নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে আ. লীগ সরকার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ঢাকা সিটি নির্বাচনের পর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বাম গণতান্ত্রিক জোট বলেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তোপখানা রোডের বাসদ (মার্কসবাদী) কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভার প্রস্তাবে এ কথা বলা হয়। জোটের তখনকার সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক মনির উদ্দিন পাপ্পু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আ.ক.ম. জহিরুল ইসলাম, বাচ্চু ভুইয়া ও শহীদুল ইসলাম সবুজ। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে শতকরা ৯০ ভাগ ঢাকাবাসী ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে বর্তমান সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা প্রকাশ করেছে। বিগত জাতীয় নির্বাচনে ৩০ ডিসেম্বরের দিনের ভোট ২৯ তারিখ রাতে ডাকাতি করে ভোটাধিকার হরণের যে নজির স্থাপন করেছে তাতে জনগণ মনে করে বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তারই প্রমাণ হলো ঢাকা সিটি নির্বাচন। প্রস্তাবে বলা হয়, শাসক দলের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘বিএনপির ইভিএমবিরোধী প্রচারণার কারণে জনগণ ভোট কেন্দ্রে আসেনি’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভোটার অনুপস্থিতির কারণটা গবেষণার বিষয়’, শাসক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘১০০ বছরেও এমন স্বচ্ছ ভোট হয়নি’, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘শীতের কারণে ভোটার কম এসেছে’, পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিতবেই এ অতিবিশ্বাসের কারণে ভোটার কম’; আর দলকানা নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন, ‘ব্যস্ততার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম’, ‘আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোট কেন্দ্রে গেলেই তো আরো বেশি ভোট পড়ার কথা’ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে ভোট নিয়ে শাসক দল, নির্বাচন কমিশন, আমলা প্রশাসন, পুলিশ ও গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার অগণতান্ত্রিক চেহারা ফুটে উঠেছে। ঢাকার জনগণ এ বিষয়টা আগেই টের পেয়েছিল ফলে তারা ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে সরকার ও কমিশনের প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা প্রকাশ করেছে। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, আওয়ামী মহাজোট সরকার শুধু জনগণের ভোটাধিকারই হরণ করেনি, গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পথকে রুদ্ধ করে অগণতান্ত্রিক শক্তির ক্ষমতা দখলের রাস্তা প্রসস্ত করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়, ভোট এতো কম পড়েছে যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ১০% এর বেশি ভোট পড়েনি। আর সিইসি যেহেতু বলেছে ৩০% এর কম পড়েছে ফলে পরীক্ষার টেবুলেশন সীট মিলানোর মতো ভোটের হিসাব ও বিলিবণ্টন মিলাতে ইভিএম-এ ভোট হওয়ার পরও ফল ঘোষণায় অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণে তা স্পষ্ট হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, ভোটে যে অনিয়ম, কারচুপি হয়েছে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কথিত ভোট সহায়তাকারীর উপস্থিতি, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের আনসার হিসেবে ভোটে নিয়োগ, কেন্দ্রের বাহিরে-ভিতরে ৩ স্তরের আওয়ামী ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী মোতায়েন করে জনমনে শংকা তৈরি ইত্যাদি ঢাকাবাসীসহ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান আওয়ামী সরকার তথা দলীয় সরকারের অধিনে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয় এটা আবারো প্রমাণ হলো সিটি নির্বাচনে। ফলে রাজপথের আন্দোলনে বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদ করেই জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে বাম নেতারা বলেছেন, জনগণের ভোটকেন্দ্র বিমুখিনতার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ, তাদের ১৪ দলীয় জোট ও নির্বাচন কমিশন। এরা নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করে আওয়ামী সরকারের নির্লজ্জ তাবেদারি করে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সরকারের পছন্দ অনুযায়ী সাজানোর কাজ করেছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ অথর্ব নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেন। বাম নেতারা বলেছেন, সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে পাওয়া নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অপসারণ ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নেতৃবৃন্দ নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে গণআন্দোলন ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
প্রথম পাতা
সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা জীবন-জীবিকাকে হুমকিগ্রস্ত করেছে
‘আর একজন মানুষও যেন বিনা চিকিৎসায় না মরে’
সারাদেশে বিদ্যুতের `ভুতুড়ে বিল’ ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশে সিপিবির ক্ষোভ
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের নয়া ষড়যন্ত্র, বাম জোটের উদ্বেগ-প্রতিবাদ
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সিপিবি’র হুঁশিয়ারি
অপচয় রোধ না করে যারা শিল্প বন্ধ করে তারা ‘গণশত্রু’
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ হবে ‘ধ্বংসাত্মক ও আত্মঘাতী’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ প্রগতিশীল ছাত্র জোটের
ভাষা সংগ্রামী ন্যাপ নেতা এম এ রকীবের মৃত্যু, সিপিবির শোক
এক বছরেই নতুন কোটিপতি ৮২৭৬ জন
১৩ মাসের বকেয়ার দাবিতে প্যারাডাইস কেবলসের শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলন

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..