চীনে নিউমোনিয়া সদৃশ ভাইরাস, ডব্লিউএইচও’র সতর্কতা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : চীনে নিউমোনিয়া সদৃশ প্রাণঘাতী এক ভাইরাসের বিস্তার বাড়ার পর করোনাভাইরাস পরিবারের এ ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়ে এ ব্যাপারে প্রস্তুত থাকতে বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বছর ডিসেম্বরের শুরুতে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। চীনে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক মানুষ নতুন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে ডিসেম্বরে একজন আর গত সপ্তাহে আরো একজনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জাপানে ও থাইল্যান্ডেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির খবর মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন ভাইরাসটি করোনাভাইরাস (সিওভি) পরিবারের বলে নিশ্চিত করেছে। গত ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক নির্দেশনা ও বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, সম্প্রতি থাইল্যান্ডের এক ব্যক্তির দেহে অজানা এ করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর তারা (ডব্লিউএইচও) থাইল্যান্ড ও চীনের সঙ্গে কাজ শুরু করছে। ভাইরাসটি অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে যেতে পারে বলে সংস্থাটি সচেতন থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাওয়া এবং রোগ সংকমণ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ১৬ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশ্চিমাঞ্চলের প্যাসিফিক আঞ্চলিক কর্মকর্তা তাকেশি কাসাই বলেন, এক মানুষ থেকে আর এক মানুষের কাছে কিভাবে এ ভাইরাস ছড়িয়ে যাচ্ছে তা এখনো জানা যায়নি। নতুন এ ভাইরাসটি কী? করোনাভাইরাস (সিওভি) ভাইরাস হল একটি বৃহৎ পরিবার যে ভাইরাস সংক্রমণে ঠাণ্ডা, কাশি বা জ্বরের ভাইরাস যেমন রয়েছে ঠিক তেমনি মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সি (এমআরএস-সিওভি) এবং তীব্র শ্বসনতন্ত্র সিন্ড্রোম (এসএআরএস-সিওভি) এর মতো আরও মারাত্মক রোগের ভাইরাসও এই পরিবারের অন্তর্গত। সাধারণত, অচেনা নতুন কোন ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য এ গ্রুপের সঙ্গে মিলে গেলে প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসে নামকরণ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এ ভাইরাসগুলো জুনোটিক, যা মূলত প্রাণীদেহ থেকে মানবদেহে সঞ্চারিত হয়। আর এ ভাইরাসের সংক্রমণে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট হতে পারে যা থেকে নিউমোনিয়ার মত গুরুতর রোগে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ভাইরাসটি নিয়ে ইতোমধ্যে গবেষণা শুরু করেছেন বিশ্বের বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী। সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট লিন্ফা ওয়াং বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, এটি সাধারণত জুনোটিক ভাইরাস, যা প্রাণীর দেহ থেকে মানবদেহে সহজে চলে আসে। সচরাচর শীতের মাসগুলোতে এ ভাইরাস সংক্রমণশীল হয়ে ওঠে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..