অন্য প্রাণকে বিবেচনায় না নিয়েই এ দুর্যোগ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

নেলসন : মানুষ তার ক্ষমতা নিয়ে গর্বিত। প্রতি মুহূর্তে নানাভাবে পৃথিবীকে পদানত করার গৌরব প্রচার করাটা অনেক দিন ধরেই মানুষের স্বভাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই আত্মগৌরব প্রচারের প্রবণতায় মানুষ ভুলে বসে আছে, পৃথিবীতে সে-ই একমাত্র প্রাণ নয়। আরও কোটি প্রাণ এই মাটি-জল-হাওয়াতেই বিচরণ করে। এই ভুলে থাকা মানুষ প্রতিনিয়ত অন্য প্রাণের বিচরণস্থল, অস্তিত্বকে বিপন্ন করেছে। একই সঙ্গে ধ্বংস করেছে তার সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে বেঁচে থাকা অন্য প্রাণকেও। এই মিথজীবীদের অস্তিত্ব বিপন্ন করার মধ্য দিয়ে নিজে যে বিপন্ন হচ্ছে, তা কখনো ভেবে দেখেনি। এখন করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপ ও মৃত্যুর মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে এই বিষয়টিই ভাবতে বাধ্য হচ্ছে সে। মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জীববৈচিত্র্য। আর এই ক্ষতিই এখন চোখ রাঙাচ্ছে মানুষকে। করোনাভাইরাসকে তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ের নতুন মহামারি যুগের সূচনা। তাঁরা বলছেন, এখন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারি রোধই প্রধান কর্তব্য হলেও এটিকেই শেষ ভাবাটা ভুল হবে। এটি নতুন এক মহামারি যুগের সূচনাই বলা যায়। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই করোনাভাইরাস এরই মধ্যে বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে আগেই। ইরান ও ইতালির পরিস্থিতি ভয়াবহ। বাজে পরিস্থিতি ফ্রান্সেও। বাংলাদেশে এরই মধ্যে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকাসহ বিশ্বের কোনো প্রান্তই আর এ ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত নয়। এই যে পরিস্থিতি, এর শুরুটা কিন্তু অসতর্কতা থেকেই। আরও ভালো করে বললে, আশু সংকটকে অবহেলা করাই এর ভিতটি তৈরি করেছে। ২০১৮ সালে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সভায় গবেষণা সংস্থা আরঅ্যান্ডডি ব্লুপ্রিন্টের বিশেষজ্ঞ দল প্রথম ‘ডিজিজ এক্স’ নাম দিয়ে পরবর্তী মহামারি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, পরবর্তী মহামারিটি কী থেকে উদ্ভূত হবে, তা জানা নেই। কিন্তু এর আশঙ্কা প্রবল। অজানা সেই জীবাণুরই নাম তাঁরা দিয়েছিলেন, ‘ডিজিজ এক্স’। তাঁরা বলেছিলেন, চেনা কোনো জীবাণু থেকে পরবর্তী মহামারি হওয়ার আশঙ্কা কম। আর তেমন হলেও চেনা শত্রুর বিষয়ে মানুষের মোটামুটি পস্তুতি থাকে। মুশকিল হচ্ছে অজানা জীবাণু নিয়ে। সে সময় গবেষকেরা এমনকি এও বলেছিলেন যে, এই ডিজিজ এক্স কোনো প্রাণীদেহ থেকে আসা ভাইরাস থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁরা বলেছিলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হওয়ার কারণে আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণীর সংস্পর্শে আসছে মানুষ। ফলে বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে থাকা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে। শুধু সে সময়ই নয়, বিভিন্ন সময়ই বিজ্ঞানীরা অজানা রোগের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করে আসছিলেন। তাঁরা বারবার বলেছেন, অজানা অচেনা জীবাণু সৃষ্ট রোগ নীরবে ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মানুষের প্রস্তুতি এখনো যথেষ্ট নয়। তাঁদের প্রস্তাব ছিল, কোনো রোগের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে, সম্ভাব্য ক্ষতিকর জীবাণু প্রতিরোধ ও তা থেকে সৃষ্টি হতে পারে এমন সম্ভাব্য রোগের নিরাময়ের বিষয়ে আগে থেকেই গবেষণা করা উচিত। বিজ্ঞানীরা এও বলেছিলেন যে, অন্য প্রাণীর বিচরণস্থল মানুষ যেভাবে দখলে নিচ্ছে, তাতে প্রাণীজগতের শৃঙ্খলাই বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে। কারণ, এমন অনেক অনুজীব রয়েছে, যা কোনো প্রাণীর শরীরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। মানুষের শরীরেও এমন নানা অনুজীব বাস করে, যা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু তা অন্য প্রাণীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। বর্তমান সংকটটিও এমন