ভারতের সংখ্যালঘুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস ভারতে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ভারত সফরের এক সপ্তাহ আগেই উদ্বিগ্ন হয়ে মুখ খুললেন গুতেরেস। ১৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সফরে থাকাকালীন তিনি সেখানকার একটি নামী দৈনিককে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই চিন্তার কথা জানান। যেখানে বর্তমান নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তাঁর আশঙ্কার কথাই ফুটে উঠছে। উদ্বেগে নয়া আইনে অন্তত ২০ লক্ষ সংখ্যালঘু মানুষের নাগরিকত্ব বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গুতেরেস তার বক্তব্যে বলেন, ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান বৈষম্য বৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি অবহিত। ‘জাতিসংঘের হাই কমিশনারের রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক মিডিয়া রিপোর্ট, সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীর সংক্রান্ত প্রকাশিত নয়া দিল্লির রিপোর্ট ইত্যাদি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ‘আসলে কাশ্মীরে কী হচ্ছে তা স্পষ্ট করে দিতে’। এদিকে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করলে এতদিন রাজরোষে পড়তে হচ্ছিল ভারতবাসীকে। এখন সেই রোষের হাত থেকে নিস্তার মিলছে না বিদেশি রাজনীতিকদেরও। কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানের সমালোচনার দায় ভুগতে হলো ব্রিটিশ সাংসদ ডেবি আব্রাহামকে। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ডেবিকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো না। অথচ লেবার পার্টির সাংসদ ডেবির কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য ব্রিটেনের সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। ডেবি কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আবার ওদিকে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ওখানকার মানুষের সংগ্রামকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুরস্কবাসীর লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা টেনেছিলেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এরজন্য তুরস্কের হাইকমিশনকে ডেকে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে তিরস্কৃত করেছে ভারত। কার্যত কাশ্মীরের মতো বহু বিষয়েই কোনোভাবেই বিরোধী স্বর শুনতে রাজি নয় নরেন্দ্র মোদী সরকার তা আবার প্রমাণিত হলো। ভারত সরকারের জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচক ব্রিটিশ সাংসদ ডেবি আব্রাহাম। ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আব্রাহাম সেই সময় অসন্তোষ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছিলেন ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী ডোমিনিক রাবকে। এটাই ডেবির বৈধ ভিসা নাকচের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত-ব্রিটেন কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভিসা নাকচের ঘটনা প্রভাবও ফেলতে পারে। ডেবিকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই আবার দুবাই পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুবাই থেকেই তিনি এসেছিলেন ভারতের রাজধানীতে। ডেবির ই-ভিসা বাতিলের খবর তাঁকে আগাম জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দাবি করেন, ব্রিটিশ ওই সাংসদকে তাঁর ভিসা নাকচের কথা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি সব জেনে বুঝেই ভারতে আসেন। তবে ডেবির অভিযোগ, তিনি কাশ্মীরে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করতে বৈধ ভিসা নিয়েই আসছিলেন ভারতে। কিন্তু কোনোরকম কারণ ছাড়াই সেই বৈধ ভিসা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ১৩ তারিখ পর্যন্ত তিনি কোনো ভিসা নাকচের খবর পাননি। তারপর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি দেন। ফলে ভিসা বাতিলের কোনো তথ্যই ছিল না তাঁর কাছে। উল্লেখ্য, ডেবির ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল গত বছর অক্টোবরে। আর ভিসার বৈধতা চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তরফে ডেবির ভিসা বাতিলের খবর ছাড়া আর কোনোরকম ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোগানের ‘অপরাধ’ হলো তিনি কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আর এরই সঙ্গে কাশ্মীরি জনগণের লড়াইকে কুর্ণিশ জানিয়েছিলেন নিজের দেশের মানুষের সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা টেনে। এরজন্য তাঁকে কড়া ভাষায় তিরস্কৃত করেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওঁর মন্তব্য মোটেই ইতিহাস এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই ধরনের মন্তব্যের জোরালো প্রভাব পড়বে ভারত-তুরস্ক সম্পর্কে। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার জানান, সীমান্তের ওপার থেকে পাকিস্তানের নির্লজ্জ মদত জোগানোকে তুরস্ক বারংবার সমর্থন জানানোর চেষ্টা করলেও ভারত সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফরের সময় কাশ্মীর নিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন এরদোগান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..