প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
সম্প্রতি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাস প্রতিরোধ এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কর করা যায়নি। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন একটি ‘জটিল এবং গুরুতর’ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হচ্ছে এই ভাইরাস গোটা বিশ্বকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতি এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কেবল চীনের মূল ভূখণ্ডেই নভেল বা নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ১৪৩ জনে। চীনের বাইরে আরও অন্তত ২৫টি দেশ ও অঞ্চলে আড়াইশর বেশি মানুষ এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে পুরো পৃথিবীতে ৩১ হাজার ৪২০ জনের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। তবে বেশিরভাগ মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে চীনের হুবেই প্রদেশে, যে প্রদেশের উহান শহরকে এ ভাইরাসের ‘উৎসস্থল’ বলা হচ্ছে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের অর্থনীতিই ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্ববাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। চীনের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনামসহ এ যাবত ২৫টি দেশে করোনা ভাইরাস রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে সীমান্তে কড়াকড়ি ও ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে গত ডিসেম্বরে ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয়, এরপর তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা ধরণা করছেন, বিষধর চাইনিজ ক্রেইট বা চাইনিজ কোবরা করোনা ভাইরাসের মূল উৎস হতে পারে। ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উহানের বাস, পাতাল রেল ও ফেরি পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া উহান থেকে বিদেশগামী বিমান ও ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। এতকিছুর পরও করোনা ভাইরাস চীনের পাশাপাশি জাপান, থাইল্যান্ড, হংকং, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত ছড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন কীভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে এবং কীভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়, তা বের করার। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথা বলা হলেও ভাইরাসটি কীভাবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে স্থানান্তর হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। তবে এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশ মারা গেছেন, হয়তো আরও মৃত্যু হতে পারে। তাছাড়া এমন মৃত্যুও হয়ে থাকতে পারে যা চিহ্নিত হয়নি। তাই এ ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ংকর, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এক দশক আগে সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল সেটিও ছিল এক ধরনের করোনা ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়েছিল ৮ হাজারের বেশি মানুষ। আর একটি ভাইরাসজনিত রোগ ছিল মিডল ইস্টার্ন রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স। ২০১২ সালে এতে মৃত্যু হয় ৮৫৮ জনের। বর্তমানে এই করোনা ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কার হয়নি। এমনকি অনেক দেশে এই রোগ হয়েছে কিনা তা শনাক্তকরণ যন্ত্রপাতি বিন্যাসও নেই। তবে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ রোগ থেকে বাঁচার জন্য ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..