মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মনির তালুকদার : ১৯৯৮ সালে “কুদস ফোর্স” প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রভাবশালী মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি কুদস ফোর্স পরিচালনা করতেন। ইরানের কুদস ফোর্সের মতো ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেরও তিনি ছিলেন কার্যত প্রধান। ওই ফোর্সের কাজ হলো ইরানের বাইরে বিভিন্ন দেশে “গোপন অভিযান” পরিচালনা করা। সোলাইমানি তার কাজের জন্যে শুধু আয়াতুল্লাহ খামেনির কাছে জবাবদিহি করতেন। ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আল কুদস শাখার প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছিল ইসরাইল, ইরাক ও সিরীয় গুপ্তচররা। বাগাদে যেদিন ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার সোলাইমানিকে আমেরিকা হত্যা করে– ঠিক সেইদিনই ইয়েমেনে তৎপর ইরানের কুদস ফোর্সের শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডার আবদুর রেজা শাহলাইকে আমেরিকা হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টে। পত্রিকাটি বলছে– ইরানি কুদস ফোসেৃর শীর্ষ পর্যায়ের ওই কমান্ডার ইয়েমেনে তৎপর ছিলেন এবং ইয়েমেনে হুতি আনসারুল্লাহ যোদ্ধা এবং তাদের সমর্থিত সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন। ইতোপূর্বেও দেখা গেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেশি সরব, তাদের হত্যা করা হয়েছে। লাদেন, বাগদাদি– এবার সোলাইমানি। এছাড়াও ইসরাইলের মোসাদ ইরানি বিজ্ঞানী মাসুদ আলী মোহাম্মদী, মাজিদ শাহরিয়ারি, দারিউস রেজায়ীনিজাদ, মোস্তফা আহমদি প্রমুখকে বিভিন্ন সময়ে হত্যা করেছে। আমাদের জানা দরকার সোলাইমানিকে হত্যার নেপথ্যে কী? জেনারেল সোলাইমানি মুলত সারা জীবনই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। বিশেষ করে ২০১১ সালে যখন সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে আমেরিকা, ইসরাইল এবং তাদের পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্ররা লেলিয়ে দিয়েছিল তখন যার নেতৃত্বে ওই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিরাট প্রতিরোধ ফ্রন্ট গড়ে তোলা হেয়ছিল তিনিই জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। তিনি ইরাক ও সিরিয়াতে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস’র বিরুদ্ধে জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছেন। সোলাইমানি হচ্ছেন সে ব্যক্তি যিনি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা, ইসরাইল এবং তাদের বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রচণ্ড রকমের একটা বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। বিরাট একটা শক্তির পক্ষ থেকে ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লেলিয়ে দিয়ে এবং যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে কূটকৌশল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছিল সে পরিকল্পনা এক কথায় নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। ইরানের এই জেনারেলের কারণে আমেরিকা, ইসরাইল এবং তাদের মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি আমেরিকা, ইসরাইল এবং তাদের পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্রদের মাথা ব্যথার অনেক বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা এবং ইসরাইলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে নিঃসন্দেহে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দীর্ঘ চার দশক ধরে আমেরিকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখে সারাবিশ্বে ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরান তার কূটনৈতিক সততা ও দক্ষতা দিয়ে ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে উঠেছে বরং এখন আমেরিকাকে আন্তÍর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছে। একারণেই পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকা সরে গেলেও তারই ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপের দেশগুলো কিন্তু ইরানের সঙ্গে চুক্তি থেকে সরে যায়ীন। