বজ্রপাত থেকে কৃষকের জীবন বাঁচাবে ‘সেইফ জোন’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রকৃতি ডেস্ক : গাছপালা কমে যাওয়া ও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বজ্রপাতের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা। কারণ মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের প্রাণহানিই ঘটে সবচেয়ে বেশি। আর এক মাস পরই মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা বাড়বে, শুরু হবে বজ্রপাতও। বজ্রপাত থেকে জীবন বাঁচাতে ‘পোর্টেবল লাইটনিং প্রোটেকশন সেইফ জোন’ আবিষ্কার করেছে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)। এটা মূলত খোলা আকাশের নীচে বজ্রপাত থেকে কৃষকের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ করেই একজন কৃষক বজ্রপাতের আগুণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। কৃষি মাঠে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার গুরুত্ব বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। কারণ মৃত্যুর সংখ্যা অনুযায়ী ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ সাধারণ মানুষ বা গ্রামগঞ্জের কৃষক শ্রমিক, জেলে শ্রেণি। তার মাধ্যে কৃষি কাজে সম্পৃক্তদের নিহতের হার ৭৪ শতাংশ। ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে ধান কাটা, রোপন করা ও কৃষি সংযুক্ত কাজে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে একই সঙ্গে চারজন। মাঠে কাজ করার সময় কাছাকাছি কোনো নিরাপদ স্থাপনা না থাকায় বজ্রপাতের সময় কৃষক অরক্ষিত হয়ে যান। হাওর অঞ্চলের কৃষকরা আরও বেশি অসহায়। নিরাপদ স্থান পেতে কৃষকের তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে। এসব কৃষককে সুরক্ষা দেবে ‘সেইফ জোন’। আইডিইবি সূত্র জানায়, পোর্টেবল লাইটনিং প্রোটেকশন সেইফ জোনে মাত্র ১০ হাজার টাকায় ১০০ জন কৃষকের জীবন রক্ষা পাবে। মূলত একটি বাঁশের মাথায় এয়ার টার্মিনাল থাকবে। মাটির সঙ্গে সংযুক্ত করে ধাতব বস্তু দিয়ে মাটিতে আর্থিংয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে এয়ার টার্মিনাল থেকে নিচের দিকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে একটি প্রটেকশন জোন তৈরি হয়। এয়ার টার্মিনাল সাধারণত স্থাপনার ওপরে সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় বসানো হয়। প্রকল্পের আওতায় সমস্ত ব্যবস্থা করবে আইডিইবি। শুধু ব্যবহারকারীরা এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। জানা গেছে, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বজ্রপাতে ৬ হাজার ৭৪২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ৫ বছরেই বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৭৮ জন। গাছপালা কম থাকায় সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নওগাঁ, দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতের হার বেশি, নিহতের সংখ্যাও বেশি। ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। আইডিইবি সূত্র জানায়, বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৮ সালেই বজ্রপাতে ৪৪৯ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম নিহত হয়েছেন ২০১৯ সালে (১৯৬ জন)। ২০১৫ সালে ২৭৪, ২০১৬ সালে ৩৮৭ ও ২০১৭ সালে নিহত হয়েছেন ৩৭২ জন। এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেশি। বিগত পাঁচ বছরে এপ্রিলে ১৮২, মে মাসে ৫৪৯, জুনে ২৮০ ও জুলাই মাসে ১৭৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে মৃত্যুহার কম জানুয়ারি, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে। আইডিইবি সূত্র জানায়, দক্ষিণ বঙ্গপসাগর থেকে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ, উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে পুঞ্জীভূত মেঘ, বায়ুদূষণ, মোবাইল টাওয়ার হতে উৎপন্ন অতি মাত্রার ম্যাগনেটিক ফিল্ড ওয়েব, বন-জঙ্গল উজাড় ও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বজ্রপাত বাড়ছে। বজ্রপাতে নিহত হওয়া প্রসঙ্গে আইডিইবি রিসার্চ ফেলো প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীতে তাপমাত্রা বাড়ছে। বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশে বাৎসরিক প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বজ্রপাতের প্রবণতার হার ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের হার বেশি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন কৃষকরা। হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতে থেকে ?সুরক্ষা দিতে পোর্টেবল লাইটিং প্রোটেকশন সেইফ জোন ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা মাঠের মাঝখানে থাকবে বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলেই কৃষকেরা এই জোনে প্রবেশ করবেন। মাঠের আয়তন অনুযায়ী এটা স্থাপন করা যেতে পারে। একটা সেইফ জোনে ১০০ জনের জীবন রক্ষা পাবে। কৃষকের সুবিধা অনুযায়ী এগুলো স্থাপন করা যাবে। প্রকল্পের আওতায় কম খরচে বজ্রপাত থেকে সেইফ জোন জীবন রক্ষা করতে পারবে। মাঠে সেইফ জোন থাকলে চাষিরা মাঠেও মনবল নিয়ে কাজ করতে পারবেন।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..