নাগরিকত্ব আইন বাতিলে কোর্টে কেরালার বাম সরকার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) প্রত্যাহারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে কেরালার সিপিএম সরকার। তার আগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) প্রত্যাহারের দাবিতে কেরালা বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করেছিল তারা। কেরালার বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছেন, সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় বাকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও একই রকম পদক্ষেপ করতে অনুরোধ করছি। এর আগে এ বিষয়ে অন্য মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠিও লিখেছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় কেরালা সরকারের মূল বক্তব্য, সিএএ সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বিরোধী, অযৌক্তিক এবং অসঙ্গত। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংবিধানের ২৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্য সরকার কেন্দ্রের এই আইন মানতে বাধ্য। তাই সিএএকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে খারিজ করা হোক। এই প্রথম কোনো রাজ্য সরকার এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছে। সিএএ’র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ৫৯টি মামলা জমা পড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টেও একাধিক মামলা হয়েছে। যেগুলো বিভিন্ন সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা করা হয়েছিল। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিবাদ হলে সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্ট তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। কেরালা সরকারের মতে, সিএএ সংবিধানের চতুর্দশ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সমানাধিকার, ২১তম অনুচ্ছেদে প্রদত্ত জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার এবং ২৫তম অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ধর্মাচরণের অধিকারের পরিপন্থি। এই আইন সংবিধানের মূল ভাবনা ধর্মনিরপেক্ষতারও বিরোধী। তবে বিজেপি মুখপাত্র জি ভি এল নরসিংহ রাও বলেছেন, কেরালা সরকার বুঝতে পেরেছে বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করা ভুল হয়েছে। তাতে কোনো লাভ হবে না। তাই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে তারা অবশেষে পরিণতিবোধ দেখিয়েছে। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট ১৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। ২২ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সময় আটক নেতাদের মধ্যে পাঁচজনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ১৬০ দিন কারাবন্দি থাকার পর ১৬ জানুয়ারি শ্রীনগর থেকে ন্যাশনাল কনফারেন্সের আলতাফ কালু, শওকত গনাই ও সালমান সাগর এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নিজামুদ্দিন ভাট ও মুখতার বাধকে মুক্তি দেয়া হয়। তবে এখনও কাশ্মিরের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ, তার ছেলে ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়ে রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ভাগ করে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সেখানে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে প্রশাসন। বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা রদের সময় থেকে ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে আটক করা হয়েছিল সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্য নেতাদের। ধীরে ধীরে সরকারি সেসব বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক পাঁচ বিধায়ককে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এখনও বন্দি রয়েছেন ৩০ জনেরও বেশী সাবেক মন্ত্রী ও বিধায়ক। সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ, তার ছেলে ওমর আব্দুল্লাহ আর মেহবুবা মুফতিকে কবে নাগাদ মুক্তি দেয়া হবে তা স্পষ্ট করেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে হরি নিবাস থেকে ওমর আব্দুল্লাহকে শ্রীনগরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..