চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ড

সবকিছুই আছে, শুধু মানুষগুলোই নেই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তি হলো গত ২০ ফেব্রুয়ারি। ২০১৯ সালের এদিন রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারান ৭১ জন। এর মধ্যে তিনটি মরদেহ এখনো শনাক্ত হয়নি। এই ঘটনার পর এলাকাবাসী, পুলিশ, বিশেষজ্ঞ সবার দাবি ছিল, রাসায়নিকের গুদাম থাকার কারণেই পুরান ঢাকা বার বার নরককুণ্ডে পরিণত হচ্ছে। এর আগে নিমতলীর মতো ঘটনা ঘটেছে। এখানকার বাসিন্দাদের এই মৃত্যুপুরী থেকে রক্ষা করতে হলে যেকোনো মূল্যে রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এতো মৃত্যুর পরেও আজও সেটি হয়নি। সবকিছু আগের মতোই রয়ে গেছে। শুধু লেলিহান আগুনের শিকার মানুষগুলো আর নেই। চকবাজার এলাকার চুড়িহাট্টা মসজিদ সংলগ্ন আসগর লেন, নবকুমার দত্ত রোড এবং হায়দার বক্স লেনের ত্রিমুখী মিলনস্থলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বছর পেরিয়ে গেলেও আগুনের সঠিক উৎপত্তিস্থল ও কারণ এখনো ধোঁয়াশাই রয়েছে। সেদিনের সেই আগুনে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় স্থানীয় রাজ্জাক ভবন ও ওয়াহিদ ম্যানশন। আরো অন্তত তিনটি ভবনের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় খাবার হোটেল, দোকানের মতো বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এক বছর সময় পেরিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি সেই ওয়াহেদ ম্যানশন এর সামনে ছবি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেক নিহতের স্বজনেরা। কারো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কারো বা পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যও; একেকজনের গল্প আলাদা আলাদা হলেও শোক সবার একই। দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা এখনো পাননি প্রশাসনের সহায়তা। আর্থিক সহায়তা বা সরকারি চাকরির যেসব প্রতিশ্রুতি তাদের উদ্দেশ্যে ছিল প্রশাসনের, সেগুলোও যেন ভুলতে বসেছেন তারা। আর পুরান ঢাকা থেকে সবধরনের রাসায়নিক কারখানা এবং পণ্যের মজুদ সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা থাকলেও অগ্রগতি হয়নি কিছুরই। ঘটনার পর বেশ কদিন তোড়জোড় থাকলেও সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে গেছে সব বুলি। এক বছরেও আসেনি চার্জশিট : পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বছর পেরুতে চললেও এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা হয়নি এখনো। এ পর্যন্ত নয়বার পেছানোর পর আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি চার্জশিট জমা দেয়ার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। পুলিশ বলছে, কিভাবে বা কি কারণে চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল ওই বিষয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীরও স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ৭১ জন নিহত হয়েছিল। কিন্তু নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। খুব সহসাই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে তা যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। সরেনি রাসায়নিকের গুদাম : ২০১০ সালে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে রাসায়নিকের কারখানা আর গুদামগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু নয় বছরেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন না হয়নি। এর মধ্যেই চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর আবারও তদন্ত কমিটি হয়। সেই তদন্ত কমিটিও একই সুপারিশ করে। কিন্তু সেই সুপারিশও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
প্রথম পাতা
করোনা: চীনের অভিজ্ঞতা ও বিশ্ব পুঁজিবাদের ব্যর্থতা
দেশে একজনের মৃত্যু, আরেকজন ‘আশঙ্কাজনক’
শ্রমজীবী-শিক্ষার্থীদের স্যানিটাইজার দিচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন
মাস্কও বানাচ্ছে যুব ইউনিয়ন
ফাঁসির আরো কাছে যুদ্ধাপরাধী আজহার
লড়াই-সংগ্রামকে বেগবান করে মেহনতি মানুষের সরকার গড়বো
মহাবিপর্যয়ে সরকারের নিস্পৃহতা দায়িত্বহীনতায় সিপিবির ক্ষোভ
করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
সব হিসাব আছে শুধু শ্রমিকের জীবনেরটা নেই
‘বাগাড়ম্বর পরিহার করে ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়ান’
সাংবাদিক নির্যাতন গুমের বিরুদ্ধে দরকার গণপ্রতিরোধ
‘চাই জনগণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা’
করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পদ্ধতি উদ্ভাবন গণস্বাস্থ্য’র
‘উল্টো রথে’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..