নদীতে ‘পুকুর চুরি’

নদী হলো পুকুর চলছে মাছের চাষ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : চিত্রা নদী ঝিনাইদহ অংশে পুকুর আছে ৮টি, এক গ্রামের ৮ দখলদার দীর্ঘ দিন পুকুরগুলো কেটে সেখানে মাছের চাষ করছেন। এমনই তথ্য পাওয়া গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের তালিকায়। অবশ্য এই নদীর ঝিনাইদহ অংশের ৪৩ কিলোমিটারে আরো বেশ কিছু দখলদার রয়েছেন। নদীর মধ্যে যাদের পুকুর, বাগান এমনকি বাড়িঘরও রয়েছে। যা ওই তালিকায় পাওয়া যায়নি। এই চিত্রা নদী বয়ে গেছে ঝিনাইদহ জেলার দক্ষিণ পাশ দিয়ে। এই নদীটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার নিম্নস্থল থেকে উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ঝিনাইদহে প্রবেশ করেছে। নদীটি আরো দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ হয়ে মাগুরার শালিখা হয়ে নবগঙ্গায় মিশেছে। ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটির ঝিনাইদহ অংশ রয়েছে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার। এক সময় এই নদীতে লঞ্চ-স্টিমার সবই চলতো। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে নদী ব্যবহার হতো। নদীর ঘাটকে ঘিরে গড়ে ওঠে কালীগঞ্জ শহরটি। বর্তমানে নদীটি দখল হয়ে সংকুচিত হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী দখলের পৃথক তালিকা তৈরি করেছে। যেখানে কালীগঞ্জ উপজেলার সিংদহ গ্রামের ৮ ব্যক্তি নদীতে ৮টি পুকুর করেছেন উল্লেখ করা হয়েছে। সিংদহ গ্রামে গিয়ে দখলদার ওই ৮ জনের কাটা ৮ টি পুকুর পাওয়া যায়। এদিকে নদী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কালীগঞ্জের চাঁচড়া এলাকা থেকে শালিখা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারে নদীর দুইপাড়ে অসংখ্য দখলদার রয়েছে। এখানে নদীর জায়গায় পুকুর কেটে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদী ভরাট করে নার্সারি প্রতিষ্ঠাও করেছেন দখলদাররা। মার্কেট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে এই নদীর মধ্যেই। দখলের কারণে নদীটি পরিনত হয়েছে খালে। কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে চিত্রা নদীর ব্রিজ ঘেঁষে নির্মাণ শুরু হয়েছিল একটি বিশাল পাকা ভবন। যেটা আপাতত বন্ধ আছে। এরই কিছুটা পশ্চিমে শিবনগর গ্রামের নিচে জনৈক মুক্তার হোসেন নদীর জায়গায় ঘর তৈরি করে মুরগীর ফার্ম করেছেন। শহরের মধ্যে নদীর উপর থাকা সেতুটির (পুরাতন সেতু) দুইপাশে মার্কেট গড়ে উঠেছে। সেতুর পশ্চিমে নদীর দুইপাড়ে যেভাবে বড় বড় পাকা ভবন তৈরি হয়েছে, এখন দেখে বোঝার উপায় নেই এটা নদী না খাল। সেতুর পূর্ব পাশেও দুইপাড়ে অসংখ্য পাকা ভবন। এক শ্রেণির লোকজন নানা কাগজপত্র দেখিয়ে এই সকল জায়গা তাদের বলে দাবি করে আসছেন। কিন্তু প্রবীণরা বলছেন, এগুলোর সবই এক সময়ে নদীই ছিল। শহরের কালীবাড়িটির কিছু অংশ নেমে গেছে নদীর মধ্যেই। সেখানেও দখল হয়েছে নদীর জায়গা। হেলাই হাসপাতালের নিচে নদীর মধ্যে বিশাল বড় পুকুর কাটা হয়েছে। এই পুকুরের পাড়ে বিশাল বিশাল গাছ রয়েছে। যেগুলো নদীর পানির গতিপথই নয়, গোটা নদীটিই আড়াল করে দিয়েছে। নিশ্চিন্তপুর এলাকার নদীর মধ্যে ঈদগাহ নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু দখল নয়, নদীতে নানা ধরনের ময়লা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। ক্লিনিকের বর্জ্য, শহরের ময়লা ফেলে পানি দুষণ করা হচ্ছে। কুকুর-বিড়াল মারা যাওয়ার পরও বস্তায় ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি দুষিত হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..