কারখানার বিষে নষ্ট হচ্ছে ফসল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : ১০ বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে ৫ বিঘাতে ধান (বোরো-২৯) চাষ করেছিলেন কৃষক আব্দুল মান্নান। বাকি ৫ বিঘাতে সবজি। সবই এখন পানির নিচে। আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বিষ্যুদবার বান দিছে। হেরপর থেইকা হুরহুর কইরা কালা পানি ঢুইকা পড়ে। সব পইচ্চা গেছে। দেহেন, মাছ সব মইরা ভাইসা উঠতাছে। আমাগো সব শ্যাষ।’ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের পিলকুনি এলাকায় ৩০ বিঘা আবাদি জমি শিল্প বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে তলিয়ে গেছে। জমিতে চাষ করা হয়েছিল ধান, লাল শাক, পালং শাক, পুঁই শাক। সঙ্গে ছিল রুই, তেলাপিয়াসহ কয়েক প্রজাতির মাছ। পার্শ্ববর্তী খালে বাঁধ দেয়ার কারণে শিল্পবর্জ্য মিশ্রিত পানি জমিতে ঢুকে পড়ায় পঁচে গেছে ধান ও সবজি, মরে ভেসে উঠছে মাছ। এতে ওই এলাকার ১১ কৃষকের কপালে হাত। তারা জানালেন, প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে তাদের। সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ মার্চ পেয়ারাবাগান এলাকায় নন্দলালপুর খালে ডিএনডি প্রকল্পের আওতায় কালভার্ট নির্মাণের জন্য বাঁধ দেয়া হয়। প্রবাহে বাধা পাওয়ায় খালের শিল্প বর্জ্যমিশ্রিত পানি ঢুকে পড়ে তাদের জমিতে। পরদিন জালকুড়িতে ডিএনডি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন কৃষকরা। ১৬ মার্চ বাঁধ খুলে দেয়া হলেও নিচু জমি হওয়ার কারণে পানি সরেনি। এদিকে নষ্ট হয়ে গেছে ফসল, ভেসে উঠছে মরা মাছ। কৃষক জিয়া রহমান বলেন, ‘পানি ঢোকার পর তিন-চাইর দিন খালি বান ছুড়ানোর লাইগা দৌড়াইছি। এখন বান খুললেও কাম হইবো না। এই পানি আর যাইবো না। আর গেলেই বা কী, সব তো পইচা গেছে।’ জিয়া আরও জানান, দুই মাস আগেও একবার খালে বাঁধ দেয়া হয়েছিল। সে সময়ও জমি তলিয়ে গিয়েছিল। ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, পানিও সরছে না। উপায় না দেখে দৈনিক ৫০০ টাকায় দিনমজুরের কাজ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত আরেক কৃষক মন্নান মিয়া। তিনি বলেন, ‘দেনা কইরা মাছের পোনা ছাড়ছি, ধান লাগাইছি। মাছ বেঁইচা ট্যাকা দিমু ভাবছি। এহোন ময়লা পানি ঢুকছে। ধান মরছে, মাছ মরছে। এই মজুরির কাম কইরা সংসার চালামু নাকি দেনা শোধ করমু ? কিছুই বুঝতাছি না।’ এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মন্টু মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিন পরপরই পানিতে প্লাবিত হই আমরা। বিভিন্ন সময় জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আমরা ইচ্ছা করলেও অনেক কিছু করতে পারি না। দুইজন কৃষক আমার কাছে আসছে। আমি তাদের সেনাবাহিনী ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিছি।’ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ‘আমাকে কেউ এ বিষয়টি জানায় নাই। এখনও আমি সরেজমিনে যাইনি। তবে আমি খোঁজ নিচ্ছি।’ডিএনডি প্রকল্পের জালকুড়ি ক্যাম্পে কথা হয় ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদের সাথে। তিনি জানান, পেয়ারাবাগানে ডিএনডি প্রকল্পের ৫৬ নম্বর কালভার্টটি নির্মাণ করা হবে। সেজন্য বাধ দেয়া হয়েছিল। ডিএনডি প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রজেক্ট ম্যানেজার জিয়াউল হক বলেন, ‘কৃষকরা জমিতে পানি ঢুকে যাওয়ার বিষয়টি জানালে বাধ খুলে দেয়া হয়। কিন্তু ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানি না। আমি আবার লোক পাঠাচ্ছি। মানুষের ক্ষতি করে তো আর কাজ করা যাবে না। যেভাবে মানুষের ভালো হবে সেভাবে করা হবে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..