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ ইরানকে গত দুই দশক ধরে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং ওই দুটি দেশ এখন ইরানের অত্যন্ত ঘনিষ্ট মিত্র। রাশিয়া এবং চীন ইরানের যেমন অর্থনীতিক মিত্র, তেমনি রাজনৈতিক মিত্র। সামরিক দিক দিয়ে তার চেয়েও সম্ভবত বড় মিত্র হতে চলেছে। কারণ আগামী অক্টোবর থেকে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। তখন ইরান অস্ত্র রফতানি করতেও সক্ষম হবে আবার যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে রাশিয়া এবং চীনের কাছ থেকে তার সুবিধা মতো অস্ত্র কিনতে পারবে। এখানেও জেনারেল কাসেম সোলাইমানির কূটনৈতিক কার্যক্রমের একটি বড় ভূমিকা ছিল। এর পাশাপাশি সিরিয়া, ইরাক এবং ইয়েমেন ইস্যুতে ইরানি কৌশলের কাছে আমেরিকা দারুণভাবে আটকে গেছে। এসব দেশে মার্কিন কৌশল বারবার যেমন মার খেয়েছে, তেমনি ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন, ফিলিস্তিন প্রতিটি দেশে মার্কিন ও ইসরাল বিরোধী শক্তিশালী প্রতিরোধ সংগঠন গড়ে উঠেছে। ওইসব দেশের সাধারণ মানুষও দিনদিন প্রচ-ভাবে মার্কিনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। আিেরকা, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা মিলে “নিউ মিডলইস্ট প্ল্যান” বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছে তা ব্যর্থ করে দিতে ইরান এবং এই প্রতিবোধকামী সংগঠগুলো খুবই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ওই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্যে জেনারেল সোলাইমানির মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যক্তিত্বকে হত্যা করা ইসরাইল এবং আমেরিকার জন্যে অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। মধ্যেপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি সমীকরণে মনে হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তবে এই যুদ্ধ শুরু করা হলে তার পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই হলো কথা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ইরানের সাথে যদি সংঘাত শুরু হয়, তাহলে তার প্রভাব সারাবিশ্বে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্য সফরের প্রথম দিনে সৌদি আরব পৌঁছে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠক করেন। শিনজো আবে পরিষ্কার করে বলেন, ইরানের মতো দেশের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে শুধু আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হবে না, বরং সারাবিশ্বের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা এবং শান্তি বিঘিœত হবে। নতুন পরিস্থিতিতে দুই দেশের প্রক্সি বাহিনীগুলোর সংশ্লিষ্টতায় সংঘাত বাঁধানো হলে সেটি কিছুটা সীমিত পরিসরের হতে পারে। জর্দানের বাদশাহ আবদুলাহকে দিয়ে আইএসের নতুন করে উত্থানের থিউরি বাজারে চাউর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সহায়তায় এ ধরনের একটি বাহিনী ইরাক-সিরিয়ায় সক্রিয় করে তোলা হতে পারে। তবে এ অঞ্চলে প্রতাপের সাথে রুশবাহিনী অবস্থান করায় সে ধরনের অপচেষ্টা অঙ্কুরেও নষ্ট হতে পারে। আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ¦গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অনিবার্যভাবেই রাশিয়ার যুক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতোমধ্যে রুশ কর্মকর্তারা তেমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। আর এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা পরমাণবিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তবে ব্রাজিলের সাংবাকি পেপে এসকোবার বলেছেন, ট্রাম্প এই মুহূর্তে সম্ভবত ইরানের সঙ্গে আর কোনো সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবেন না এবং এটা তাকে উপসাগরীয় দেশগুলো বাদে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করার সুযোগ এনে দিতে পারে। ট্রাম্প আসলে বেরিয়ে যেতে চান। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ওয়েবসাইট দেবকা-মোসাদ স্বীকার করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর অযোগ্য। এর গূঢ় বিষয়টি হলো এটি এত নিচে দিয়ে যায় যে কোনো রাডারে তা ধরা পড়ে না। গোয়েন্দা সূত্রটি হোভাইজেহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেছে, যার পাল্লা হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। তেহরান ইতিমধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ইরানের হাতে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র। যার পাল্লা ২ হাজার ৫০০ শত কিলোমিটার। অপর দিকে ইরান চীনের সঙ্গেও কথা বলেছে, তবে অত্যন্ত সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে। ওই ব্যাপারে অনেকেই একমত যে চীন হবে ইরানের ভবিষ্যৎ অংশীদার এবং দেশটি একসময় বিশ্ব আধিপত্যবাদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলাভিষিক্ত হবে। চীন ইতোমধ্যে ইরানে বিনিয়োগ করেছে। তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে চীন বিনা স্বার্থে ইরানে বিনিয়োগ করেছে। তারা সেখানে