তজুমদ্দিনে কমছে বোরো আবাদ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ভোলা সংবাদদাতা : উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম, যথাসময়ে খালে পানি না পাওয়ায় সহ নানা প্রতিবন্ধকতায় চলতি মৌসুমে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ফলে বোরো চাষে আগ্রহ হারিয়েছে এ অঞ্চলের চাষিরা। গত বছরের তুলনায় এবছর বোরো আবাদ কমছে প্রায় ১৩শ হেক্টর জমি। বোরো চাষের পরিবর্তে লাভজনক ফসল হিসেবে এবছর সরিষা, ডালসহ বিভিন্ন রবি ফসলের চাষাবাদ বাড়িয়েছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ব্যাপক হারে বোরা চাষাবাদ করেন কৃষকেরা। ২০১৯ সালে ৪০টি ব্লকে প্রায় ২ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়। চলতি মৌসুমে (২০২০ সালে) ২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নিধারণ করলেও চাষাবাদ হয়েছে ৬-৭শ হেক্টর জমিতে। ফলে এবার সেই লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি বোরো আবাদে। গত বছরের তুলনায় বোরো আবাদ কমছে প্রায় ১৩শ হেক্টর জমি। এদিকে বোরো আবাদ কমলেও লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমান চাষাবাদ হয়েছে সরিষা, ডাল, আলুসহ বিভিন্ন রবি ফসল। একাদিক কৃষকের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, বোরো চাষাবাদের অনেক খরচ হয় । কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হয়। এজন্য এবার তারা বোরো চাষাবাদের পরিবর্তে অধিক পরিমাণে রবিশস্য চাষাবাদ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় প্রায় ১০টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ খাল খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী মহল খালের দুই পাশ ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করায় শুল্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে সময়মতো পানি না পেয়েও অনেক ব্লকে এবার বোরো আবাদ হয়নি। শম্ভুপুর কোড়ালমারা গ্রামের কৃষক বাছেদ মাতাব্বর বলেন, গত বছর ৩ একর জমিতে বোরো ধান করি। উৎপাদন অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু জমি সেচ দেওয়া থেকে শুরু করে ঘরে ফসল তোলা পর্যন্ত যে পরিমাণ খরচ হয় তাতে লাভের পরিবর্তে লোকসান হয়। তাই অন্য ফসলের আবাদ বাড়িয়ে নিজের চাহিদা মেঠানোর জন্য এবছর ১ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। ব্লক ম্যানেজার আবদুল ওহাব মিঝি জানায়, তার ব্লকে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করে কৃষকেরা। প্রতি কড়া জমিতে জমি লগ্নি বাবদ, পানি, বীজতলা রোপণ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা বাবদ প্রতি কড়া (৮ শতাংশ) জমিতে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ধান উৎপাদন হয় ৫ মণ যার বিক্রয় মূল্যে হয় ২২শ থেকে ২৫শ টাকা। ধানের মূল্য কম হওয়ায় কৃষকেরা খরচ উঠাতে না পেরে তারা বোরো ফসল থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাই এববছর আমার ব্লকে কেউ বোরো চাষাবাদ করেনি। উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের বাজার মূল্য কম হওয়া কৃষকেরা ধান চাষ করে কম লাভবান হয় । এজন্য বোরো আবাদে তাদের তেমন আগ্রহ নেই। তারা লাভজনক ফসল হিসেবে ডাল, আলু, শাকসবজি, ভুট্টা, তেলসহ রবিশস্য চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত হোসেন বলেন, ভুট্টা, সরিষা ও তৈল জাতীয় ফসলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতনতা আসায় বোরো চাষাবাদের পরিবর্তে এ জাতীয় ফসলের পরিকল্পনা তারা পরিবর্তন করেছে। এছাড়া খালে পানির পরিমান কম থাকায় ধানের আবাদ কমছে। যদি দখলকৃত খালমুক্ত এবং খননের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ধানের আবাদ আরো বাড়তে পারে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..