রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত প্রতিবেদন দিচ্ছে মিয়ানমার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিপীড়নের ঘটনায় চলতি মাসেই মিয়ানমার সরকারের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হতে যাচ্ছে। যদিও প্রতিবেদনে দেশটির সেনাবাহিনীকে আদৌ অভিযুক্ত করা হবে কিনা সে বিষয়ে অধিকারকর্মী ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এই অভিযানে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। প্রাণে বাঁচতে ওই সময় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগ তোলে। জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নির্মূলের প্রচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করা হয়। মিয়ানমার এই গণহত্যা বা জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত বছর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানিতে মিয়ানমার নেত্রী অং সান সুচিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো নির্যাতন চালালে তদন্ত সাপেক্ষে দেশীয় আদালতে জড়িতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংস্থা বলছে, রোহিঙ্গা নির্যাতনে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রথম থেকেই সংশয় রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র জ হতে বলেছিলেন, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী যে মিথ্যা অভিযোগ করেছে তার জবাব দিতেই কমিশন গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে কমিশনের প্রধান ফিলিপাইনের কূটনীতিক রোজারিও মানালো বলেছেন, ‘কমিশন কাউকে দোষারোপ করবে না’। অনেক পর্যবেক্ষক বলেছেন, এ স্বাধীন তদন্ত কমিশন কিছু নির্যাতনের দোষ স্বীকারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করতে পারে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..