যুক্তরাষ্ট্র-চীন চুক্তি স্বাক্ষর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : বাণিজ্যযুদ্ধকে শিথিল করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় রকমের প্রভাব ফেলেছে এবং বাজারকে করে তুলেছে এলোমেলো। এমন অবস্থাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে ওই চুক্তি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে এ নিয়ে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য পরিবর্তনশীল হবে। অন্যদিকে চীনা কর্মকর্তারা চুক্তিটিকে উভয়পক্ষের জন্য ‘উইন-উইন’ চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা মনে করছেন, এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত হবে। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে পরিমাণ আমদানি করেছে চীন তা ২০০০০ কোটি ডলার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বিষয়ক আইন শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত নতুন শুল্ক অর্ধেক করে দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনও সীমান্তে আয়কর আগের অবস্থায়ই রয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়িক গ্রুপগুলো আরো আলোচনার দাবি তুলেছে। ইউএস চেম্বার অব কমার্সের চায়না সেন্টারের প্রেসিডেন্ট জেরেমি ওয়াটারম্যান বলেছেন, সামনে আরো প্রচুর কাজ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্কোর কার্ড হিসেবে দেখেছেন বাণিজ্য ঘাটতিকে এবং তিনি বিশ্বাস করেন শুল্কযুদ্ধ চীনের সাথে তার দেশে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারে। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক কমেছে, যদিও এখনও তা অনেক বেশি আছে। গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে আগের বছরের চেয়ে ঘাটতি কমেছে প্রায় ছয় হাজার কোটি ডলার এবং এখন এ ঘাটতির পরিমাণ ছত্রিশ হাজার কোটি ডলার। তবে এ ঘাটতি কমানোর মূল্য স্বরূপ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কমেছে প্রায় দশ হাজার কোটি ডলারের। যুক্তরাষ্ট্রের আশংকা তাদের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে তিন শতাংশ কম হবে এবং এর একটি বড় কারণ বাণিজ্য যুদ্ধ। বিশ্লেষকরা বলছেন এর পুরো প্রভাব বুঝতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। চীনের প্রবৃদ্ধিও নিম্নমুখী। ২০২০ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় ৬% কমতে পারে বলে বলছে বিশ্বব্যাংক। তিন দশকের মধ্যে এটাই হবে সবচেয়ে কম। আবার দুটি বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যকার এ লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিও। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জিওরগিয়েভা বলেছেন,‘এই যুদ্ধে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’। তবে চীন ছাড়াও অন্য বাণিজ্য অংশীদারদের সাথেও বাণিজ্য চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব বাণিজ্য দ্বন্দ্বের কারণে আইএমএফ বলছে ২০১৯ সালের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা ৩% কমিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে শুল্ক আরোপের যুদ্ধে ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হবে এমন এক যুদ্ধে লিপ্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এর ফলে ৪৫০০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আমদানি কর দিতে হয়। চলমান এই বিরোধে বাণিজ্যিক প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর অবসানে এই চুক্তি করা হয়েছে। এর আওতায় ২০০০০ কোটির যে মার্কিন পণ্য আমদানি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে চীন তার মধ্যে রয়েছে কৃষিজাত, শিল্পজাত, জ্বালানি ও সেবাখাত। কৃষি উৎপাদন আমদানি করবে ৩২০০ কোটি ডলারের। শিল্পজাত পণ্য আমদানি করবে ৭৮০০ কোটি ডলারের। জ্বালানি আমদানি করবে ৫২০০ কোটি ডলারের এবং সেবাখাত থেকে আমদানি করা হবে ৩৮০০ কোটি ডলারের সেবা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..