নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে দেশটি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখলো। করোনা ভাইরাস যখন প্রবলভাবে আঘাত হেনেছে ইরানে তখন নতুন করে আবারো এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি, ইরানে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি দেয়ার আহ্বাান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই নিষেধাজ্ঞার কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধে সচেষ্ট রয়েছে। আর ইরানকে সহায়তার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচ কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রিতে সহায়তা করায় ওইসব কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ওয়াশিংটন। আমিরাতের পেট্রোগ্রান্ড এফজেডই, অ্যালফাবেট ইন্টারন্যাশনাল ডিএমসিসি, সুইসল ট্রেড ডিএমসিসি, আলম আলথারভা জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি ও আলওয়ানেও এলএলসি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভ মিউচিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘২০১৯ সালে ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানি এনআইওসি’র কাছ থেকে হাজার হাজার টন পেট্রোলিয়াম ক্রয় করেছে এই পাঁচ কোম্পানি।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘তেহরান তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির রাজস্ব সন্ত্রাসীদের অর্থায়নে ব্যবহার করে। একারণে ইরানকে যারা সমর্থন করবে তাদের বিচ্ছিন্ন করতে এবং লক্ষ্যবস্তু বানাতে সর্বদা তৎপরতা চালাবে মার্কিন প্রশাসন।’ ইরানের তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন এবং হংকংয়ের নয়টি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার একদিন পর এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। সে সময় বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে ওই পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের কাছে ইউরেনিয়াম প্রকল্প সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ইরান। ২০১৮ সালের মে মাসে এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ট্রাম্প। এতে ইরানের অর্থনীতি ও তেল রফতানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ২০১৮ সালে ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে দফায় দফায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। সাম্প্রতিক এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ইরানের ধর্মীয় নেতারা ও দেশটির ধাতুশিল্প। শুধু ইরান নয়, পম্পেও ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীন, হংকং ও দক্ষিণ আফ্রিকারও বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করছে। এদিকে ফিলিস্তিনের ইরানপন্থি সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল। ১৯ মার্চ দেশটি মস্কোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদপত্র তুলে দেয়। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত এলি বেলোচেরকভস্কি রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ওই নিন্দা ও প্রতিবাদপত্র তুলে দেন। সেটি গ্রহণ করেন রুশ ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানেভ। তিনি নিজেও বুধবার রাতে ইসলামিক জিহাদের নেতা নাখালার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন। ইসরাইল ইসলামিক জিহাদকে একটি জঙ্গি সংগঠন মনে করে। সংগঠনটি ইরানি অর্থায়নে পরিচালিত হয়। ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাব দিতে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে সংস্থাটি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..