লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : অবশেষে লিবিয়ায় ৯ মাসের গৃহযুদ্ধের অবসান হওয়ার আশা করা হচ্ছে। রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় অবশ্যই মানতে হবে এমন একটি যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করেছে ত্রিপোলিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড (জিএনএ)। তবে এই সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কমান্ডার খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে সময় চেয়েছে। এতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে জিএনএন এবং এলএনএ’র মধ্যে টানা প্রায় আট ঘন্টা আলোচনা হয়। এরপর একটি যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করতে উভয় পক্ষকে আহ্বান জানায় মধ্যস্থতাকারী রাশিয়া ও তুরস্ক। বলা হয়, এই যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করলে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ও পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জিএনএ। এই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন ফায়েজ আল সেরাজ। তিনি ওই যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করেছেন। তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, এলএনএ’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল। এই বাহিনীর কমান্ডার খলিফা হাফতার। তারা রাজধানী ত্রিপোলিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য জোর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে সম্প্রতি। বিংশ শতাব্দীর মস্কো ম্যানসনে ওই শান্তি আলোচনা হয়। সেখানে সের্গেই ল্যাভরভ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা বলতে পারি আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।’ তবে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস বলছে, ফায়েজ আল সেরাজের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান খলিফা হাফতার। ফলে রাশিয়া ও তুরস্কের কূটনীতিকরা এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল লিবিয়ায় কমান্ডার খলিফা হাফতারের প্রতি অনুগত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএন)। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ওইসব যোদ্ধারা পশ্চিমাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী ত্রিপোলি। এলএনএর মুখপাত্র আহমেদ মিসমারি ১১ জানুয়ারি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছেন, লিবিয়ার পশ্চিমে একটি যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করেছে এলএনএ। তবে অন্যপক্ষগুলো যদি তা মেনে চলে তবেই তা কার্যকর হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কোনোভাবে কেউ এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে তার কঠোর জবাব দেয়া হবে।’ লিবিয়ায় জাতিসংঘের সাপোর্ট মিশন এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে এই যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে লিবিয়ান-লিবিয়ান সংলাপের মাধ্যমে সব পক্ষের মধ্যকার বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা যায়। ত্রিপোলিভিত্তিক ফায়েজ আল সেরাজের নেতৃত্বাধীন জিএনএর প্রতি সমর্থন রয়েছে তুরস্কের। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলীয় শক্তির পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে রাশিয়ার সামরিক কন্ট্রাক্টরদের। জিএনএর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য যুদ্ধবিরতিকে তারা স্বাগত জানান। একইসঙ্গে খলিফা হাফতারের আক্রমণ থেকে লিবিয়ানদের রক্ষা করার দায়িত্ব রয়েছে তাদের। সম্প্রতি রাজধানী ত্রিপোলি, কৌশলগত উপকূল সিরতে এলাকায় যুদ্ধ তুমুল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় সেখানে যুদ্ধবিরতি মেনে চলা খুব কঠিন হতে পারে। এর কারণ, লিবিয়ার সেনা জোটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভক্তি, দুর্বল প্রকৃতি। হাফতারের অনুগত সেনারা এ সপ্তাহে সিরতে দখলে নিয়েছে। তারা বিমান হামলা চালিয়ে এই দখল প্রতিষ্ঠা করে। আর জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেছেন, লিবিয়ার শান্তি আলোচনা হবে বার্লিনে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..