করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত চীনের অর্থনীতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : চীনের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে করোনা ভাইরাসের প্রভাব। বিপর্যয়ের ধকল পোহাতে হচ্ছে চীনের অর্থনীতিকে। নববর্ষের ছুটি শেষে প্রথম দিন থেকে চীনের পুঁজিবাজারে ৮ শতাংশ অবনমন হয়েছে। চীনের প্রধান সূচক সাংহাইয়ে ২০১৫ সালের আগস্টের পর সবচেয়ে বাজে দিন গেছে। ৩৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি শেয়ার মূল্য কমেছে। সামগ্রিকভাবে বাজারের দরপতন হয়েছে ৭.৭২ শতাংশ। ধকলের আশঙ্কায় আগেই ব্যাংকিং ও মুদ্রা বাজারকে সহায়তা দিতে ১৭ হাজার কোটি ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তাতেও পতন ঠেকানো যায়নি। করোনা ভাইরাস আতঙ্ককেই এজন্য দায়ী করছেন সকলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমতে থাকা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এতে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীন সরকার সমর্থিত থিংকট্যাংক চায়না একাডেমি অব সোস্যাল সায়েন্সেসের অর্থনীতিবিদ ঝাং মিং মনে করেন, করোনা ভাইরাস মহামারিতে তিন মাসের মধ্যে চীনের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ কমবে। চীন বর্তমান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দেশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের ওপর যেকোনো নেতিবাচক প্রভাব নিশ্চিতভাবেই পুরো বিশ্বের ওপর ছড়িয়ে পড়বে। এদিকে করোনা ভাইরাসে বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন বৈশ্বিক তেল বাজার। জানুয়ারির শুরু থেকে ধস নেমেছে তেলের বাজারে। এক বছরের মধ্যে তেলের দাম এখন সবচেয়ে কম। জানুয়ারিতে দাম স্থিতিশীল থাকলেও কয়েকদিনের ব্যবধানে তা ২০ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। অবস্থা এতটা বেগতিক হয়ে পড়েছে যে, আগামী সপ্তাহগুলোতে উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের মতো তেল আমদানি করে থাকে দেশটি। কিন্তু মহামারির পর থেকে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চীনের তেলের প্রয়োজন কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া, ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীন হওয়ায় অসংখ্য এয়ারলাইন্স চীনের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। যার দরুন, বিশ্বজুড়ে প্রয়োজন কমেছে বিমানের জ্বালানিরও। চীনের ভেতরেও ভ্রমণ নিয়ে বিধিনিষেধ থাকায়, সেখানেও বিমানের জ্বালানির দরকার হ্রাস পেয়েছে। গড় হিসেবে চীনের নিয়মিত অপরিশোধিত তেল ব্যবহার ২০ শতাংশ কমেছে। এ পরিমাণ ইতালি ও বৃটেনে ব্যবহৃত তেলের সমান। ফলস্বরূপ, চীন সরকারের মালিকানাধীন তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোপেক গড়ে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেল বা ১২ শতাংশ তেল পরিশোধন করা কমিয়ে দিয়েছে। এক দশকে প্রতিষ্ঠানটির তেল পরিশোধনের এ হার সর্বনিম্ন। প্রসঙ্গত, সিনোপেক হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান। শিকাগোভিত্তিক তেলের বাজার বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, তেলের এত বেশি দরপতনে কেঁপে উঠেছে পুরো জ্বালানি শিল্প। এর আগে এত দ্রুত এ পরিমাণের চাহিদা নষ্টকারী ঘটনা দেখিনি কখনো। বাজারের এমন অবস্থা নিয়ে ১৪টি তেল উৎপাদনকারী দেশের জোট অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস (ওপেক) ভিয়েনায় বৈঠক করেছে। এতে তেলের দাম বাড়াতে উৎপাদন কমিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ওপেক সদস্য ইরান সোমবার প্রকাশ্যেই তেলের দাম বাড়াতে পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অনুসারে, গেল মঙ্গলবারের বৈঠকে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা চলমান সংকট কাটাতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..