অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যসেবা

রোগী দ্বিগুণের বেশি সুবিধা অপ্রতুল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

খুমেক হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের বারান্দায় রোগীর ভিড়
খুলনা সংবাদদাতা : ৩৬ শয্যার ইউনিটে প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি থাকেন ৮০ জন। শয্যা সংকটে খোলা বারান্দায় মেঝেতেই সেবা নিতে হচ্ছে দগ্ধ রোগীকে। চিকিৎসক আছেন মাত্র একজন। সংকট রয়েছে যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের। এ চিত্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের। রোগীদের অভিযোগ, এ ইউনিটে সেবা দেয়া হয় নামমাত্র। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বার্ন ইউনিটের সংকটের বিষয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। এ কারণেই রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খুমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় ২০টি শয্যা নিয়ে চালু হয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। পরে সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. তরিকুল ইসলামের প্রচেষ্টায় এ ইউনিটে শয্যা সংখ্যা ৩৬-এ উন্নীত হয়। তবে নিয়মিতই এ ইউনিটে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকে। কোনো কোনো সময় রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। ধারণক্ষমতার বেশি রোগী থাকার কারণে বারান্দার মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হয়। সূত্র জানায়, এ ইউনিটে চারটি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও সবগুলো শূন্য। সহকারী রেজিস্ট্রার পদমর্যাদার একজন চিকিৎসক থাকলেও সম্প্রতি তাকে হাসপাতালেরই সার্জারি ইউনিট-২-এ বদলি করা হয়েছে। ফলে বার্ন ইউনিট রেজিস্ট্রার পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দুটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন কেবল একজন। তিনিই এ ইউনিটের একমাত্র চিকিৎসক। তিনি আবার প্রতি সোমবার আউট ডোরে রোগী দেখেন এবং রবি ও বুধবার সার্জারি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরাও এ ইউনিটে আসেন না। বলতে গেলে দুপুর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের দেখা মিলে না। এতে দুপুরের পর ভর্তি হওয়া রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন বাগেরহাটের নসিমনচালক সোহাগ। তিনি জানান, নসিমনে আগুন ধরে তেলের ট্যাংক ফেটে সৃষ্ট আগুনে তার শরীরের নিচের অংশ ঝলসে যায়। এর পর থেকেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও এখন পর্যন্ত অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। ড্রেসিংও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকের সংকট খুব তীব্র। এ ইউনিটে সুষ্ঠু চিকিৎসা দিতে কমপক্ষে সাতজন চিকিৎসক দরকার। কিন্তু আছে মাত্র একজন। সরবরাহ করা ওষুধ পর্যাপ্ত নয়। এসব ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তবু আশায় আছি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..