জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় উঠছে নারী ও শিশু

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মহেশখালী সংবাদদাতা : মহেশখালী-কক্সবাজার জেটিঘাটের যাত্রীদের ভোগান্তি শেষ হবে কবে? জেলার সঙ্গে মহেশখালী দ্বীপের যাতায়াতের একমাত্র পথ নৌ-রুটের, দু’ঘাটের চিত্র দেখলে মনে হয় এখানে কোন সরকারের কর্তৃপক্ষ নেই। ২০টির অধিক স্পিড বোট ঘাটে মজুদ থাকলেও শতশত যাত্রীর অনুরোধে কেন ভাড়ায় ব্যবহার হচ্ছে না সে বিষয়টি জানার কারো অধিকার নেই। যার যেমন ইচ্ছা তেমনিভাবেই চলছে ঘাটের চলাচল। যাত্রী অধিকারে তোয়াজ নেই বোট মালিক ও সরকারী কর্তৃপক্ষের। জেটি ঘাটের-এ বিড়ম্বনার শেষ কোথায়? নীরব প্রশাসন। বোটে উঠতে পারা যেন যুদ্ধ জয়ের সমান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বোটে উঠছে নারী শিশুসহ সাধারণ মানুষ। উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী-কুতুবদিয়ার জনমানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটে ব্যাপক নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী হয়রানির মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এখানে দুইটি ঘাটে একাধিক বোট থাকলেও মালিক-কর্তৃপক্ষের একঘেয়েমি সিন্ডিকেটবাজির কারণে খেয়া পারাপারে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার-মহেশখালী ফেরিঘাটের ইজারা প্রথা বাতিল হওয়ায় এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে সরকার যেমন হারাচ্ছে রাজস্ব তেমনি মহেশখালীর সাধারণ মানুষ ওই ঘাটের খাস কালেকশনের নামে প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এখানে সরকারি খাস কালেকশনের আড়ালে সম্প্রতি টোল আদায়ের মূল দায়িত্ব আবারও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে চলে যাওয়ায় এনিয়ে সিন্ডিকেটের বাইরে অবস্থান করা সাধারণ বোট মালিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। ফলে মহেশখালীর সাড়ে ৪ লাখ মানুষসহ প্রতিদিন যুক্ত হওয়া হাজার হাজার পর্যটক দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জানা গেছে, বিগত ২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল বাংলা ১৪১৭ সালের জন্য ঘাটটি সর্বোচ্চ দরে ইজারা পেয়েছিলেন মহেশখালীর ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম। সেসময় ঘাটটির ইজারা বাবদ সরকার মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার রাজস্ব পেয়েছিলেন। নানা টানাপোড়েনের জের ধরে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আদেশে ইজারা ও এই ইজারা পদ্ধতি বাতিল করা হয় বলে সূত্রে প্রকাশ। ইজারা বাতিলের জন্য আদালতে জনস্বার্থে আবেদনটি করেছিলেন মহেশখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র মকছুদ মিয়া। তবে জনস্বার্থের নামে মামলাটি হলেও পরবর্তীতে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত ব্যবসায়িকভাবে ভাল লাভবান হচ্ছে ওই পক্ষটির সঙ্গে যুক্ত থাকা লোকজনই-এমন অভিযোগ একাধিক সূত্রের। অভিযোগ রয়েছে বর্তমানে এই খাস কালেকশন পদ্ধতিটি টিকিয়ে রাখতে ওই মহলটির সঙ্গে গোপনে আতাত করে চলেছেন সঙ্গবদ্ধ সিন্ডিকেট। এতে ফেরি পারাপারে ভুক্তভোগীরা মনে করেন ‘যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ’ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন রাজনৈতিক পালাবদলের মাঝে যেসব ব্যক্তিগণ মহেশখালী উচ্চ ক্ষমতায় আসীন হন না কেন এইসব ঘাটের ইস্যুতে ব্যবসায়িক অর্থের যোগসূত্রতায় তারা নৈতিক ও জনগণের কাছে প্রতিশ্রুত অবস্থান থেকে সরে এসে নীরব দর্শকের ভূমিকায় লিপ্ত হন বলে সাধরণ মানুষের অভিমত। এদিকে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়েছিল, উচ্চ দরে ফেরিঘাট ইজারা দিলে জনগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আদালত বাদীর আর্জির প্রতি আস্থা রেখে ইজারা বাতিলের আদেশ দেন। এরপর থেকে শুরু হয় বহুল আলোচিত এই খাস কালেকশন। অভিযোগ রয়েছে বর্তমানে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, ইচ্ছামতো টোল আদায়, নৌযানের সিরিয়াল প্রদানসহ নানা স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ যাত্রীরা। তারা বলেন বর্তমানে বোটের সিরিয়াল মানা হচ্ছে না। সিন্ডিকেটের বোটগুলো দৈনিক ৫ থেকে ৭টি ট্রিপের ছাড় পেলেও অন্যান্য বোট মালিকদের ট্রিপ দেয়া হচ্ছে নামে মাত্র ফলে অনেক সময় ঘাটে বোট থাকলেও সিডিউল না থাকার কারণে যাত্রীদের নিয়ে গন্তব্যে ছেড়ে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন একাধিক স্পিড বোটচালক। সঙ্গে সঙ্গে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দেশ-বিদেশ থেকে মহেশখালী আসা পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীর। এই নৌ-রুট ব্যবহারকারী নিয়মিত যাত্রীরা জানান, খাস কালেকশনের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে রাজস্ব আদায় হলেও পূর্বেকার ইজারাদারের চেয়ে কোন টোল এক কড়িও কমানো হয়নি। বাড়েনি যাত্রী সেবার মান ও ধরন। সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে সপরিবারে প্রথম বারের মতো মহেশখালী বেড়াতে আসা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাবুল আহমেদ ও চট্টগ্রাম শহরতলী থেকে আসা সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জানান পৃথিবীর অনেক দেশে আমাদের ভ্রমণ হয়েছে। কিন্তু দেশের ভেতরে মহেশখালী বেড়াতে এসে পদে পদে যে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তা আজীবন মনে থাকার মতো। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দোষারোপ করেন স্থানীয় গণমাধ্যমের। নিয়ম মতো একটি রুটে যাতায়াতের জন্য কোন যাত্রীকে একটি নির্দিষ্ট অংকের ভাড়া প্রদান করতে হয়। যাত্রীদের প্রদেয় এই ভাড়ার বিপরীতে যতায়াত গন্তব্যে তাকে পৌঁছে দেয়ার কথা। সেক্ষেত্রে একজন যাত্রীকে মহেশখালী আসতে হলে এই নিয়ম ডিঙ্গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। এখানে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভাড়া দিয়েও ঘাটে ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করা হচ্ছে অযৌক্তিকভাবে বাড়তি টাকা। এর ব্যত্যয় ঘটলে যাত্রী সাধারণকে চরম নাজেহাল হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..