প্রায় চীনা নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করতে যাচ্ছে। তবে সবকিছু মিলে চাপ দিয়ে যে ইরানকে নত করা যাবে না তা ইরানি কর্মকর্তাদের কিছু বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর প্রতি তেহরানের ঘনিষ্ট সমর্থন অব্যাহত থাকবে। সিরিয়ার পুনর্গঠনের সময়টিতে সে দেশের সরকার ও জনগণের পাশে থাকবে তেহরান। প্রতিরোধ আন্দোলন এখন মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রতিষ্ঠিত মতবাদ ও সংলাপের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ করে উরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আমেরিকা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার মাধ্যমে ওই অঞ্চলে মোতায়েন নিজের সেনাদের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এ অঞ্চলের একটি চলমান প্রক্রিয়ায় পরিণত হওয়া উচিত। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের বহিষ্কার না করলে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, সম্প্রীতি এবং টেকসই নিরাপত্তা কখনোই আসবে না। দুই দেশের বিরোধ ও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, গত বছর মে মাসে “জয়েন্ট কম্প্রিহেন্সিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন” (জেসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার সিদ্ধান্ত। ভার্জিনিয়া টেক-এর অর্থনীতির অধ্যাপক জাভেদ সালেহী ইস্পাহানি বলেছেন, ভুল নীতি নিয়ে এগোচ্ছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের প্রথম ভুল ছিল ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করা। নতুন নতুন অবরোধ আরোপ করা। ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ দেয়া এবং কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে ফেলা, যাতে করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কথামতো সব শর্ত মেনে চলে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তখন আন্দাজ করতে পারেনি, নতুন নতুন অবরোধ আরোপ করার পর ইরান এত দ্রুত তার অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারবে। ২০১৯ সালের শেষ দুই-তৃতীয়াংশে দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ৪ শতাংশ বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে ইরান সম্পর্কে যে ধারণা করেছিলেন– সেটা ভুল। যে কোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে পারে। কয়েকদিন আগে ইরান সংলগ্ন উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধ হলো। সেখানে আর কয়েকটি দেশের পর এবার দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়াও যোগ দিতে সেনা ও জাহাজ পাঠিয়েছে। এমন বিস্ফোরণোন্মুখ সময়ে সোলাইমানির হত্যা যুদ্ধের সুপ্ত হলাহলকে উসকে দিয়েছে। এতে করে যেকোনো সময় ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হতে পারে। জেনারেল সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের পর আইএস ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সিআই-এর ডেপুটি ডাইরেক্টর মাইকেল কলিন্স বলেছন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে” ‘কোল্ড ওয়ার’ শুরু করেছে। রাশিয়া তো আছেই। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের চরম পদক্ষেপে এ বছরের শুরু থেকেই আমেরিকা এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে গেছে। চীন শিগগিরই সমরাস্ত্রের দিক দিয়ে আমেরিকাকে পেছনে ফেলে দেবে। সেই চীন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সমর্থন দিয়েছে। অপরদিকে আইএসএস নাইজেরিয়া, লিবিয়া ও পাকিস্তানে নিজেদের পুনঃগঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সিরিয়া ও ইরাকে আইএস পরাজিত হলেও আমেরিকা ও তার মিত্রদের স্বার্থে তার আঘাত করার শক্তি আগের চেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আইএস, আলকায়েদা, আল-শাবাব ও বোকা হারামকে সমর্থন দিতে ইরানি কুদস ফোর্স এখন আর কাউকে তোয়াক্কা করবে না। ফলে ক্ষমতাদর্পী আমেরিকার বিভিন্ন সেক্টরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সংকট বেড়ে গেছে। আমেরিকার যুদ্ধ জাহাজ “আব্রাহাম লিংকন” যেখানে ৫০টি যুদ্ধ বিমান ও ছয় হাজার নৌ কমান্ডো রয়েছে; সেটি এক সময় পারস্য উপসাগরে ভীতির সৃষ্টি করলেও এখন জাহাজটি ইরানের টার্গেটের মধ্যে। অনেক সময়ের দরকার হলেও ইরান তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই পরমাণু বোমা বানাতে পারবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে তা অর্জন করতে দেয়া হবে না। মোট কথা, বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..