যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারি ভোট ৩ ফেব্রুয়ারি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারি ভোট। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেট দল থেকে প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রাইমারি ভোট। প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেট দল থেকে প্রার্থী ৬ জন। তবে ডেমোক্রেট দলের সবচেয়ে উদারপন্থি দুই প্রার্থী সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি স্যান্ডার্সের মধ্যেই লড়াই তুমুল হবে বলে নিশ্চিত করেই বলছেন বিশ্লেষকরা। প্রার্থীদের মধ্যে এলিজাবেথ অ্যান ওয়ারেন প্রাক্তন একাডেমিক। তিনি পূর্বে দেউলিয়ার আইনে বিশেষজ্ঞ আইনি অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে ম্যাসাচুসেটস থেকে সিনিয়র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন সদস্য এবং একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ হিসেবে সুপরিচিত। ওয়ারেন সিনেটে থাকাকালীন ভোক্তা সুরক্ষা, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং সামাজিক সুরক্ষার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। অপরদিকে বার্নার্ড স্যান্ডার্স বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটের একজন সদস্য। তিনি গণমাধ্যমে সাধারণভাবে বার্নি স্যান্ডার্স নামেই বেশি পরিচিত। তিনি ২০০৬ সালে ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্যের একজন সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন এবং এরপর আরও দু’বার পুনর্র্নিবাচিত হন। ২০১৬ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী মনোনয়ন পর্বে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে নিজেকে একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী মনোনয়নের অভ্যন্তরীণ ‘প্রাইমারি’ নির্বাচনে তিনি আশাতীত সাফল্য অর্জন করেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার শ্রেণি ও শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের কাছে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রায় ৪৩% ডেলিগেট বা প্রতিনিধির ভোট অর্জন করেন। ২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড বেশ কয়েকটি কারণে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি তার নির্বাচনী তহবিল গঠনের ক্ষেত্রে বৃহৎ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তথা কর্পোরেশন, আর্থিক সংগঠন যেমন ব্যাংক, এবং যেকোন ধরনের ‘সুপার প্যাক’ (অতিরিক্ত নির্বাচনী তহবিল গঠনকারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডমূলক সমিতি)-এর কাছ থেকে সব ধরনের বড় অঙ্কের টাকার অনুদান প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন যে তার নির্বাচনী প্রচারণা কর্মকাণ্ড একটি “রাজনৈতিক বিপ্লব” শুরু করেছে, যেখানে বিশাল অঙ্কের অনুদানের টাকা উপঢৌকন দিয়ে রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা আদায় করার স্থান নেই। বার্নি স্যান্ডার্স নিজেকে একজন প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। শ্রমিকের অধিকার বৃদ্ধি এবং মার্কিন সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ তার লক্ষ্য। তিনি জনগণের করের টাকায় চালিত ও সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটিমাত্র সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, সন্তান জন্মদানজনিত কারণে মাতাপিতার বেতনসহ ছুটিভোগের ব্যবস্থা এবং সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা প্রণয়নের পক্ষে একজন সরব প্রবক্তা। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে স্যান্ডার্স সামরিক খরচ কমানো, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলি আলোচনার সময় শ্রমিকদের অধিকার ও পরিবেশের ওপর বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নেয়ার পক্ষপাতী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..