ফাঁসির আরো কাছে যুদ্ধাপরাধী আজহার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেয়া রায় প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ এই রায় প্রকাশিত হয়। এরপরই এই মৃত্যুপরোয়ানা ট্রাইব্যুনাল হয়ে কারাগারে পাঠানো হলে সেটি তাকে পড়েও শোনানো হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আজহারুল ইসলামের করা আপিল আংশিক মঞ্জুর করে গত বছর ৩১ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেছিল আপিল বিভাগ। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পেয়েছেন আজহার। আপিল বিভাগের রায়ে ২, ৩, ৪ (সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে) ও ৬ নম্বর অভিযোগের দণ্ড বহাল রাখেন। আর ৫ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আইনজীবীদের মতে, আজহারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর দুটি ধাপ রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকায় এখন রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) ও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষাই একমাত্র পথ। এখানে বিফল হলে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতেই হবে তাকে। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষ অধিকার রয়েছে। সেই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে।’ আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার পর যদি নামঞ্জুর হয়, তাহলে কারাকর্তৃপক্ষ জেলকোড অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে ১২৫৬ ব্যক্তিকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শতশত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় আজহারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যে এক নম্বর বাদে বাকি পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ ছাড়াও তিনি যে আলবদর কমান্ডার ছিলেন তাও প্রমাণিত হয় বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। গত ৩১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ আপিল আংশিক মঞ্জুর করে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ফলে এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসিরকাষ্ঠেই যেতে হচ্ছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিন অভিযোগে এটিএম আজহারের মৃত্যুদণ্ড এবং দুই অভিযোগে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। আপিলের রায়েও রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা ও হত্যার তিন ঘটনায় তার মৃত্যুদণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতের ভিত্তিতে বহাল থাকে। অপহরণ ও আটকে রেখে নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের দেয়া পাঁচ বছরের সাজাও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতের ভিত্তিতে বহাল রাখা হয়। আর বহু নারীকে রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে ধর্ষণের জন্য তুলে দেয়ার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের রায়ে আজহারের ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হলেও এ অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রথম পাতা
করোনা: চীনের অভিজ্ঞতা ও বিশ্ব পুঁজিবাদের ব্যর্থতা
দেশে একজনের মৃত্যু, আরেকজন ‘আশঙ্কাজনক’
শ্রমজীবী-শিক্ষার্থীদের স্যানিটাইজার দিচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন
মাস্কও বানাচ্ছে যুব ইউনিয়ন
লড়াই-সংগ্রামকে বেগবান করে মেহনতি মানুষের সরকার গড়বো
মহাবিপর্যয়ে সরকারের নিস্পৃহতা দায়িত্বহীনতায় সিপিবির ক্ষোভ
করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
সব হিসাব আছে শুধু শ্রমিকের জীবনেরটা নেই
‘বাগাড়ম্বর পরিহার করে ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়ান’
সাংবাদিক নির্যাতন গুমের বিরুদ্ধে দরকার গণপ্রতিরোধ
‘চাই জনগণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা’
করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পদ্ধতি উদ্ভাবন গণস্বাস্থ্য’র
‘উল্টো রথে’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..