দেশ রক্ষায় আ. লীগ সরকারকে বিদায় করতে হবে: সেলিম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রাজশাহীর সমাবেশে উপস্থিত জনতার একাংশ
একতা প্রতিবেদক : রাজশাহীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বিভাগীয় সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দেশ রক্ষা করতে হলে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হবে। অনেকের মনে সংশয়, এ সরকার বিদায় হলে আবার হাওয়া ভবনের সরকার আসবে না তো? আমরা জনগণকে বলছি, আওয়ামী সরকারের বিদায়ের পর বামপন্থিদের নেতৃত্বে সৎ রাজনীতিকদের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। সেজন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠা হলে কীভাবে দেশ চলবে, তা নিয়ে সিপিবির ১৭ দফা পরিকল্পনা আছে। তবে এর পাশাপাশি সমস্ত প্রগতিশীল জ্ঞানীগুণি লোকজনকে নিয়েও আমরা বসবো। শীঘ্রই ছায়া মন্ত্রিসভা করে এইসব পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো। ১৯ ফেব্রুয়ারির এ সমাবেশে সেলিম বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, স্থানীয় সরকারসমূহে লুটেরাদের দালালদের সরিয়ে দিয়ে সেগুলো জনগণের শক্তির নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। আমরা সে পরিকল্পনাও করছি। সিপিবির সভাপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা গান গাইতাম- ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, একটি মুখে হাসির জন্য অস্ত্র ধরি’। হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে মুক্তাঞ্চল গঠন করে কুমিল্লা ক্যাম্পে বসে এই গান গাওয়ার সময় আমরা স্বপ্ন দেখতাম, মুক্তাঞ্চলের ফুলের বাগান যে সুশৃঙ্খলভাবে আমরা সৃষ্টি করেছি, দেশ স্বাধীন হলে পুরো দেশকেই এরকম সুন্দর ও সুসজ্জিত করা হবে। আর আজ, সে ফুলের বাগান প্রতিষ্ঠিত না হয়ে, ক্যাসিনোর বাগান প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেসব মুক্তাঞ্চলে ঘুষ ছিল না, দুর্নীতি ছিল না, নারী নির্যাতন ছিল না। আর এখন মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশক পর দেশ পরিণত হয়েছে লুটপাটের অভয়ারণ্যে। বালিশের জন্য বিল হচ্ছে ৬ হাজার টাকা, পর্দার জন্য ৩৭ লাখ টাকা, রডের বদলে বাশ দিয়ে লুটপাট চলছে। ঘুষ দুর্নীতিতে অনাচারে দেশ ছেয়ে গেছে। অন্যদিকে মন্ত্রী বলছেন, দেশে কোনো ঘুষ নাই, এগুলো সব স্পিড মানি। সেলিম বলেন, খুন, ধর্ষণ, সংখ্যালঘু নির্যাতন, আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। মন্ত্রীরা বলছেন, ‘পেঁয়াজের দাম বেড়েছে. সুতরাং পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করুন।’ পেঁয়াজ ছাড়াই ২২ পদের রান্নার রেসিপিও দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ব্যঙ্গ করে সিপিবি সভাপতি যারা এ ধরনের কথা বলছেন, তাদেরকে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে বাবুর্চির দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। ডাকসুর সাবেক এ ভিপি বলেন, মন্ত্রিরা কচুরিপানা মানুষের খাদ্য হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য গবেষণা করতে বলছেন। এসবই প্রমাণ করছে সরকার কেবল মানুষকে কষ্টই দিচ্ছে না, কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটাও দিচ্ছে। সেলিম বলেন, বাঙালির সম্পদ বিদেশে পাচার হওয়া রুখতে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। পাচার বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই আমরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু সম্পদ পাচার বন্ধ না হয়ে আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের ২০ বছরে যত সম্পদ ২২ পরিবারসহ বিদেশিদের দ্বারা বিদেশে পাচার হয়েছিল; গত ১০ বছরেই তার ১০ গুণ সম্পদ বাঙালি কতিপয় লুটেরাদের দ্বারা বিদেশে পাচার হয়েছে। বিদেশে সম্পদ পাচার বন্ধের জন্য ৩০ লক্ষ মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছিল। আজকেও দরকার হলে রক্ত দিয়ে সংগ্রাম করে এ পাচার বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, লুটেরা বুর্জোয়া শাসকরা এতদিন বলে এসেছে মাইক্রো ইকোনমিতে কিছু সমস্যা থাকলেও ম্যাক্রো ইকোনমি বা সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা খুবই ভালো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রোল মডেল। কিন্তু দেশের আর্থিক খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি আজ বিপর্যয়ের মুখে। লুটপাট করে, ঋণ নিয়ে অর্থনীতিকে রক্তশূন্য করে ফেলা হয়েছে। লুটপাট করা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বদলে লুটেরাদের স্বার্থে ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপর আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। অর্থনীতি ভালো চলছে বলে সরকার জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করেছিল, প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিল। এই প্রতারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারেরও এর জন্য একদিন না একদিন জবাবদিহি করতে হবে এবং শাস্তি ভোগ করতে হবে। ‘বলা হচ্ছে, আগে উন্নয়ন, গণতন্ত্র পরে। অথচ দেশে উন্নয়নের নামে বৈষম্য বাড়ছে। বলা হচ্ছে, গরিব মানুষের জন্য দান খয়রাত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু দান খয়রাতে বাঁচার জন্য এ দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না- এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের নতুন পর্ব সূচনা করার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ,’ বলেছেন তিনি। সিপিবি সভাপতি রোহিঙ্গা সমস্যাকে ‘মহা বিপদ’ অ্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ভারতের সাম্প্রদায়িক মোদী সরকারের নীতি ফলে বাংলাদেশও আজ হুমকিতে। সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল আমেরিকা শোষণ আধিপত্যের জালে বাংলাদেশকে আরও শক্তভাবে বেঁধে ফেলেছে। সাম্প্রদায়িকতা নতুন নতুন চেহারা নিয়ে বিস্তার লাভ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চলবে। জনগণ তার কাছে জানতে চায়, দেশ কি মদিনা সনদ অনুযায়ী চলবে, নাকি সংবিধানের চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অনুযায়ী চলবে? সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘পাল্টা সাম্প্রদায়িকতা’ দিয়ে, হেফাজতকে দিয়ে জামাতের বিপদ মোকাবেলা করা যাবে না। আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না। রাজনীতি এখন ভ্রষ্টাচার ও ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। এখন জনগণকে লড়াই শুরু করতে হবে রাজনীতি বাঁচাও আওয়াজ দিয়ে। ‘আওয়ামী লীগ সস্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী দল ছিল। এখন এটি মুক্তিযুদ্ধের ধারা পরিত্যাগে নেতৃত্ব দানকারী দলে পরিণত হয়েছে। লুটেরা বুর্জোয়ারা মুক্তিযুদ্ধের পতাকাকে ভুলুণ্ঠিত করেছে। কিন্তু আমরা এই পতাকার অবমাননা সহ্য করবো না। লুটেরা বুর্জোয়াদের দ্বারা ভুলুণ্ঠিত পতাকা বামপন্থিরাই ঊর্ধ্বে তুলে ধরে নববিজয় অর্জন করবে,’ বলেন তিনি। বাম গণতান্ত্রিক জোটের এ শীর্ষ নেতা বলেন, বাইরে থেকে যতই উন্নয়নের চাকচিক্য দেখানো হোক না কেন, দেশের মৌলিক ভিত্তিগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এই বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। সব বামপন্থি শক্তিকে আজ এই লক্ষ্য পূরণের জন্য এক হতে হবে। সারা দেশে ভাসানী, মনি সিংহ, তাহের, মোজাফফর, অমল সেন প্রমুখের অনেক অনুসারী হতাশ হয়ে নিস্ক্রিয়ভাবে ঘরে বসে আছেন। তাদেরকে আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে একত্রিত হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানাচ্ছি। এরা সবাই এক হলে, সেটাই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। তিনি বলেন, দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে এক আনা বা ৫ শতাংশ লুটেরা কোটিপতি, অন্যদিকে ১৫ আনা বা ৯৯ শতাংশ সাধারণ মানুষ। আমরা খালি বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আপনাদের সামনে হাজির হইনি। আমরা এসেছি, দেশ রক্ষার জন্য। এক অপ্রতিরোধ্য নতুন আন্দোলনের সূচনা ঘোষণা করার জন্য। আওয়ামী লীগ সরকার হটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সূচনা ঘোষণার জন্য। সেই সংগ্রামে শামিল হওয়ার জন্য আপনাদের আহবান জানাচ্ছি।
প্রথম পাতা
করোনা: চীনের অভিজ্ঞতা ও বিশ্ব পুঁজিবাদের ব্যর্থতা
দেশে একজনের মৃত্যু, আরেকজন ‘আশঙ্কাজনক’
শ্রমজীবী-শিক্ষার্থীদের স্যানিটাইজার দিচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন
মাস্কও বানাচ্ছে যুব ইউনিয়ন
ফাঁসির আরো কাছে যুদ্ধাপরাধী আজহার
লড়াই-সংগ্রামকে বেগবান করে মেহনতি মানুষের সরকার গড়বো
মহাবিপর্যয়ে সরকারের নিস্পৃহতা দায়িত্বহীনতায় সিপিবির ক্ষোভ
করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
সব হিসাব আছে শুধু শ্রমিকের জীবনেরটা নেই
‘বাগাড়ম্বর পরিহার করে ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়ান’
সাংবাদিক নির্যাতন গুমের বিরুদ্ধে দরকার গণপ্রতিরোধ
‘চাই জনগণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা’
করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পদ্ধতি উদ্ভাবন গণস্বাস্থ্য’র
‘উল্টো রথে’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..