অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যসেবা

অবকাঠামোয় আধুনিক হলেও সেবায় রুগ্ন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : এক বছরেরও বেশি সময় আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রয়োজনীয় কোনো যন্ত্রপাতি আসেনি সরকারি এ হাসপাতালটিতে। সরকারিভাবে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবলও নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে আধুনিক অবকাঠামোর এই হাসপাতালটি অনেকটা অকেজো এবং অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর এলাকায় তিন একর জায়গা নিয়ে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চারতলা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন ও চিকিৎসকদের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন করেন। আধুনিক অবকাঠামোর এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে শিশু ওয়ার্ড, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডসহ কেবিন এবং তিনটি অস্ত্রোপচার কক্ষ রয়েছে। কিন্তু এতসব থাকার পরও শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে রোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা যাচ্ছে না। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি শয্যা ও কিছু আসবাবপত্র এসেছে। কিন্তু চিকিৎসার যন্ত্রপাতি না আসায় সেগুলোও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে স্টোর রুমে। সরকারিভাবে লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় হাসপাতালটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অস্থায়ীভাবে পাঁচজন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রোগীদের টিকিট ফির টাকা থেকে তাদের বেতন দেয়া হচ্ছে। আর সর্দি-কাশি ও জ্বর-চুলকানির মতো ছোট-খাটো রোগের চিকিৎসা দিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে আটজন চিকিৎসক আনা হয়েছে। জেলার অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ থেকে কিছু ওষুধ এনে রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় লোকবলসহ ৮২টি পদে লোকবল নিয়োগের চাহিদাপত্র দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়। এর মধ্যে মাত্র ৪৬টি পদের অনুমোদন দেয়া হয়। হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি ৪৬টি পদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই ৪৬ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। হাসপাতালটি উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও এখনও পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোনো যন্ত্রপাতিও দেয়া হয়নি। ফলে হাসপাতালের সবকটি ওয়ার্ড, কেবিন ও অস্ত্রোপচার কক্ষ তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো বড় হাসপাতাল ভবন অথচ আমাদের চাহিদা মতো সেবা দিতে পারছে না। চিকিৎসার জন্য আমাদের জেলা সদরেই যেতে হচ্ছে। তাহলে এ হাসপাতাল দিয়ে লাভ কী? সর্দি-কাশির মতো রোগের ওষুধ দেয়ার জন্য তো আর হাসপাতাল হয়নি। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার এক বছর পার হলেও হাসপাতালে কিছুই আসেনি। দ্রুত হাসপাতালটিতে চিকিৎসকসহ সকল যন্ত্রপাতি দেয়ার দাবি জানান তারা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..