নারী কি পছন্দের পেশায় যেতে পারে?

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

সামিহা সুলতানা : একজন নারী জীবনে চলার ক্ষেত্রে খুব কমই তার পছন্দ অনুযায়ী পেশায় চাকরি করতে পারে। কোনো চাকরির আবেদনের আগে তার সংসার, পরিবার, স্বামী-সন্তান সকলের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করতে হয় এবং তাদের সুবিধা অনুযায়ী নিজ চাকরি বাছাই করতে হয়। কখনও কখনও তার যোগ্য চাকরির ক্ষেত্র পরিত্যাগ করে কাজ করতে হয় অতিসাধারণ কোনো প্রতিষ্ঠানে। সন্তানদের দেখাশোনা, শ্বশুরবাড়িতে সময় দেয়া, স্বামী সেবা এসকল দায়িত্ব পালন করে চাকরি করতে গেলে নারীদের পেশার সংখ্যা কমে হয়ে যায় খুবই সীমিত। একজন স্বামী তার স্ত্রীকে তখনই চাকরি করতে সম্মতি দেয় যখন স্ত্রী পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করে চাকরিটাও করে যেতে সক্ষম হয়। তেমনই এক সাধারণ নারী রুমা (ছদ্মনাম)। রুমা চাকরি করে এনজিওতে এবং তার স্বামী ব্র্যাক ব্যাংকে। ঢাকায়ই তাদের বাসা। তার স্বামীর খুলনাতে আরও ভাল চাকরি হওয়ায় রুমাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হলো এবং যেতে হলো খুলনায়। এমন ঘটনা খুবই সাধারণ। বহু পরিবারেই এমন হচ্ছে, কিন্তু কখনও একজন স্ত্রীর ভালো চাকরি অন্য কোনো শহরে হলে তার জন্য কোনো স্বামী নিজ চাকরি ছেড়ে স্ত্রীর সাথে যায় না। সংসার করতে গেলে প্রয়োজনে পরিবারের সুবিধার্থে নানা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় পেশার ক্ষেত্রে, কিন্তু এ ত্যাগ স্বীকার একপক্ষীয় কেন? পরিবারের কথা চিন্তা করে কেন শুধু স্ত্রীদেরই এ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। স্বামীর পেশায় উন্নতির জন্য একজন স্ত্রী তার চাকরি ছেড়ে ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকলে একজন স্বামী কেন তার স্ত্রীর জন্য সে ত্যাগ স্বীকার করবে না। পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীরা যেসব পেশায় বদলির সম্ভাবনা রয়েছে সেসব পেশায় আবেদনই করে না, কেননা বদলির চাকরি করার অনুমতি সে পরিবার থেকে পাবে না। একজন নারী তাই তার প্রতিভা প্রকাশের জন্য অনেকসময় উপযুক্ত পেশা গ্রহণই করতে পারে না। চাকরির ক্ষেত্রে অনেকসময় বদলি হলে, তার যেতে না পারার অক্ষমতার জন্য পিছিয়ে পড়তে হয় তার সহকর্মীদের থেকে। নন্দিতা (ছদ্মনাম) ব্যাংকে চাকরি করে। কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে তার বদলি হয় দুই বছরের জন্য রংপুরে। তার পাঁচ বছরের সন্তানকে রেখে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব না। তার স্বামী চাকরি করে ঢাকায়। মায়ের কাছেও সে তার সন্তানকে রেখে যেতে পারতো, তবে তার বদলির ব্যাপারে স্বামী একদমই একমত নয়। কারণ তার স্বামী সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখার দায়িত্ব নিতে রাজি না। সে স্বামী ও সন্তানের কথা বলে বদলি আটকালে তার চাকরির ক্ষেত্রে তার সম্পর্কে এক বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। তার জায়গায় তার পুরুষ সহকর্মী রংপুরে যায়। পরবর্তীকালে চাকরিতে পদোন্নতি তারই হয়। নারীদের এসকল তথাকথিত দুর্বলতার জন্য তাদের অনেকসময়ই পেশায় নিয়োগ দিতে চান না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। স্বামীর চাকরিতে কিছুদিনের জন্য বদলি হলে একজন নারী যদি তার সন্তান, পরিবার চাকরি সকল দায়িত্ব সামলে নিয়ে একা চলতে পারে তবে একজন পুরুষ কেন চলতে পারবে না। পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বামীদের সহযোগিতামূলক মনোভাব নারীদের গ্রহণযোগ্য পেশার সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি করতে পারে তেমনই নারীকে তার যোগ্য পেশায় অবদান রাখার সুযোগ করে দিতে পারে। বদলির কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশি দূতাবাস ও নানা আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিবিধ পেশায় নিয়োজিত নারীর সংখ্যা খুবই কম। নারীদের এ অবস্থানের পেছনে দায়ী সমাজ, পরিবার ও বিদ্যমান মানসিকতা আরোপিত এসকল সীমাবদ্ধতা। পরিবার ও সমাজের সকলের সহযোগিতামূলক মনোভাব নারীর জন্য সকল পেশার পথ উমুক্ত করে দেবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..