সংস্পর্শ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। করোনাভাইরাসের মতো উদাহরণ খোঁজার জন্য বেশি দূর যেতে হবে না। একটু পেছনে তাকালেই এর অস্তিত্ব মিলবে। ধরা যাক গ্যাবনের কথা। আফ্রিকান দেশটির উত্তরাঞ্চলে গ্রেট মিনকেবি বনাঞ্চল। এর ইভিনডো নদীর তীরবর্তী অঞ্চল আগে থেকেই অস্বাস্থ্যকর বলে পরিচিত ছিল। কারণ, এই নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের রোগ একেবারে নৈমিত্তিক ছিল। সেখানকার মানুষ এসব রোগের সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্তও ছিল। মুশকিল হলো ১৯৯৬ সালে। ওই বছরের জানুয়ারিতে ওই বনাঞ্চল থেকে এক ভয়াবহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে আঞ্চলিক মহামারিতে রূপ নেয়। সেই মহামারিতে শুধু গ্যাবন নয়, এর আশপাশের দেশগুলোও আক্রান্ত হয়। ইবোলায় আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর হার ছিল ৯০ শতাংশের বেশি। নিকট অতীতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স, জিকা, নিপা ইত্যাদি ভাইরাসের উৎসও ছিল অন্য প্রাণী। এ বিষয়ে সম্প্রতি ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, মানুষ তার কর্মকাণ্ড দিয়ে প্রতিনিয়ত পরিবেশ-প্রকৃতিকে ক্ষেপিয়ে তুলছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ধ্বংস করছে জীববৈচিত্র্য। আর এর মধ্য দিয়েই নতুন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রটি মানুষ প্রস্তুত করছে। পরিবেশ-প্রকৃতিকে ক্ষেপিয়ে তোলার ব্যাপারে ধনী-দরিদ্র কোনো দেশই পিছিয়ে নেই। নানা অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও বেশি অঞ্চলে মানুষের পদচারণা বাড়ছে। আর এর মধ্য দিয়ে বাড়ছে এতদিন দূরে থাকা অনুজীবের সঙ্গে সম্পর্ক। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এ বিষয়ে আরও স্পষ্টভাবে সম্প্রতি কথা বলেছেন ‘স্পিলওভার: এনিমেল ইনফেকশনস অ্যান্ড দ্য নেক্সট প্যানডেমিক’ বইয়ের রচয়িতা ডেভিড কোয়ামেন। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি মত দেন, ‘আমরা ক্রান্তীয় বনাঞ্চলগুলো আক্রান্ত করছি। ধ্বংস করছি অন্য বন্য এলাকাও। এসব বনাঞ্চলে বিচিত্র ধরনের প্রাণের আবাস। আর এই সব উদ্ভিদ ও প্রাণির শরীরে রয়েছে অদৃশ্য অনেক ভাইরাস, যা তাদের জন্য হয়তো ক্ষতিকর নয়। আমরা বনাঞ্চলের গাছপালা কাটছি, সেখানকার বিভিন্ন প্রাণীকে বন্দী করছি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাণী এনে বাজারে বিক্রি করছি। আমাদের খাদ্য তালিকাতেও ঢুকে পড়ছে নতুন নতুন প্রাণী। এর মধ্য দিয়ে আমরা শুধু বাস্তুসংস্থানেই সংকট তৈরি করছি না, সেই সব প্রাণীর শরীরে থাকা ভাইরাসগুলোকেও আক্রান্ত করে ফেলছি। এই ভাইরাসগুলো পোষক হারিয়ে তখন নতুন পোষক খুঁজতে শুরু করে। আর এই খোঁজাখুঁজির পর্যায়েই তাদের কোন কোনোটি মানুষকে নতুন পোষক হিসেবে বেছে নেয়। কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটেছে।’ নতুন করোনাভাইরাসের এই মহামারি আকারে সংক্রমণকে নতুন মহামারি যুগের সূচনা বলা হচ্ছে কারণ গবেষকেরা এরই মধ্যে সতর্ক করছেন যে, ইবোলা, সার্স, বার্ড ফ্লু থেকে শুরু করে আজকের কোভিড-১৯ এই সবই এসেছে কোন না কোনো প্রাণী থেকে। আর এ ধরনের প্রাণঘাতি ভাইরাসের আবির্ভাবের সময়ের বিরতি ক্রমেই কমে আসছে। এটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, অন্য প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীবের প্রবেশ বাড়ছে। এসব অনুজীবের একটি বড় অংশই আবার দ্রুত সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্যমতে, নতুন আসা বিভিন্ন রোগের তিন-চতুর্থাংশই এসেছে অন্য কোনো প্রাণী থেকে। এমন ঘটনা কিন্তু এই সময়েই প্রথম ঘটছে এমন নয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বে যেসব রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার একটি বড় অংশের সঙ্গেই মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নতুন নতুন পরিবেশের সংস্পর্শে এসেছে মানুষ। আর তা থেকেই একসময় মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জীবাণু ও তা থেকে সৃষ্ট রোগ। প্লেগ হয়তো মানুষের সংস্কৃতির অংশ ছিল না। কিন্তু মানুষের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিস্তারই প্লেগের জন্মভূমি। একই কথা প্রযোজ্য