ভাইরাসের জন্ম নিয়ে উত্তপ্ত চীন-আমেরিকা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে চীন-আমেরিকার মধ্যে চলছে তুমুল বাকযুদ্ধ। বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণকে শি জিনপিং সরকারের দায়িত্বহীন কাণ্ড বলে আক্রমণ করে আসছিল হোয়াইট হাউস। এই অভিযোগের বিরুদ্ধে এবার মুখ খুলল চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিজিয়ান ঝাও ‘আমেরিকাই এই ভাইরাসের জন্ম দিয়েছে’ বলে ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি বার্তা দিলেন। ১৫ মার্চ একের পর এক টুইট করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র। মার্কিন সেনাই উহান প্রদেশে এনেছে করোনা ভাইরাস দাবি তার। যা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হল চীন এবং আমেরিকার মধ্যে। উহান প্রদেশে ব্যাপক সংক্রমণ ছড়ানোয় চীনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবার বেজিংয়ের পাল্টা তোপ, নিজের ঘর সামলাক আমেরিকা। বিশ্ব যখন করোনায় আতঙ্কগ্রস্ত, এ সময় প্রমাণ ছাড়া দোষারোপ করা অনুচিত। তিনি একটি ভিডিও পোস্টও করেন। মার্কিন স্বাস্থ্য আধিকারিককে সাংবাদিক বৈঠকে বলতে শোনা যায়, ৩.৪ কোটি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। আগেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এবং তা চাপা দেয়ার চেষ্টাও চলেছে বলে অভিযোগ। টুইটে লিজিয়ান ঝাও আরও বলেন, সারা বিশ্ব যখন সঙ্কটে পড়েছে তখন দোষারোপ করতে ব্যস্ত ট্রাম্প সরকার। আন্তর্জাতিক সঙ্কটে সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার নেমেছে নোংরা রাজনীতিতে। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, উহানে নয়- আমেরিকাই এই ভাইরাসের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন সেনারা করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ মহামারি সৃষ্টি করেছেন বলে চীনা শীর্ষ এক কর্মকর্তার উদ্ভট মন্তব্যের জবাব দিতে শুক্রবার চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান একদিন আগে টুইট করে মার্কিন সেনাবাহিনীকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার দাবি তোলেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত চুই তিয়ানকাই-এর কাছে কঠোর জবাব দিতে তাকে তলব করেন এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক ডেভিড স্টিলওয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য দেয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ডেভিড স্টিলওয়েল বলেছেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারি শুরু করার জন্য নিজের ভূমিকার সমালোচনা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার পথ খুঁজছে চীন। তবে তারা সেটা বিশ্বকে জানতে দিতে চায় না। তিনি বলেন, এ নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব প্রচার করা বিপদজনক ও উদ্ভট। আমরা (চীন) সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই যে, এমনটা আমরা সহ্য করবো না। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা সাংবাদিকদের অযৌক্তিক হয়রানির জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং সুহাং বলেছেন, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর ওয়াশিংটন বিধিনিষেধ আরোপ করায় এর পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে বেইজিং। চীনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতে দেশটিতে কর্মরত মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন টাইমস এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের অন্তত ১৩ সাংবাদিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। একইসঙ্গে ভয়েস অব আমেরিকা ও টাইম ম্যাগাজিনকে তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত চীনা সরকারকে অবহিত করতে হবে বলে জানানো হয়। বুধবার চীনা মুখপাত্র গেং সুহাং বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে মতাদর্শিক সংস্কার এবং স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছি’। ‘চীন কারও সঙ্গে সমস্যা শুরু করতে চায় না, তবে কোনও সমস্যার উদ্ভব হলে চোখ বন্ধ করে থাকবে না। আমরা মার্কিন পক্ষকে অবিলম্বে চীনা সংবাদমাধ্যমের ওপর নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি, না হলে তাদের আরও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে’, বলেন তিনি। বেইজিং বলছে, গত মাসে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে বিদেশি দূতাবাস হিসেবে বিবেচনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করা হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই ধরনের ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞায়’ সাংবাদিকদের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়ন বলেও আখ্যা দেয় তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সাংবাদিককে বহিষ্কারের পর গত বুধবার আরও প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদক হু জিজিন। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবুতে তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষ যদি পরস্পরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে তাহলে আমেরিকান মিডিয়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে’। চীনে বর্তমানে ২৯টি মার্কিন সংবাদমাধ্যম কাজ করছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছে ১৯টি সংবাদমাধ্যম। সেদিকে ইঙ্গিত করে জিজিন লেখেন, ‘দুই পক্ষ যদি সাংবাদিকের সংখ্যা বা সাংবাদমাধ্যমের সংখ্যা নিয়ে যুদ্ধ করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে’।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..