‘কালা কানুনে’ গ্রেপ্তার বয়াতির মুক্তি দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : ভুয়া অভিযোগে গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং কারাভ্যন্তরে নির্যাতিত শরিয়ত বয়াতির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ১৫ জানুয়ারি বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদী বাউল গানের আসর-এ এ দাবি জানানো হয়। শরিয়ত বয়াতীকে গ্রেফতার, হয়রানির প্রতিবাদ, তার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাকে হয়রানির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ আসর আয়োজন করা হয়। আসরের শুরুতে বাউল গান পরিবেশন করেন বাউল শাহ আলম সরকার। এরপর একে একে গান পরিবেশন করেন অবিনাশ বাউল, সাজেদা বেগম সাজু, সুরাইয়া আক্তার ঊর্মি, হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, দেবাশীষ প্রমুখ। তারা সবাই আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ, ধর্মান্ধতাবিরোধী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে নানা গান পরিবেশন করেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে আলোচনা করেন উদীচী এবং অন্যান্য সমমনা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, যে আসর থেকে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানে তিনি ধর্ম অবমাননা করার মতো কোন বক্তব্য রাখেননি। বরং, তিনি যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে, যারা তরুণ প্রজন্মকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দিকে উদ্বুদ্ধ করছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন। তাদের মুখোশ উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন শরিয়ত বয়াতী। আর এজন্যই ওই গোষ্ঠীটি তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কালা কানুনকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আর প্রশাসন ও পুলিশও কোন ধরনের যুক্তিতর্কের পথে না গিয়ে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপক্ষের একজন লোকশিল্পীকে এমন হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানান উদীচী এবং অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে শরিয়ত বয়াতিকে সসম্মানে মুক্তি দেয়া না হলে আগামী ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার সারাদেশে সব জেলায় উদীচী’র উদ্যোগে প্রতিবাদী বাউল গানের আসর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। বক্তারা আরো বলেন, শত শত বছর ধরে এই ভূখণ্ডে বাউল ও সুফীবাদী শিল্পীরা সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষদের সম্প্রীতির গান শুনিয়েছেন। সমাজে সকল বৈষম্য ও ভেদবুদ্ধির বিরুদ্ধে বলেছেন। তাদেরকে কোণঠাসা করে সমাজে সাম্প্রদায়িক হানাহানি সৃষ্টি করার জন্য চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপচেষ্টায় সরকার সহযোগিতা করছে। সরকার বাউল শিল্পীদের রক্ষা ও পৃষ্ঠপোষকতা না করে বরং তাদের উপর নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। এর মাধ্যমে জঙ্গিবাদ বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং অসাম্প্রদায়িক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা অবিলম্বে শিল্পী শরিয়ত বয়াতির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিলের দাবি জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..