বঙ্গবন্ধুকে বিচার করতে হবে গতির মধ্যে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মোহাম্মদ শাহ আলম : বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ চলছে। আগামী বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, অর্ধ শতবর্ষ। অর্ধ শতবর্ষ একটি দেশের জন্য কম সময় নয়। ব্যক্তি জীবনের জন্য অনেক সময়। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। সমাজ, রাজনীতিতে অস্থিরতা বিদ্যমান। অর্থনীতিতে নৈরাজ্য। পরাজিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি স্বাধীনতার আদর্শ, মূল্যবোধ নিয়ে এখনও বির্তক অব্যাহত রেখেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষে কেউ কেউ বা কোনো কোনো মহল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অতি মূল্যায়ন-অবমূল্যায়ন করছে। কেউ কেউ তাদর পূর্বের অবস্থান থেকে ১৮০০ উল্টো অবস্থান নিয়ে সুবিধাবাদের চরম পরাকাষ্টা প্রদর্শন করছেন। আবার কেউ কেউ অতিকথনের মাধ্যমে নিজেকে প্রদর্শন এবং উপরে উঠার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণের পথ নিয়েছেন। কোনটাই সততা ও বস্তুনিষ্ঠার পরিচয় দেয় না। আমার মনে হয় বঙ্গবন্ধুকে বিচার করতে হবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায় তার পথ পদক্ষেপের মধ্যে। তাঁকে দেখতে হবে গতির মধ্যে, সময়ের বাঁকে বাঁকে। তাঁর আর্থ-সামাজিক অবস্থানের মধ্যে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন জাতীয়তাবাদী বাস্তববাদী-প্রায়োগিক নেতা। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক-মানবপ্রেমিক, জন্মগতভাবে কায়েমি স্বার্থবিরোধী। তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্যে এর প্রতিফলন দেখা যায়। ১৭৯৩ সালে ভূমিব্যবস্থার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে বাংলার গ্রাম সমাজে প্রাধান্যশীল শক্তি হয়ে উঠে বর্ণহিন্দুরা। শোষণ-বৈষম্য-বঞ্চনার শিকার ছিল মুসলিম ও নর্মশূদ্ররা। এই আর্থ-সামাজিক অবস্থা তাঁর মনে রেখাপাত করেছিল। এখানে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে একটি উদ্ধৃতি প্রাসঙ্গিক- “আমাদের নেতারা বললেন, হক সাহেব মুসলিম লীগের সাথে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন বলে হিন্দুরা ক্ষেপে গিয়েছে। এতে আমার মনে বেশ একটা রেখাপাত করল। হক সাহেব ও শহীদ সাহেবকে সম্বর্ধনা দেয়া হবে। তার জন্য যা কিছু প্রয়োজন আমাদের করতে হবে। আমি মুসলিম ছেলেদের নিয়েই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করলাম, তবে কিছু সংখ্যক নর্মশূদ্র শ্রেণির হিন্দু যোগদান করল। কারণ, মুকুন্দবিহারী মল্লিক তখন মন্ত্রী ছিলেন এবং তিনিও হক সাহেবের সাথে আসবেন” (পৃষ্ঠা-১১, অসমাপ্ত আত্মজীবনী : শেখ মুজিবুর রহমান)। মুসলিম ও নমশূদ্রদের ঐক্য হলো। কারণ সামাজিকভাবে মুসলিম ও নমশূদ্ররা বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার ছিল। তাই এই ঐক্য হয়েছিল। কিন্তু বাংলার কৃষক সমাজের মুক্তির সমাধান মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক আন্দোলন ও যোগেন ম-লের বর্ণপ্রথাবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে ছিল না। ছিল শ্রেণিভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যে। পরবর্তী সময়ে যা আমরা শেখ মুজিবের কর্মকাণ্ডে কিছু প্রত্যক্ষ করি। ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা ছিলেন তিনি। যাক, যে কথা বলছিলাম- মুজিব ছিলেন কায়েমি স্বার্থবিরোধী, মুসলিম লীগের ওপর নবাবজাদা-খানজাদাদের প্রাধান্যের বিরুদ্ধে। অবস্থান নিয়েছিলেন নবাব খাজা নাজিমউদ্দিন গ্রুপের বিপরীতে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম গ্রুপের পক্ষে। কায়েমি স্বার্থবিরোধিতা ছিল তাঁর রাজনৈতিক চরিত্রের বৈশিষ্ট্যে। যা আমরা বাকশালের আর্থ-সামাজিক কর্মসূচিতেও দেখতে পাই। বাকশালের কর্মসূচি ছিল শোষিতের পক্ষে কায়েমি স্বার্থবিরোধী। মুসলিম লীগ ভেঙে যখন মওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহবের নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় তখন তিনি তাতে থাকেন। