‘চাই জনগণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস নিয়ে দেশব্যাপী আতঙ্ক, উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে জনগণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গত ১৯ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছে, প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস যা SARS-Cov2 নামে পরিচিত তা এর প্রাদুর্ভাবের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান নগরী থেকে বিশ্বের ১৬১ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে, এখন তা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। ‘এই মুহুর্তে আমরা কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রয়েছি। বাংলাদেশে প্রথম তিনজন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে সারাদেশে। অনেকেই অতি প্রয়োজন ছাড়া বাসাবাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও অনেকে এটাকে হাল্কা করেই দেখছেন,’ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছে চিকিৎসকদের এ সংগঠন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি ডা. আবু সাঈদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এইচ চৌধুরী লেনিন, জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম লালা, অধ্যাপক ডা. শাকিল আকতার, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের ডা. হারুন অর রশীদ। ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ডা. গোলাম আযমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের যুগ্ম-সম্পাদক ডা. এম এইচ ফারুকী। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট অনুযায়ী বাংলাদেশে সংক্রমণের পরিস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে অর্থাৎ বাইরে থেকে আসা লোকজনের মাধ্যমে স্থানীয়রা সংক্রমিত হয়েছেন বা হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকার যারাই বিদেশ থেকে আসবেন তাদের সকলকেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। ‘বিশ্বে দুই ধরনের কোয়ারেন্টিন প্রচলিত, একটি ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা এবং অন্যটি পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যক্তিকে বাসায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাখা। গত সপ্তাহে প্রায় ৯৫ হাজার যাত্রী কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশসমূহ থেকে বাংলাদেশে এসেছেন অথচ মাত্র দুই হাজার পাঁচশত জন বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে আছেন। রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমানের মতে বাংলাদেশে কোন পদ্ধতিই ঠিকমতো কাজ করছে না, ’ বলেছেন তারা। ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত একমাত্র আইইডিসিআর-এর ল্যাবরেটরিতেই কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তের পরীক্ষা হচ্ছে। আইইডিসিআরের মতো এই রোগ নির্ণয়ের সুবিধা সম্বলিত আরো কয়েকটি ল্যাবরেটরি এই মুহুর্তে বাংলাদেশে রয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) তাদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু সরকার তাদের কোভিড-১৯ শনাক্তের অনুমতি দেয়নি। এতে করে জনগনের দুর্ভোগ বেড়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে। ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ এর মহামারি ঠেকাতে সকল দেশকে দিয়েছে একটিই বার্তা; পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা। সন্দেহভাজন সব রোগীদের পরীক্ষার বিকল্প নেই বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দক্ষিণ কোরিয়া ব্যাপকভাবে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ ঠেকাতে সফলতা অর্জন করেছে। সেদেশে ২ লাখ ২২ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ভারতে শুরুতে ১টি কেন্দ্রে হচ্ছিল, এখন হচ্ছে ৬২টি কেন্দ্রে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদুল কবির কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা ঠেকাতে তিনটি বিষয়ে জোর দেয়ার জন্য বলেছেন; ট্রেস (শনাক্ত), টেষ্ট (পরীক্ষা) ও ট্রিটমেন্ট (চিকিৎসা)। তিনি আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস এই তিন প্রতিষ্ঠানকে যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেছেন। তার মতে যে জেলা হাসপাতালগুলো কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলোতে একই সঙ্গে পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সুবিধা থাকা উচিৎ। অধ্যাপক কবির আরো বলেন যে এখন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি বা দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খোঁজার দরকার নেই। তীব্র ও মারাত্মক শ্বাসকস্ট থাকলেই তাঁকে পরীক্ষার আওতায় নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সংকট কাটাতে আক্রান্ত দেশসমূহে পরিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি উৎপাদন বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।’ ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, আহমেদুল কবির করোনাভাইরাসে সংক্রমনের লক্ষণ থাকা রোগীদের হাসপাতালে পৃথক কক্ষে পরীক্ষা করা এবং রোগীদের সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসার সুরক্ষিত ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতাল সমুহের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার কথা বলেছেন। ‘যেসব চিকিৎসক, নার্স রোগীর কাছাকাছি যাবেন তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি, অথচ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য সুরক্ষা সরঞ্জাম অত্যন্ত অপ্রতুল। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবাকর্মী আক্রান্ত হলে তা রোগের বিস্তার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি সংগঠিত ঘটনাটিই তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই হাসপাতালের ৪ জন চিকিৎসককে কোয়ারেন্টিন এর আওতায় নেয়া হয়েছে, ’ বলেছে তারা। তবে এতকিছুর পরও আতংকিত না হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা প্রদান ও সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট। তাদের উত্থাপিত ১০ দফা দাবির মধ্যে আছে, অনতিবিলম্বে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিলবোর্ডসমূহে জনসাধারণের জন্য দিক নির্দেশনামূলক প্রচারণা চালানো (যেমন, হোম কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা, জন-সমাগম কম করা, জরুরি ছাড়া হাসপাতালে না আসা)। আক্রান্ত দেশসমূহ থেকে আগত বাংলাদেশিদের তালিকা নিয়ে সন্দেহজনক এলাকা সমূহে নিবিড় রোগী শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। পর্যাপ্ত পরিমানে রোগ নির্ণয় কিট সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা। সকল বিভাগীয় এবং পর্যায়ক্রমে ও প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা হাসপাতালগুলোতে একই সঙ্গে কোভিড-১৯ এর দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা চালু করা এবং সমন্বয় সাধন করা। সকল হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামাদির (হাত মোজা, গগলস, মাস্ক, এপ্রন, সাবান, স্যানিটাইজার ইত্যাদি) প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য কর্মী, রোগী ও সম্ভাব্য রোগী পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স ও গাড়ির ব্যবস্থা করা। কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পদক্ষেপ ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। সরকারি কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রসমূহের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন এর আওতায় থাকা ব্যক্তিদের খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা। হটলাইনের সংখ্যা বাড়ানো এবং জনগণের সকল তথ্য প্রাপ্তি সহজতর ও দ্রুততার জন্য ব্যবস্থা নেয়া। সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের আরো দ্রুততার সাথে ও ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা।
প্রথম পাতা
সাবাশ সুন্দরবন তুমিই বাংলাদেশের প্রাণ
ঘূর্ণিঝড় আম্পানে নিহতদের প্রতি সিপিবি’র শোক, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দাবি
বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি
পরিত্রাণের পথ ও পাথেয়র খোঁজে এখনই ঐক্যবদ্ধভাবে নামা দরকার : খালেকুজ্জামান
বেতন-বোনাস খয়রাতি সাহায্য নয়, শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য: সিপিবি
বিপর্যস্ত গ্রামীণ মজুরদের বাঁচাতে উপজেলা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি
‘ক্ষুধার তাড়নায় ক্ষেতমজুররা দিশেহারা’
রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না গার্মেন্ট টিইউসির হুঁশিয়ারি
যাত্রা শুরু করল ‘ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ’
ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপল’স হেলথ 'টেলিমেডিসিন সেবা' প্রদানকারী চিকিৎসকদের সময়সূচী
‘লকডাউনের সুযোগে’ ঢাবিতে নির্বিচারে গাছ কর্তন
সিপিবি নেতা অ্যাড. সুমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..