প্রয়োজন যুদ্ধ ও সাহসী পদক্ষেপ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত না হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বকে এক যোগে আতঙ্কিত করছে করোনা ভাইরাস এবং এর দ্বারা সংঘটিত কোভিড-১৯ রোগ। ধনী থেকে দরিদ্র সকলেই আজ এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তি কেউই করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে নিরাপদ নয়। সারা বিশ্বের অর্থনীতি হঠাৎ করে থমকে দাঁড়িয়েছে। দেশে দেশে বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদন ও ক্রীড়া জগৎ। ১৫০ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে শুধু ইন্টারনেট। খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষেরা কাজ করে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা এতটাই যে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। খোদ চিকিৎসকরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিনই পরিসংখ্যানের খাতায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন আয়ের মানুষেরা সব থেকে বিপদে পড়বে। কারণ তাদের পক্ষে ধনীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে উন্নত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব না। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা অর্থনৈতিকভাবে সব থেকে বিপদে পড়বে। আর তাতে করে অচিরেই এই মহামারি আরও ভয়ংকর হয়ে আঘাত হানবে। কারণ তখন আক্রান্ত না হয়েও খাদ্য বা চিকিৎসা সংকটে আরও অনেক মানুষ মারা পড়বে। সারা পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসের কারণে যে মহাবিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশ সরকার কোনো শিক্ষাগ্রহণ করেনি। করোনা ভাইরাসের বিপর্যয় রোধে দীর্ঘদিন সময় পেলেও, তা হেলায় নষ্ট করে আজ তারা প্রস্তুতিবিহীন। সরকারের মন্ত্রীদের দিক থেকে নানা ধরনের অসত্য ও দায়িত্বহীন বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। যার পরিণাম হবে ভয়াবহ। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি খুবই অপ্রতুল। যেসব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী রোগীদের সেবা দেবেন তাদের নিজেদেরই কোনো নিরাপত্তা-প্রস্তুতি নেই। এ মুহূর্তে দেশে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিটের সংখ্যা মাত্র ১৭০০টি, যা আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় কোনো সংখ্যাই নয়। দেশের বিমানবন্দরগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার প্রবাসী দেশে প্রবেশ করছে। তাদের ভালো করে স্ক্রিনিং হচ্ছে না। কোয়ারেনটাইনের বদলে তাদের হোম কোয়ারেনটাইনে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু হোম কোয়ারেনটাইনে থাকা বিদেশফেরত সেই মানুষর অধিকাংশই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, লোকজনের সাথে কোলাকুলিও করছে। মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজও পড়ছে। তাতে করে করোনা আতঙ্কে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কোথাও কোথাও বাঁকা চোখেও তাকাচ্ছেন সেইসব বিদেশফেরতদের দিকে। রোগী, সম্ভাব্য রোগী অথবা সন্দেহজনক রোগী বীরদর্পে রোগজীবাণু ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে সারাদেশে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার আদর্শ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের মহাবিপর্যয় রোধের জন্য প্রয়োজন অবিলম্বে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা। করোনা ভাইরাস বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা শ্রমঘন গার্মেন্টশিল্পের ৫০ লাখ শ্রমিকের বেতনসহ ছুটি নিশ্চিত করে অবিলম্বে গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ ঘোষণা এবং গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। শহরের সবচেয়ে বেশি জনঘনত্বপূর্ণ এলাকা বস্তির মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য দ্রুতই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। গৃহহীন, উন্মুক্ত এলাকায় বসবাসকারী উন্মুক্ত শহরবাসীকে বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। অস্বাভাবিক হারে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত অসাধু ব্যবসায়ী এবং মজুদদার উৎপাদক-ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উপকরণসমূহের দাম স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া উচিত। প্রয়োজনে উপকরণসমূহের দাম কমাতে শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি সব মানুষকে একটি করে মাস্ক প্রদান করতে হবে। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে হবে। দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত অসাধু মজুদদার, ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই বিপর্যয় কত বিস্তৃত হবে বা কতদিন ধরে চলবে তা কারো জানা নেই। তবে এই মুহূর্তে সবার একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। এই এগিয়ে আসা মানে নিজেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি। নিজেরা যাতে এই ভাইরাসের বাহক না হয়ে যাই তার জন্য জন সমাগম এড়িয়ে চলা, নিজেদের গৃহবন্দি করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। আর একান্ত আক্রান্ত হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আসাটা জরুরি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..