
অপচয় রোধ না করে যারা শিল্প বন্ধ করে তারা ‘গণশত্রু’
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ হবে ‘ধ্বংসাত্মক ও আত্মঘাতী’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ প্রগতিশীল ছাত্র জোটের
ভাষা সংগ্রামী ন্যাপ নেতা এম এ রকীবের মৃত্যু, সিপিবির শোক
এক বছরেই নতুন কোটিপতি ৮২৭৬ জন
১৩ মাসের বকেয়ার দাবিতে প্যারাডাইস কেবলসের শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলন

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..