‘চম্পট’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সেই কবে থেকেই আমাদের দেশের সরকারের কিছু ব্যক্তি চিৎকার করে বলে যাচ্ছেন, আমাদের টাকার কোনো অভাব নেই। আর কিছুদিনের মধ্যেই আমরা ওয়াশিংটন, লন্ডন, প্যারিসের মতো হয়ে যাবো। সরকারের আরো কিছু দায়িত্ববান ব্যক্তি আরো দাপটের সঙ্গে বলছেন, চার হাজার, সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোপাট হয়ে গেছে, এটা কোনো টাকাই না। সুতরাং ব্যাংকের টাকা লুট নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। যারা এটা করে, তাঁরা সব রাবিশ! কিছুদিন আগেই সরকারের এক করিৎকর্মা বলেছেন, ঢাকা শহরকে দেখলে এখন অনেকটাই লন্ডনের মতো মনে হয়। তবে বিমান থেকে রাতের বেলা নামার সময়। এই আনন্দে একজন প্রশান্ত কুমার হালদার, বাংলাদেশ থেকে মানুষের রাখা আমানত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা নিয়ে রাতের বেলা বিমানে করে পালিয়ে গেছেন। কারণ, তার কাছে মনে হয়েছে, ঢাকাস্থ লন্ডন-ওয়াশিংটনে থাকার চেয়ে বিদেশে চলে যাওয়াই নিরাপদ। তিনি কী করে যেন জেনে গেছেন, ঢাকা নাকি টাকা লুটপাটের জন্য ভাল শহর হলেও বাসবাসের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ শহরগুলোর মধ্যে একটি। প্রশান্ত হালদার অবশ্য এই নিরাপদ যাত্রা একা সম্পন্ন করেননি, তার সঙ্গে, তার আগে এবং আশা করা যায়, তার পরেও অনেকেই যুক্ত হবেন। আর তাতে বাংলাদেশের তেমন কোনো ক্ষতিও হবে না। কারণ, আমাদের তো টাকার অভাব নেই। নিলেই আর কত নিবে! গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পি কে হালদার ও তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসেবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, পি কে হালদারের হিসাবে ২৪০ কোটি টাকা এবং তাঁর মা লীলাবতী হালদারের হিসাবে জমা হয় ১৬০ কোটি টাকা। তবে এসব হিসাবে এখন জমা আছে মাত্র ১০ কোটি টাকার কম। অন্যদিকে পি কে হালদার এক ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বের করে নিয়েছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..