ওআইসিতে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ইসলামিক দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তিচুক্তি পরিকল্পনাকে বিতর্কিত মন্তব্য করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ওআইসির ৫৭ সদস্য রাষ্ট্রকে এই শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ওআইসি বলেছে, ট্রাম্প প্রস্তাবিত এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি পকিল্পনায় ফিলিস্তিনি জনসাধারণের আইনগত অধিকার ও ন্যূনতম উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে দৃষ্টি দেয়া হয় নি। উল্টো এতে এমন সব টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার বিপরীত। সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির সদর দপ্তরে এ বিষয়ে বৈঠক বসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের। সেখানে ওই চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করতে সব সদস্যদেশকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ওআইসি বলেছে, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান, আল কুদস আল শরীফ পবিত্র শহর সহ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং ১৯৬৭ সালের জুন থেকে দখলিকৃত আরব ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলিদের প্রত্যাহারের মাধ্যমেই শুধু শান্তি অর্জিত হতে পারে। এর আগে শনিবার বিতর্কিত মার্কিন ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আরব লীগ। ইসলামিক দেশগুলোর সহযোগিতামূলক সংগঠন ওআইসির বৈঠকের শুরুতেই ইরানের একজন প্রতিনিধির যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল সৌদি আরব। এমনকি ওই বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদের কোনো ভিসা দেয় নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি বলেন, ওআইসির সদর দপ্তরে এই শতাব্দীর চুক্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। তা যাচাই বাছাই করা হবে ওই বৈঠকে। কিন্তু সেখানে ইরানি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ প্রতিরোধ করেছে সৌদি আরব সরকার। আয়োজিত বৈঠক নিয়ে নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করছে সৌদি আরব। ওআইসির বৈঠকের আগেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। পহেলা ফেব্রুয়ারি এক ঘোষণায় যা নিশ্চিত করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দখলকৃত পশ্চিমতীরে দুই পক্ষের নিরাপত্তা বাহিনী একইসঙ্গে নজরদারি রাখে। এই অঞ্চলটি এখন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফিলিস্তিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গেও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের চুক্তি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে নানা ক্ষেত্রে বয়কট করলেও সিআইএর সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে ফিলিস্তিন। এই ঘোষণার পর সকল সম্পর্ক ছিন্ন করল ফিলিস্তিন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেজ বলেছেন, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিরসনে ১৯৬৭ সালের প্রস্তাব অনুসারে দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার সংস্থা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্য নিউ আরব-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত শতাব্দির সেরা চুক্তি নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মধ্যে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানালেন মহাসচিব। জাতিসংঘের অবস্থান কী জানতে চাইলে মহাসচিব জানান, জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলবে জাতিসংঘ। গুতেরেজ আরও বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট, যে কোনও পরিকল্পনা জাতিসংঘ ও সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতিতে হতে হবে। আমরা কী বিশ্বাস করি ও ঊর্ধ্বে তুলে ধরি তা স্পষ্ট। আমাদের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তবে এতে জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ এবং ইরানপন্থি প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..