‘মণি সিংহের সমাজতন্ত্রের সংগ্রামকে অগ্রসর করতে হবে’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

কমরেড মণি সিংহের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
একতা প্রতিবেদক : ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামী, টংক আন্দোলনের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা, সিপিবি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড মণি সিংহ-এর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, কমরেড মণি সিংহ যে সমাজতন্ত্রের ঝাণ্ডা উর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন তার প্রাসঙ্গিকতা বর্তমানে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদেরকে কমরেড মণি সিংহের সংগ্রামকে অগ্রসর করে নিতে হবে। গত ১১ জানুয়ারি বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত স্মরণসভায় সেলিম আরও বলেন, কমরেড মণি সিংহসহ বিপ্লবীদের লড়াই ইতিহাস কখনো অস্বীকার করতে পারে না। তিনি বলেন, ছয় দফা অসম্পূর্ণ দাবি এগার দফা যুক্ত হয়ে তা পূর্ণাঙ্গতা পায়। এর ফলে গণজাগরণ সৃষ্টি হয় এবং মণি সিংহ, শেখ মুজিবকে পাকিস্তান সরকার মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পাশাপাশি রুটি-রুজির আওয়াজের কারণে মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৮৫% কৃষক-শ্রমিক মেহনতী মানুষ অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দান খয়রাতের জন্য সেদিন মুক্তিযুদ্ধ করেনি। তারা তাদের বাঁচার অধিকার চেয়েছিল। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এ.এন রাশেদা, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ, কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এসএমএ সবুর, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম সম্পাদক ডা. অসিতবরণ রায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন শ্রমিকনেতা আসলাম খান। সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনীতিতে আদর্শহীনতা, দুর্বৃত্তায়ন, কালো টাকা, সন্ত্রাস, লুটেরাদের যে ধারা চলছে তা থেকে উত্তরণের জন্য কমরেড মণি সিংহ-এর বিপ্লবী জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কমরেড মণি সিংহ-এর ব্যক্তিগত গুণাবলী ও বিপ্লবী বৈশিষ্ট্য তরুণ প্রজন্মের জন্য এক চিরায়ত মূলবান শিক্ষা। ১৯৪৭ সালের আগে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম করতে গিয়ে কমরেড মণি সিংহ অসংখ্যবার জীবনের ঝুকি নিয়ে জেল-জুলুম নির্যাতন ভোগ করেছেন। কলকাতার শ্রমিক আন্দোলন ও ঐতিহাসিক টংক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। বক্তারা আরও বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। মহান মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ বাস্তবায়িত হয়নি। ধনী-গরিবের বৈষম্য প্রকট। রাজনীতি রাজনীতিবিদের হাতে নেই উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কালো টাকা, সন্ত্রাস, দুর্বৃত্তায়নের হাতে রাজনীতি বন্দি। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে কমরেড মণি সিংহের আদর্শের পথে এগুতে হবে। কথা ও কাজের সমন্বয়, সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব, কঠোর সময়নুবর্তিতা-নিয়মানুবর্তিতা ও মহৎ গুণাবলির সমাহার মণি সিংহের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। বক্তারা বলেন, কমরেড মণি সিংহ অসামান্য মেধার পরিচয় দিয়ে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন ও সর্বহারা শ্রেণির মুক্তির আকঙ্ক্ষাকে একসূত্রে গাঁথার চেষ্টা করেছেন। অনুষ্ঠানে কমরেড মণি সিংহকে নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও ডিএসকে সাংস্কৃতিক টিম কবিতা, গান পরিবেশন করে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..