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দিতে উদ্যোগী ভূমিকা নেন। বাস্তবতার উপলব্ধিতে নিজেকে বদলাতে থাকেন। ভাষা আন্দোলনের পক্ষে থাকেন। ’৫৪তে হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফ্রন্টের একুশ দফা আন্দোলন ও নির্বাচনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। যদিও সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফ্রন্টের একুশ দফা থেকে পিছু হটার বিরোধিতা করতে অপারগ হন। আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাপ গঠিত হলে শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দীর সাথে আওয়ামী লীগে থেকে যান। ন্যাপের বিরোধিতায় নামেন। ’৬১তে গোপন কমিউনিস্ট পার্টি নেতা কমরেড মণি সিংহ, কমরেড খোকা রায়ের সাথে স্বৈরশাসক আয়ূববিরোধী আন্দোলন নিয়ে বৈঠক করেন। ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে বৈরুতে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর স্বরূপে আবির্ভূত হন মুজিবর। ৬৪-র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে “পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও” বলে দাঙ্গা প্রতিরোধে নেমে পড়েন। ৬৬-তে ছয় দফা উত্থাপন করে রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেন। ৬ দফাতে বাঙালির অধিকার, আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকলেও মুক্তিসনদ ছিল না, এটা বুঝতে দ্বিধা করেননি। ফলে ছাত্রদের ১১ দফাকে লুফে নেন। ৭০-র নির্বাচনে ৬ ও ১১ দফার মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনী পোস্টার বের করেন। ৭০-এর নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে বিজয় অর্জন করেন। নিজেকে একক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। দলের প্রাধান্যের ব্যাপারে ছিলেন অন্তপ্রাণ। ৭ মার্চের ভাষণেও তার প্রমাণ মিলে যখন তিনি বলেন- “আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলুন”। কৌশলে ছিলেন নমনীয়, নিজের বিশ্বাস ও মতে ছিলেন দৃঢ়। তাই ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সাথে বৈঠক করে বল ওদের দিকে ঠেলে দেন। ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানীদের হাতে ধরা দিলেন, কিন্তু যুদ্ধকালীন অবস্থায় খন্দকার মোশতাক ও আমেরিকার পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন প্রস্তাবে রাজি হন না। মানুষের অজয়ী শক্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই বলছিলাম তাঁকে দেখতে হবে সময়ের বাঁকে বাঁকে, গতির মধ্যে। ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা তিনি ধরতে পেরেছিলেন, বুঝতে পেরেছিলেন। তাই ইতিহাস তাঁকে push করে নেতা বানিয়েছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পৃথিবীর রাজনীতিতে মেরুকরণ হয়। একদিকে মোটা দাগে ছিল পিন্ডি-পিকিং-ওয়াশিংটন, অন্যদিকে ঢাকা-দিল্লি-মস্কো। আজকের ভারত নয়, মৌলবাদী মোদীর ভারত নয়, ইন্দিরার ভারত-জোট নিরপেক্ষ ভারত। পৃথিবীর শান্তি-স্বাধীনতা-প্রগতির শক্তি ছিল আমাদের স্বাধীনতার পক্ষে। তাই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে অবস্থান নেয় শান্তি-স্বাধীনতা-ধর্মনিরপেক্ষতা-প্রগতির পক্ষে। এর ফলে দেশের মধ্যে, শাসকদল আওয়ামী লীগের মধ্যে শত্রু-মিত্রের নতুন মেরুকরণ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক শত্রুতো আগে থেকেই ছিল। যা আমাদের জানা। দেশ স্বাধীন হলো। বিধ্বস্ত স্বদেশ, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, মানুষের ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত, বৈদেশিক মূদ্রা নেই, টাকার অভাব, কলকারখানা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। তবুও মানুষ উৎফুল্ল দেশ স্বাধীন হয়েছে এই স্বস্তিতে। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যে অতি মুনাফা, কালোবাজারি, পাকিস্তানের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে শাসকদল আওয়ামী লীগের একাংশের লুটপাট ছিল তখন চোখে পড়ার মতো। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। বঙ্গবন্ধুকে তাই আফসোস করে বলতে হয়েছিল- ‘সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেলাম চোরের খনি’। সংবিধান প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি ঘোষণা- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা। বিপ্লবী উচ্ছ্বাসে জাসদের জন্ম হলো। জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরলো। বাম হঠকারিতার জোয়ার বইতে থাকলো। ১৯৭৩ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচন হলো, কিন্তু সম্পূর্ণ কারাচুপিমুক্ত নির্বাচন হলো না। অবৈধভাবে খন্দকার মোশতাককে নির্বাচিত করে আনা হলো। বঙ্গবন্ধু তখন