মধ্যযুগে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া ‘ব্ল্যাক ডেথের’ ক্ষেত্রেও। প্রাচীন সিল্ক রোড ধরে বাণিজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিস্তার পেয়েছিল অসংখ্য রোগও। এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল জীবাণু। ইনফ্লুয়েঞ্জার নতুন ধরনটি এসেছিল গবাদিপশুর খামার থেকে। বর্তমানে মানুষ বাস করছে বিশ্বগ্রামে। আগের মতো তাই কোনো একটি রোগ কোনো একটি দেশ বা মহাদেশে আর আবদ্ধ থাকছে না। পণ্যবাণিজ্য বা পর্যটনের মতো নানা সূত্রে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে সারা পৃথিবীতে। সময়ের সঙ্গে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়ছে। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ঢুকে পড়ছে মানুষ। ফলে সেই প্রাণীদের পক্ষেও আর মানুষের সংস্পর্শ বাঁচিয়ে চলা সম্ভব হচ্ছে না। রয়েছে আরেক বিপদ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গলে যাচ্ছে বড় বড় বরফের চাঁই। ফলে নিদ্রা ভাঙছে অচেনা-অজানা অনেক অণুজীবের। নতুন করে উন্মুক্ত ভূমিতে পা ফেলছে মানুষ। আর এর মাধ্যমেই নিজেকে নতুন সব অনুজীবের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে মানুষ। নানা দিক থেকেই তাই বিপদ বাড়ছে। ২০০৮ সালের এক গবেষণা দেখা যায়, ১৯৬০ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে ৩৩৫টি নতুন রোগ এসেছে। এর ৬০ শতাংশই এসেছিল অন্য কোনো প্রাণীর শরীর থেকে আসা জীবাণু দ্বারা। আর এই প্রাণী থেকে আসা জীবাণু ও তা থেকে সৃষ্ট রোগের জন্য মূলত পরিবেশ বিপর্যয় ও মানুষের কর্মকাণ্ডই দায়ী। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ, খনি খনন, বন ধ্বংস করা, দ্রুতগতির নগরায়ণ থেকে শুরু করে নানা কারণেই মানুষ নীরব থাকা জীবাণুর সংস্পর্শে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে স্থানিক পর্যায়ে জীবাণুগুলো ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু বিশ্বায়নের এ যুগে কোনো কিছুই তো আর স্থানিক নয়। পণ্য, শ্রমসহ নানাভাবে এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। আর এই সংযুক্তির মধ্য দিয়েই ঘটছে রোগের বিশ্বায়ন। ফলে মুক্তবাজার ও বিশ্বায়নের ফর্মুলা দিয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য ছুটতে থাকা মানুষ নিজের অজ্ঞাতেই অনেক বেশি ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রকৃতিকে ক্ষেপিয়ে তুলে নতুন অণুজীবে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মেকি বিস্ময় প্রকাশ করে বলছে, ‘আরে আরেকটি নতুন জীবাণু।’ অথচ সত্য হচ্ছে, মানুষের পা পড়েনি বা মানুষ দ্বারা আক্রান্ত হয়নি এমন এলাকাগুলোয় স্বাভাবিকভাবেই নতুন অনেক দৃষ্টিগ্রাহ্য প্রাণীর সঙ্গে বাস করে অদৃশ্য অনেক অণুজীবও। আর এসব অণুজীবের আবাস ধ্বংস করলে, সেগুলো নতুন পোষক খোঁজার স্বার্থে এবং নতুন পরিস্থিতিতে বাঁচার জন্যই নিজের মধ্যে ঘটায় বিবর্তন। কোনো কোনোটি এমন কোনো বিবর্তন ছাড়াই মানুষকে পোষক বানানোর জন্য পস্তুত হয়ে থাকে। ফলে আক্রান্ত হওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর এই নতুন জীবাণু ও রোগের আগমণের পর এক শ্রেণির মানুষ আবার নতুন নতুন ব্যবসার দোকান খুলছে। ধর্মবাদীরা নানা কুপ্রচার চালাচ্ছে। এগুলো আবার নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। এগুলো থেকে সতর্ক থাকা যেমন জরুরি, তেমনি অচেনা জীবাণুর ভবিষ্যৎ সংক্রমণ ঠেকাতে হলে বিজ্ঞানীরা যেমনটা বলছেন, আগে থেকেই শঙ্কার জায়গাগুলো নিরূপণ করতে হবে। আর সবচেয়ে জরুরি যেটি, মানুষকে পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংসের বদলে প্রকৃতির সঙ্গেই বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। প্রকৃতিতে বিদ্যমান অন্য সব প্রাণের মতোই সেও একটি প্রাণমাত্র-এ সত্য তার স্বীকার করার সময় এসেছে। আর যেসব ক্ষতি এরই মধ্যে হয়েছে, তা থেকে বাঁচতে বিজ্ঞানীদের পরামর্শ মেনে অর্থায়ন করতে হবে। পৃথিবী ধ্বংসের জন্য গবেষণায় কম তো অর্থায়ন হলো না। এবার বাঁচার জন্য, সব প্রাণ ও প্রকৃতির সব বৈচিত্র্যকে নিয়ে থাকার জন্য এবং এরই মধ্যে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো মোকাবিলার জন্য গবেষণায় অর্থায়ন হোক।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..