ভয়ংকর নিম্নমুখী জার্মানির অর্থনীতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : গত ২০১৯ সালে জার্মানির একযুগের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ব্রেক্সিট ও বিশ্ববাণিজ্য নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বকে এজন্য দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন অবস্থায় চাপ বাড়ছে ম্যার্কেল সরকারের ওপর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। বড় ধরনের পতন হয়েছে বিদায়ী বছরে। ২০১৯ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র দশমিক ছয়ভাগে। ২০১৮ সালে এই হার ছিল এক দশমিক পাঁচ ভাগ আর ২০১৭ সালে দুই দশমিক পাঁচ। সব মিলিয়ে ২০১৩ সালের পর জিডিপির সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে গত বছর। জার্মানির ফেডারেল স্ট্যাটিসটিকস অফিস এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তবে এই খারাপ খবরের মধ্যেও ইতিবাচক দিকটি হচ্ছে টানা ১০ বছরের মত প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। দুই জার্মানির একত্রীকরণের পরে এই প্রথম এত দীর্ঘ সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমার জন্য মূলত বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য দ্বন্দ্ব রপ্তানিনির্ভর জার্মান অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্রেক্সিট ইস্যু। পাশাপাশি জার্মানির প্রধান রপ্তানি খাত গাড়ি শিল্পও ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈদ্যুতিক জ্বালানি নির্ভর প্রযুক্তিতে রূপান্তরের পথে রয়েছে তারা। ২০০৯ সাল থেকে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে জার্মানি। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি তার সেরা সময়টা পার করে ফেলেছে। বেরেনবার্গ ব্যাংকের হোলগার স্মিডিং বলেন, ‘জার্মানি প্রবৃদ্ধির যে স্বর্ণযুগ দেখেছে ধীরে ধীরে তার প্রান্তে এসে পৌছেছে।’ তবে আশার বিষয় হল, ২০১৯ সালেও জার্মানির জিডিপিতে এক দশমিক পাঁচ ভাগ উদ্বৃত্ত ছিল। যা বিনিয়োগ করে অর্থনীতির গতি ফেরানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ‘এই উদ্বৃত্ত ডিজিটালাইজেশন, অবকাঠামো আর শিক্ষার মত কিছু প্রতিষ্ঠিত খাতে বিনিয়োগ করা উচিত,’ বলেন আইএনজি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ কার্স্টেন জেস্কি। অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে চাপ বাড়ছে ম্যার্কেল সরকারের ওপর। এর ফলে জোট সদস্য সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের (এসপিডি) সাথে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) বিরোধ বাড়তে পারে। এসপিডি সামাজিক খাতে ব্যয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য চাপ দিয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু নীতিগত পরিবর্তনের আভাসও মিলছে। গত মঙ্গলবার রেল নেটওয়ার্কের উন্নয়নে ছয় হাজার ২০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের একটি ঘোষণা এসেছে সরকারের কাছ থেকে। তবে সামনের দিনে জার্মানির অর্থনীতি কেমন যাবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্য সংশয় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্ডেসবাঙ্কের পূর্বাভাস বলছে, ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি গত বছরের পর্যায়ে থাকবে। আবার অনেক বিশ্লেষকের ধারণা তা কিছুটা বেড়ে এক ভাগ হবে। কেননা ২০১৯ সালের চেয়ে চলতি বছর বেশি কর্মদিবস পাওয়া যাবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..