ক্ষমতায়। নিজের হাতে নিজের খুনিকে জেতালেন। যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিলেন। এইটা তাঁর দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতা। তাজউদ্দিনকে বাদ দিলেন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী শক্তিকে মেনেজ করার জন্য না একক নেতৃত্বের মোহ থেকে। এটা উন্মোচিত হলো না। তাজউদ্দিন এখনও বিস্মৃতির আন্তরালে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। সদ্য স্বাধীন দেশে মজুদদার-কালোবাজারিদের রমরমা ব্যবসা, দ্রব্যমূল্যের অবিশ্বাস্য ঊর্ধ্বগতি, মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, ব্যাংক-বীমা-পাটকল-সূতাকল জাতীয়করণের ফলে সরকারি দলে অন্তর্দ্বন্দ্ব-মেরুকরণ, পাটের গুদামে আগুন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ব্যাংক লুট বৃদ্ধি, আইন শৃঙ্খলার অবনতি, রক্ষীবাহিনী গঠন, গণবাহিনী-সর্বহারাদের সাথে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলতে থাকলো। ৭৪-র বন্যা, ঘোড়াশাল সার কারখানা উড়িয়ে দেয়া, খাদ্য ঘাটতি, ৭৪-র দুর্ভিক্ষ, আমেরিকার ষড়যন্ত্র, পিএল ৪৮০-র গমের জাহাজ, বঙ্গোপসাগর থেকে Back করানো হলো। দলের মধ্যে নতুন শত্রুর জন্ম, পরাজিত শত্রুর তৎপরতা বৃদ্ধি, জাসদ, উগ্র বাম ও পাকিস্তানপন্থা বামদের অপতৎপরতা, উগ্র বাম-ডান ও সাম্রাজ্যবাদীর শক্তির ফলাফলগত ঐক্য। ন্যাপ-সিপিবি’র আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু নির্ভরতা এবং জনবিচ্ছিন্নতা। পরিস্থিতির নাজুকতা বৃদ্ধি, ৭৪-এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা, একদলীয় ব্যবস্থা বাকশাল গঠন। এই হলো ৭৫ পূর্ব ঘটনার সংক্ষিপ্ত চালচিত্র। একদলীয় শাসন নিয়ে কথা থাকতে পারে, থাকতে পারে বিতর্ক। কিন্তু বাকশালের আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি ছিল বামমুখী-প্রগতিমুখী। যে শ্রেণিশক্তি-কায়েমি শক্তির স্বার্থে বাকশাল কর্মসূচি আঘাত করে, তারা বঙ্গবন্ধুকে ছাড়েনি। স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। শ্রেণিস্বার্থ যে কত নির্মম হতে পারে সেই শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিচার করার সামর্থ ছিল না বঙ্গবন্ধুর। এ ব্যাপারে তাকে ফিদেল কাস্ট্রো, কমরেড মণি সিংহ সাবধান করেছিলেন, কিন্তু বুর্জোয়া উদারনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি বের হতে পারেন নি। বঙ্গবন্ধু তাঁর সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে ছিলেন একজন মানুষ। কিন্তু কালজয়ী মানুষ। ছিলেন বাংলাদেশের স্থপতি। শত্রুরা তার বিরোধিতা করে অপপ্রচার করে, তা করবে করুক। কিন্তু বামপন্থীরা তাঁর ভূমিকা নিয়ে Dialectical বিচার করে না বা করতে অপারগ। কেউ অতিমূল্যায়ন, কেউ করেন বিকৃত মূল্যায়ন-অবমূল্যায়ন। বঙ্গবন্ধুর অবদানকে যারা অস্বীকার করেন, তারা তাদেরকে ছোট করেন, হীনমন্যতায় ভোগেন, নিজের ক্ষুদ্রতাকে উন্মোচিত করেন। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দেশের নিপীড়িত মানুষের স্বার্থে দেশ কি এগিয়েছে না পিছিয়েছে? অবশ্যই পিছিয়েছে। তাঁর প্রগতিমুখী কর্মসূচির জন্য যাদের শ্রেণিস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল সেই শ্রেণিশত্রুরা তাঁকে হত্যা করেছিল, তারা আজ অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ও ভাবাদর্শিকভাবে খুবই শক্তিশালী। যে আওয়ামী লীগের জন্ম প্রতিক্রিয়াশীল মুসলিম লীগ ভেঙে, রাস্তা থেকে, যে আওয়ামী লীগ ছিল জননির্ভর, রাজনৈতিক কর্মী নির্ভর সেই আওয়ামী লীগ এখন ক্যাডার নির্ভর, আমলা নির্ভর, লুটেরা নির্ভর। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর এখন। বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু ছিলেন জনমানুষের স্বার্থের সাথে, মৃত্যুকালে ছিলেন বামে, ডানে নয়। ‘শোন একটি মুজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণী বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ।’ মুজিবের নামে এমনই বহু গান রচিত হয়েছে। অন্য কারো নামে নয়। মুজিবের ডাকে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষ। মুজিব স্বাধীনতার অজেয় নেতা। এটাকে যারা স্বীকৃতি দিতে চান না, তারা আহাম্মক ছাড়া আর কিছু নন। তাইতো তারা ‘ঘোষক বিতর্ক’ নিয়ে বারেবারে ফিরেফিরে আসেন। লেখক : সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিবি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..